• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
 সদস্য সংগ্রহে গতি বাড়াতে কঠোর নির্দেশ আ.লীগের

আওয়ামী লীগের লোগো

সংগৃহীত ছবি

রাজনীতি

সদস্য সংগ্রহে গতি বাড়াতে কঠোর নির্দেশ আ.লীগের

  • হাসান শান্তনু
  • প্রকাশিত ০৩ জুলাই ২০১৯

দলের নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির গতি বাড়াতে এবার শুরু থেকেই সচেষ্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। গত দুবারের মতো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হলেও হঠাৎ কার্যক্রম যেন গতিহীন হয়ে না পড়ে, এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন দল এবার আগেভাগেই সতর্ক হয়ে তৃণমূলের প্রতি কঠোর নির্দেশ পাঠাচ্ছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূলের নেতাদের অবহেলা ও কর্তব্যে ফাঁকি কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের কাছে প্রমাণিত হলে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তের কথাও তৃণমূলকে জানিয়ে দেওয়া হবে। আগামী ২১ জুলাই থেকে সারা দেশে নতুন ভোটারদের আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম শুরু হওয়ার জন্য নির্ধারিত হলেও তৃণমূলকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কঠোর নির্দেশের কথা এর আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে। দলের  নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র বাংলাদেশের খবরকে এসব তথ্য জানায়।

দলীয় সূত্র জানায়, ‘তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ স্লোগানের আলোকে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শভিত্তিক আগামী প্রজন্ম গঠনে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহের সাংগঠনিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে দলের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, প্রচার, তথ্য গবেষণা ও দপ্তর সম্পাদকদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা বৈঠক করবেন। বৈঠকে দলের গঠনতন্ত্র, ঘোষণাপত্র ও প্রচারপত্রের কপি তৃণমূলের নেতাদের দেওয়া হবে। এসব বিষয় কীভাবে জনগণের কাছে প্রচার করতে হবে, এ বিষয়ে দলীয় কৌশলের নির্দেশনাও দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলার নেতাদের ঢাকায় ডেকে এনে কেন্দ্রীয় নেতারা নির্দেশনার কথা জানিয়ে দেন। এছাড়া তৃণমূলে চিঠিও পাঠানো হয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষে। চিঠিতে দলের নতুন সদস্য সংগ্রহ ও পুরনোদের নবায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতির তথ্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানাতে বলা হয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগেই দলের নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরুর বিষয়েও প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সারা দেশের সব জেলা ও উপজেলায় ১ জুলাই থেকে দলের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। দলের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে এবার পারিবারিক পরিচয়কে বড় করে না দেখে নতুন সদস্যদের রাজনৈতিক পরিচয়কেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।’ তবে গত ৩০ জুন রাতে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আগামী ২১ জুলাই থেকে সারা দেশে নতুন ভোটারদের আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম শুরু হবে। ২০১৭ সালের ২০ মে গণভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করার পর থেকে সারা দেশে দলের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সংগঠনের প্রতিটি শাখায় নতুন ভোটারদের আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সূত্রমতে, টানা দশ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকাকালে দুবার দলের নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলেও কোনোবারই শেষ করতে পারেনি তৃণমূল আওয়ামী লীগ। ফলে সদস্য সংগ্রহে কেন্দ্রের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা একবারও পূরণ হয়নি। মহা ধুমধামে উদ্বোধনের পরই নেতাকর্মীদের গা-ছাড়া ভাবের কারণে গতি হারিয়ে ফেলে কর্মসূচি। দ্রুত ও কেন্দ্রের নির্দেশমতো কার্যক্রম শেষ করতে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষরিত চিঠি ও শীর্ষ অন্য নেতাদের নির্দেশ তৃণমূলে পৌঁছালেও কোনো কাজে আসেনি। ২০১৭ সালে সাড়ম্বরে দলের সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও পরের বছর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের জোয়ারে তা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে যায়। ওই অভিযানের মধ্য দিয়ে নতুন ভোটারসহ দুই কোটি নতুন সদস্য করার টার্গেট ছিল আওয়ামী লীগের।

এর আগে ২০১০ সালে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও ওই বছরও তা বেশিদিন চলেনি। ২০১০ সালে অনেক জেলায় কার্যক্রম ঠিকভাবে চলেনি। কিছু জেলায় দায়িত্বশীল নেতা ছাড়া আর কেউ দলীয় সদস্যপদ নবায়নও করেননি। সোয়া দুই কোটি সদস্য করার লক্ষ্য নিয়ে ওই বছর কার্যক্রম শুরু করে দল। তারও আগে ২০০২ সালে আনুষ্ঠানিক সদস্য সংগ্রহ অভিযান চালায় আওয়ামী লীগ।

দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে, তিন বছর পরপর একেবারে তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যন্ত পুরনো সদস্যদের সদস্যপদ নবায়ন করার কথা। একই সঙ্গে ১৮ বছর বা এর বেশি বয়সীদের দলের নতুন সদস্য করার কথা বলা আছে। এ প্রক্রিয়া তেমন একটা মানা হয় না বলে অভিযোগ আছে। কেন্দ্র থেকে তাগিদ দেওয়া হলে জেলাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতারা চাঁদা সংগ্রহ করে কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেন। কাগজে-কলমে কাজ কমই হয়।

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads