• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
ads
প্রান্তিক নেতাকর্মীদের ঈদ আনন্দ নেই

ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতি

প্রান্তিক নেতাকর্মীদের ঈদ আনন্দ নেই

গা ঢাকা দিয়েছেন সাবেক এমপি প্রার্থীরা

  • আফজাল বারী
  • প্রকাশিত ০২ জুন ২০১৯

দেশজুড়ে আগাম আনন্দ বিরাজ করছে। দুদিন পরই খুশির ঈদ। নতুন জামা, বাহারি খাবার আর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দে মেতে উঠবে দেশবাসী। তবে ঈদ আনন্দের ছিটেফোঁটাও নেই বিএনপির প্রান্তিক নেতাকর্মীদের মধ্যে। ঈদ তাদের জন্য মনঃকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েকটি ঈদে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা খোঁজ রাখলেও এবার চিত্র ভিন্ন। নির্বাচনী এলাকার অনেক নেতাই কর্মীদের দেখভালের দায় এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছেন। এমন অভিযোগ প্রান্তিক নেতাকর্মীদের।

প্রান্তিক নেতাকর্মীদের খবর যারা রাখার কথা তারা এখন নিজেদের আড়াল করে চলছেন। অনেক এলাকা থেকে গত নির্বাচনে এমপি প্রার্থীরা গা ঢাকা দিয়েছেন। দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা বিদেশ ভ্রমণ কিংবা ওমরাহ পালনে দেশের বাইরে আছেন। আবার জেলা বা মহানগরীর নেতারা সময় কাটাচ্ছেন রাজধানীতে। এ পরিস্থিতিতে দলটির প্রান্তিক ও মধ্যম সারির নেতাদের ঈদ আনন্দ ম্লান হতে চলছে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কত মামলা, তার সঠিক পরিসংখ্যান দলীয় দপ্তরে নেই। যা আছে তা আনুমানিক সংখ্যা। দলটির হিসাব অনুযায়ী সারা দেশে প্রায় লাখখানেক মামলা রয়েছে আট লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। প্রত্যেক নেতার বিরুদ্ধে ডজন থেকে দুই শতাধিক মামলা আছে। এসব মামলায় আইনি লড়াই করতে হচ্ছে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে। অনেকেই অর্থের অভাবে মামলায় জামিন নিতেই পারেননি। ফেরারি হিসেবে জীবন-যাপন করছেন। ফলে তাদের ঘরে ফেরা সম্ভব নয়। এছাড়া দলটির ১২শ’ নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও নির্বাহী সদস্য মিলিয়ে হাজারের বেশি নেতা পদ ধারণ করে আছেন। সারা দেশে ৩০০ নির্বাচনী আসনে প্রায় তিনগুণ নেতা নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। দলের তরফ থেকে তাদের প্রতি নির্দেশ ছিল নির্বাচনের আসনভিত্তিক কেন্দ্রীয় নেতা ও জাতীয় নির্বাচনে এমপি প্রার্থীরা দরিদ্র নেতাদের মামলা পরিচালনা করবেন, গুম-খুনের শিকার পরিবারের প্রতি আর্থিক সহায়তা দেবেন। কিন্তু কে রাখে কার খবর? গত নির্বাচনের আগ পর্যন্ত কিছু নেতা তাদের অধীন হাতেগোনা কিছু অসহায় পরিবারের খোঁজ নিয়েছিলেন। অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের দেখাই দিচ্ছেন না। বিগত ঈদগুলোতে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা জাকাতের কাপড়, বিশেষ অনুদান দিয়েছেন। কিন্তু এবার কয়েকজন নেতা ছাড়া অন্যরা খবরই রাখছেন না।

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশে সাড়ে ৮০০ নেতাকর্মীর মধ্যে সেমাই-চিনি বিতরণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে এ ত্রাণ বিতরণ করা হয়। 

বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক নিজাম উদ্দিন মুন্না গুমের শিকার। পুত্রশোকে গত বছর তার বাবা মারা গেছেন। বেঁচে আছেন মা হাসিনা বেগম। মুন্না গুমের পর প্রতিবছর ৩০ আগস্ট বিশ্ব গুম দিবসে তাদের ডেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠান করে বিএনপি। তারপর আর খবর রাখে না।

হাসিনা বেগম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, তার চোখ প্রায় অন্ধ হতে চলেছে। চিকিৎসার টাকা নেই। ঈদ তো দূরের কথা, আনন্দের দিন তাদের ঘরে চুলা জ্বলবে কি না, সন্দেহ আছে।

গুমের শিকার তেজগাঁঁও শাহিনবাগের স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কাউসার। তিনি গাড়িচালক ছিলেন। তার মেয়ে মীম জানিয়েছেন, খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটছে তাদের পরিবারের সদস্যদের। কোনো নেতাই তাদের খবর নিচ্ছেন না। একই ধরনের ক্ষোভের কথা জানালেন গুমের শিকার বংশাল ছাত্রদল নেতা পারভেজের মেয়ে রিভি। এই আসনে নির্বাচন করতেন সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। তিনি বিদেশে। তার লোকজন গুমের শিকার পরিবারের খবর নিতেন। এবারের নির্বাচনে এই আসনে প্রার্থী ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের (গণফোরাম) অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। নির্বাচনের আগে-পরে কখনোই তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের দেখাশোনা করেননি, এখনো করছেন না। বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কেউ তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।

রাজধানী ঢাকার বাইরে শুধু গুমের শিকার আছে সাড়ে ৫০০ পরিবার। তাদের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি আজ গুম। পরিবার চলছে অর্ধাহারে-অনাহারে। অন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোরও একই চিত্র।

গত কয়েক দিনে বাংলাদেশের খবরের তরফ থেকে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, জেলার নেতা বা প্রার্থীদের অনেকেই অবস্থান করছেন ঢাকায়। কারণ দেখাচ্ছেন ব্যবসায়িক কাজ। উপজেলা, ওয়ার্ডের প্রান্তিক নেতাকর্মীরা তাদের রাজনৈতিক অভিভাবকের হদিস পাচ্ছেন না। একইভাবে মহানগরীর নেতারা কেউ চিকিৎসা, কেউ-বা ওমরাহ পালনের নামে বিদেশে অবস্থান করছেন। তাদের অধীন কর্মীরা জানেন না নেতা বা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দলীয় প্রার্থী কবে দেশে ফিরবেন। শীর্ষ নেতার সহযোগীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিবার সহযোগিতা করা হলেও এবার তা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে মধ্যম সারি ও প্রান্তিক নেতাদের ঘরে এবার আর ঈদের আনন্দ দেখা দেবে না। উল্টো হতাশার ছাপ পড়েছে।

বগুড়া বিএনপি নেতা মাহবুব আলম হারেছ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের তরফ থেকে জামা-কাপড়, চিনি-সেমাইয়ের একটি বাক্স কিছু লোকের মধ্যে দেওয়া হয়েছে। আসলে বিএনপির নেতাকর্মীরা একটা কষ্টের সময় পার করছেন। বলতে গেলে, বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য এখন ঈদ বলে কিছু নেই।

সিলেট  জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আহাদ খান জামাল জানান, তার জানামতে এখন পর্যন্ত কোনো নেতা তাদের দলীয় নেতাকর্মীকে সহায়তা করা হয়নি। বড় নেতাদের অনেকেই ঢাকায় থাকেন। তাই কর্মীরা তাদের দেখা পাচ্ছেন না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads