• সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
জয়শঙ্করকে তিস্তা চুক্তির তাগিদ ড. মোমেনের

ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতি

জয়শঙ্করকে তিস্তা চুক্তির তাগিদ ড. মোমেনের

  • বাসস
  • প্রকাশিত ১৬ জুন ২০১৯

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদন ও সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধের তাগিদ দিয়েছেন। গত শুক্রবার তাজিকিস্তানে এক সম্মেলনের ফাঁকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কনফারেন্স অন ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়ার (সিআইসিএ) পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে অবস্থানরত রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সফরসঙ্গী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন  ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের মধ্যে স্থানীয় হোটেল সেরিনায় এ বৈঠক হয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর জয়শঙ্করের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটিই প্রথম সাক্ষাৎ।

বৈঠকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান গভীর হূদ্যতাপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো সম্প্রসারিত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।  ড. মোমেন তিস্তা চুক্তি সম্পাদন ও সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারতের সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন। জয়শঙ্কর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সদ্ভাব ও সম্পর্ক উন্নয়নে নরেন্দ্র মোদির সরকার পরিণত সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করেছে।

ভারতের পূর্বমুখী অর্থনৈতিক কূটনীতির প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশের অনন্য সম্ভাবনা ও ভূ-কৌশলগত সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বিমসটেককে শক্তিশালী করলে তা উভয় দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে। ভারত আঞ্চলিক সংযোগের ওপর সমধিক গুরুত্ব আরোপ করে থাকে।

ড. মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা এবং পরিপক্ব ও প্রশংসনীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ-বিরাজিত অমীমাংসিত ও স্পর্শকাতর ইস্যুসমূহ সমাধান করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে যে অভূতপূর্ব উচ্চতায় উন্নীত করেছেন, তা এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ভারতের সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তিনি ভারতের নরেন্দ্র মোদি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য জয়শঙ্করকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশে প্রায় ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতীয় বিনিয়োগ আকর্ষণে তার সহযোগিতা কামনা করেন।

২০২০ সালে অনুষ্ঠেয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে তিনি ভারতকে আমন্ত্রণ জানান। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অতিসত্বর বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানান। ড. জয়শঙ্কর দ্রুতই একটি সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।

১৯৭১ সালে শরণার্থী হিসেবে তার অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে ড. মোমেন মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ড. মোমেন জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিপাক্ষিক সফরে সর্বপ্রথম তিনি ভারতে যান। ড. জয়শঙ্কর ১৯৭১-এর ঘটনাকে তার জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করে মুক্তিযুদ্ধের সুদূরপ্রসারী প্রভাবের কথা বলেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads