• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
ঈদের পর কী করবে বিএনপি

ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতি

ঈদের পর কী করবে বিএনপি

  • আফজাল বারী
  • প্রকাশিত ২৮ মে ২০১৯

ট্রাক দিয়ে তৈরি মঞ্চে চড়া গলায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ওয়াদা ছিল শিগগিরই চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেন, ইস্পাতকঠিন দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন। আকাশচুম্বি হুঙ্কার ছিল, একবার যদি তারা রাস্তায় নামেন তাহলে সরকারের গদি টিকবে না। ফাঁকফোকর রেখে এমনটিও বলছেন, সময় হলেই মাঠে নামবেন দলটির নেতারা। মাঝেমধ্যে মোবাইলে মিস্ডকলের মতো আড়ালে-আবডালে ঝটিকা মিছিল করে জনাকয়েক নেতাকর্মী। তা নিয়ে হাস্যঠাট্টাও করে সাধারণ মানুষ। এ চিত্র রাজপথের বিরোধী দল বিএনপির।

এর আগের চিত্র ছিল-শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার পর আন্দোলন, শীতের পর, বর্ষার পর আন্দোলন, রোজার পর বা ঈদুল আজহার পর আন্দোলন; কিন্তু বাস্তবতা দেখেনি দলটির নেতাকর্মীসহ দেশবাসী।

রমজান চলছে ঈদের পর দলটির রাজনৈতিক কর্মসূচি কী হবে, কী করবে দলীয় নেতাকর্মীরা আপাতত তার কোনো পরিকল্পনা নেই কেন্দ্রীয় নেতাদের। উল্টো নেতায়-নেতায় সন্দেহ, অবিশ্বাস আর দূরত্ব বাড়ছে। তাই তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীরাও অন্ধকারে। এমন পরিস্থিতিতে কথা-কাজে গরমিলের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি বাতিলের দাবি তুলেছেন জেলা পর্যায়ের নেতারা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নিজ জেলা থেকেই এ দাবি উঠেছে। বগুড়ার নেতাদের দাবি-দেড় বছর ধরে খালেদা জিয়া কারাবন্দি, তাকে মুক্ত করতে কেন্দ্রীয় নেতারা চোখে পড়ার মতো কোনো কর্মসূচি বা পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ও বিএনপির মতো দলের চেয়ারপারসন বন্দিদশায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন, দেশের রাজনীতির চিত্র দেখলে মনে হয় না। একসময় দলের লাখ লাখ নেতা কারাগারে ছিলেন আর খালেদা জিয়া মুক্ত ছিলেন। তিনি নেতাদের মুক্তির জন্য রাজপথে নেমেছেন। কিন্তু এখন লাখো নেতা মুক্ত, বন্দি শুধু খালেদা জিয়া। তাকে মুক্ত করার চিন্তা আছে বলে মনে হচ্ছে না বগুড়ার নেতাদের কাছে। তাই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কমিটি বিলুপ্তির দাবি করেছেন স্থানীয় নেতারা।   

বিএনপির চেয়ারপারসন ৭৪ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া ১৭ বছরের সাজা নিয়ে দীর্ঘ ১৬ মাস ধরে কারাগারে আছেন। আগে থেকেই অসুস্থ হলেও কারাবাসের পর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। বিএনপির মহাসচিব জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া ডান-বাম দুই হাত, দুই পা বাঁকা-সোজা করতে পারছেন না। মাংসপেশি শুকিয়ে যাচ্ছে। তরল খাবার ছাড়া অন্য খাবার গ্রহণ করতে পারছেন না। ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে থাকছে না। চোখেও কম দেখেন। দলীয় প্রধানের অবস্থা উদ্বেগজনক বলে দাবি করছেন দলটির নেতারা। তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যায়য়ে গত এপ্রিল থেকে ভর্তি করা হয়েছে। যদিও খালেদা জিয়া এই হাসপাতালের চিকিৎসায় তৃপ্ত নন। পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য একাধিকবার দাবি করেছেন। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনো সাড়া নেই। 

খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর কয়েক মাস জোরালো আন্দোলনে ছিল বিএনপি। এই ইস্যুতে দলটি আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি মানববন্ধন, কালো পতাকা প্রদর্শন, স্মারকলিপি প্রদান, অনশন, অবস্থান, গণস্বাক্ষর ও বিক্ষোভ কর্মসূচির মতো শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু বছর খানেক ধরে চুপসে গেছে আন্দোলন।

এদিকে দীর্ঘ এক বছর ধরেই দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা বলে আসছেন, ঈদের পর বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে সংঘবদ্ধ হবে দলটি। বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, বেগম জিয়ার মুক্তি ছাড়া চলমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। ওই নেতা রাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি দলের ভেতরের সংকটকেও বুঝিয়েছেন। দলীয় চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে তাদের যেটা করা দরকার ছিল, সেটা তারা করতে পারেননি। অচিরেই দল পুনর্গঠন করে জনসম্পৃক্ত শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার কথা বলছেন তারা।

হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বিএনপির এমপিদের সংসদে যোগ দেওয়ার নেপথ্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি জড়িত রয়েছে দাবি করলেও শেষ বেলায় তা দিবাস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলছেন, সরকারের সঙ্গে বাকিতে আলাপের কারণেই ফাঁকির ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। বিএনপি সংসদে গেলেও খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো লক্ষণ দেখতে না পাওয়ায় দলটির নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, দলীয় প্রধানের মুক্তির আন্দোলন এখন সারা দেশের নেতাকর্মীদের দাবি। বিষয়টি নিয়ে তারা আন্দোলনের মধ্যেই আছেন। সংগঠন গুছিয়ে এই আন্দোলনকে আরো জোরদার করা হবে।

দলীয় সূত্রের খবর, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এবার বিএনপির ইফতারকেন্দ্রিক সাংগঠনিক তৎপরতা তেমন একটা নেই। জমেনি ইফতার রাজনীতিও। দলটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দুটি ইফতার মাহফিল দেওয়া হয়েছে। 

বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে পরিচিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপিকে রাস্তায় নামতে হবে। ঘরে বসে শুধু সভা-সেমিনারে কাজ হবে না। তিনি বলেন, বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে নামছেন। স্বল্প পরিসরে হলেও ঘর থেকে তারা রাজপথে নেমেছেন-এটাকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই। তবে তাদের বৃহৎ পরিসরে রাজপথে নামতে হবে। বিএনপির প্রতিটি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরের এক শটি ওয়ার্ড থেকেও মিছিল বের হতে হবে। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দকেও রাস্তায় নামতে হবে। তাহলে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জোরালো হবে। তখন সরকারও বিষয়টি বিবেচনায় নিতে বাধ্য হবে। এই কাজটি বিএনপিকে করতে হবে। তাহলে বোঝা যাবে, দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তির ব্যাপারে তারা আন্তরিক।

ডা. জাফরুল্লাহ আরো বলেন, বিএনপির উচিত খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনায় বসা। তার জামিনে যাতে বাধা দেওয়া না হয়, তাকে যেন আর হয়রানি করা না হয়, এটা নিয়ে একটা আলোচনা হওয়া দরকার। সেটা করা সম্ভব হলে লাভটা বিএনপিরই বেশি হবে। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads