• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
ads
‘সরকারের অবহেলায়’ ১৪ দলে ক্ষোভ বাড়ছে

ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতি

‘সরকারের অবহেলায়’ ১৪ দলে ক্ষোভ বাড়ছে

  • হাসান শান্তনু
  • প্রকাশিত ০৯ জুন ২০১৯

‘একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের লক্ষ্যে’ ১৪ দলীয় জোট গঠিত হলেও ‘সব ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি’ বলে অভিযোগ শরিক দলগুলোর। জোটের নেতৃত্বে থাকা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে শরিকরা বলছে, ‘সরকারের অবহেলায়’ জোটের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। বিশেষ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় যেমন জোটের শরিকরা উপেক্ষিত, তেমনই এ সরকারের পাঁচ মাসের নানা আচরণ ও কর্মকাণ্ডে দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

মন্ত্রিসভা ছাড়াও অনেক জায়গা আছে, যেখানে ১৪ দল রাষ্ট্রীয় ও সরকারিভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও ‘সরকারের অনীহার’ কারণে তা হচ্ছে না বলে জোটের অভিযোগ। জোটপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে আলোচনায় বসারও সুযোগ পাচ্ছেন না ১৪ দলের অনেক নেতা। এমন পরিস্থিতিতে কিছু কর্মসূচি পালন করে ১৪ দলকে ‘দৃশ্যমান’ রাখা যাচ্ছে না বলেও কোনো কোনো শরিক দলের অভিযোগ।

শরিক দলগুলো মনে করছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে অভাবনীয় বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ ‘একলা চলো নীতি’ অনুসরণ করছে। শরিক দলগুলোর প্রতি আগের মতো দলটির আর ‘আগ্রহ’ নেই। সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় আওয়ামী লীগের মধ্যে ‘এক ধরনের অহংকার’ কাজ করছে। ফলে জোটের শরিকদের আগের মতো গুরুত্ব দিচ্ছে না দলটি। গত সংসদ নির্বাচনের পর সরকারি দলের কোনো কর্মকাণ্ডে রাখা হচ্ছে না জোটসঙ্গীদের। মন্ত্রিসভায় ঠাঁই না পাওয়াসহ উপজেলা পরিষদের ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আলাদা অংশ নেওয়ার ঘোষণাকে ‘একলা চলার নীতি’ হিসেবে বিবেচনা করছে জোটের মিত্ররা। এমনকি জোট থাকলেও ভবিষ্যৎ নির্বাচনে জোটগত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার ‘আভাস’ও পাচ্ছে কোনো কোনো শরিক দল। তাই আলাদা চলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলগুলো।

জোটের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র বাংলাদেশের খবরকে জানায়, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে ১৪ দল জোটগতভাবে অংশ নিলেও আওয়ামী লীগের উদযাপিত ‘বিজয় সমাবেশে’ তাদের উল্লেখযোগ্য আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ ছিল না। জোট গঠিত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের বড় কোনো কর্মসূচি থাকলে এর আগে ১৪ দলের সঙ্গে বৈঠক করা হতো। গত নির্বাচনের ১৯ দিন পর ১৯ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের উদযাপিত সমাবেশে ১৪ দলকে অংশ নিতে সেভাবে আমন্ত্রণও জানানো হয়নি। সমাবেশের আগের দিন ১৪ দলের কয়েক নেতাকে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয় থেকে ফোন করা হলেও তা ছিল ‘শ্রোতা’ হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ।

গত সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদীয় আসন বণ্টন নিয়েও আওয়ামী লীগ দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করার অভিযোগ আছে। এবারের মন্ত্রিসভায় শরিক দল থেকে অন্যবারের মতো কাউকে না রাখা ও মন্ত্রিসভা শতভাগ আওয়ামী লীগের হওয়ার পর থেকে ১৪ দলের সঙ্গে ‘মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব’ বাড়ছে। এতে ‘ক্ষুব্ধ’ জোট শরিকরা। তবে ‘আদর্শগত কারণে ঐক্যবদ্ধ আছেন ও থাকতে চান’ তারা। জঙ্গিবাদ মোকাবেলা ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়তে রাজপথে সব সময়ই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সঙ্গে থাকবেন বলে জানান জোটের শীর্ষ নেতারা।

আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, সংসদ নির্বাচন শেষে মহাজোট ও ১৪ দলের শরিক দলগুলোকে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকতে আওয়ামী লীগ অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দেওয়ার পর কয়েকটি দল ‘নাখোশ’ হয়। উন্নত গণতান্ত্রিক বিভিন্ন রাষ্ট্রের সংসদে বিরোধী দলগুলো সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে যে ভূমিকা পালন করে থাকে, তেমন বিরোধী দলের ভূমিকায় শরিক দলগুলোকে দেখতে চায় আওয়ামী লীগ। এ কৌশলের কারণে শরিকদের অনেকটা দূরে রাখছে আওয়ামী লীগ। তা ছাড়া শরিকদের ক্ষোভের কারণ মন্ত্রিসভায় ঠাঁই না পাওয়া। আগামীতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হলে শরিক দলগুলো থেকে কেউ কেউ ঠাঁই পেতে পারেন। তখন আর কোনো ক্ষোভ থাকবে না।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনেক বেশি পেয়েছে গত সংসদ নির্বাচনে। তাই এক ধরনের অহমিকা দলটির মধ্যে কাজ করে। অহমিকা কাজ করে বলেই ১৪ দলকে বাইপাস করার প্রবণতা আছে।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার বলেন, ‘একসঙ্গে আন্দোলন, একসঙ্গে নির্বাচন, একসঙ্গে সরকার গঠন করেছি আমরা। এবারের সরকারের গঠনের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, সেই কাজটি হয়নি। আমরা মনে করি না যে, সরকারে মন্ত্রিত্বটাই বড়। এ ছাড়া অনেক জায়গা আছে, যেখানে ১৪ দল রাষ্ট্রীয় ও সরকারিভাবে অনেক ক্ষেত্রেই অংশ নিতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘১৪ দলের হিসাবে যদি বলি, তাহলে বলতে পারি, গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রীর দেখা ১৪ দল হিসেবে আমরা দু-একবারের বেশি এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারিনি। ১৪ দলকে কার্যকর করার জন্য জেলা ও উপজেলার পর্যন্ত বিস্তৃতি ঘটানোর কথা বলছি, সেই কথাটা কর্ণপাত হচ্ছে না।’

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘একটা আকাঙ্ক্ষার জায়গা আছে যে, ছোট দলগুলোকে মূল্যায়ন সরকার করবে কোনো না কোনোভাবে। সেটা যুক্তিসঙ্গত বলে আমি মনে করি। আর এটা হওয়া সময়ের দাবিও বটে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads