• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
ads
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির জটিলতা কাটবে কখন?

ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতি

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির জটিলতা কাটবে কখন?

  • হাসান শান্তনু
  • প্রকাশিত ৩১ মে ২০১৯

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দেওয়া নিয়ে জটিলতা কাটছে না। বিতর্কিত নেতাদের বাদ দেওয়ার ঘোষণার পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে কি না, এ বিষয়ে সন্দিহান সংগঠনটিতে পদপ্রত্যাশী ও পদবঞ্চিতরা। কেন্দ্রীয় কমিটিতে সংগঠনের আদর্শবিরোধীরা পদ পাওয়া আর তাদের সেসব পদ থেকে বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ত্যাগীদের পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কখন পূরণ হবে, তা জানা নেই কারো। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পরও কমিটিসংক্রান্ত জটিলতা না কাটায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিস্মিত।

ছাত্রলীগের কয়েক নেতার অভিযোগ, বিতর্কিতদের কমিটির পদ থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের নির্ধারিত সময় পার হলেও এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেই। কমিটিতে অছাত্র, রাজাকার পরিবার, বিএনপি পরিবারের সদস্য, জামায়াতের ছাত্রসংগঠন শিবির, বিবাহিত, চাকরিজীবী, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত, হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন মামলার আসামি, সংগঠনের গঠনতন্ত্র নির্ধারিত বয়স-উত্তীর্ণ, মাদক ব্যবসায় অভিযুক্ত, অপকর্মের দায়ে সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কৃত ও সাজাপ্রাপ্তরা মিলিয়ে অন্তত ৯৯ জনকে শীর্ষ পদে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বিতর্কিতদের বাদ দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের ১৩ দিনের মাথায় গত বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মাত্র ১৯ জনের পদ শূন্য ঘোষণা করার কথা জানায় ছাত্রলীগ। তবে কোন কোন পদ শূন্য, কাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের নাম ও পদ ঘোষণা করা হয়নি। তাদের নামের তালিকা নিয়েও চলছে লুকোচুরি। ফলে এ ঘোষণায় সন্তুষ্ট নন সংগঠনটির পদবঞ্চিত ও পদকাঙ্ক্ষিতরা।

তারা মনে করেন, যে ১৯ জনের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের নাম ও পদ ঘোষণা না করাটা আরেক প্রহসন। তবে ছাত্রলীগের একাধিক নেতা বাংলাদেশের খবরকে জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরলেই আলোচনা করে বিতর্কিত ১৯ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে। অন্যদিকে এ সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সংগঠনের পদবঞ্চিতরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় সম্মেলনের এক বছর পর গত ১৩ মে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ। ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে ছাত্রলীগেরই একাংশের হামলায় আহত হন নতুন কমিটিতে পদবঞ্চিত ১০ থেকে ১২ জন। পদবঞ্চিতদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারীরাই পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এ হামলার ঘটনায় গঠিত ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটিকে প্রহসনমূলক ও একপাক্ষিক বলে অভিযোগ করেন পদবঞ্চিতরা।

পদবঞ্চিত ও পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের সংবাদ সম্মেলনে ঘটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও পদপ্রাপ্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পদপ্রাপ্ত সবার বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খোঁজ নিতে গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেন বলে জানায় গণভবনের একটি সূত্র। সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় চার নেতাকেও একই নির্দেশ দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাওয়া বিতর্কিত নেতাদের বহিষ্কারের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সে সময় বিতর্কিতদের চিহ্নিত করে পদগুলো শূন্য ঘোষণা করার কথাও বলেন তারা। অথচ ২৪ ঘণ্টা সময় পার হলেও বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে কার্যত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি সংগঠনটির দুই শীর্ষ নেতা। ছাত্রলীগের ওই নেতৃত্বের দাবি, ‘নিরপরাধ’ কারো সঙ্গে যেন ‘অবিচার’ না হয়, সেজন্য বিতর্কিতদের বহিষ্কারে সময় নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, কমিটির ‘বিতর্কিত’ নেতাদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে ছাত্রলীগ। তাদের কমিটি থেকে বাদ দিয়ে পুনর্গঠন করতে গেলে ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়বে। আবার বিতর্কিতদের বাদ না দিয়ে পদবঞ্চিতদের পদ দিলেও আওয়ামী লীগপ্রধানের নির্দেশ উপেক্ষা করা হবে। এ নিয়ে দোটানায় আছে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। তারপরও উভয়কূল রক্ষা করে কীভাবে সামনের দিকে এগোনো যায়, তা নিয়ে শীর্ষ পর্যায়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র জানায়, বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিলে কার কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, সেটাও একটি বিষয়। কমিটির অনেকেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আস্থাভাজন হিসেবে আছেন। আবার বিতর্কিতদের মধ্যে যারা বাদ পড়বেন, তারাও পদবঞ্চিত ও পদপ্রত্যাশীদের মতো একত্র হয়ে রাজপথে নামতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বিতর্কিতদের বাদ দেবেন নাকি পদবঞ্চিতদের পদ দিয়ে ঠান্ডা রাখবেন, সেটা নিয়েও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে সংগঠনটির উচ্চপর্যায়ে।

ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার আড়াই মাস পর গত বছরের ৩১ জুলাই রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হয়। ওই দিন গণভবন থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের নাম ঘোষণা করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন করেন। গত বছরের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন হয়। রীতি অনুযায়ী ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার পর দ্রুততম সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা।

ছাত্রলীগের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সাত দিনের মধ্যে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে গত ১৫ এপ্রিল নির্দেশ দিলেও নির্ধারিত সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে সংগঠনটির বর্তমান নেতৃত্ব ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্বই এর মূলে বলে অনেকের ধারণা। নানা আলোচনা ও সমালোচনার পর সম্প্রতি পুরো কমিটি করতে দায়িত্ব দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের চার নেতাকে। ছাত্রলীগের সম্মেলনের এক বছরেও সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে কমিটি করতে না পারায় শেখ হাসিনা ওই চার নেতাকে দায়িত্ব দেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads