• সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬
অফিসহীন ঐক্যফ্রন্ট

ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতি

অফিসহীন ঐক্যফ্রন্ট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২১ জুলাই ২০১৯

রাজধানীর পুরানা পল্টনের বীর-উত্তম গাজী দস্তগীর সড়কের প্রীতম জামান টাওয়ারের চতুর্থ তলা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এর পশ্চিম পাশের বড় আকৃতির তিনটি কক্ষকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দেশি-বিদেশি, সরকারি-বেসকারি গণমাধ্যম তখন এ ঠিকানায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এখানে বসেই দিনবদলের স্বপ্ন দেখেন ড. কামাল হোসেনসহ একাধিক ডাকসাইটে রাজনীতিবিদ।

এর একটি কক্ষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নীতিনির্ধারকরা বৈঠক করতেন। পাশের আরেকটি কক্ষ ব্যবহার করা হতো দেশি-বিদেশি মিডিয়ায় ব্রিফ করার জন্য। মিডিয়া রুমের পাশের কক্ষটি ছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের বিশ্রামের জন্য। প্রধান কার্যালয়ে এলে দামি সোফা, চেয়ার, টেবিল, শেলফ ও ঝাড়বাতি দিয়ে সাজানো এই কক্ষটিতে বসতেন ড. কামাল হোসেন।

গত বছর মধ্য অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত খুব জমজমাটই ছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই প্রধান কার্যালয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গত বছর ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের ৭২ ঘণ্টা আগে ২৭ ডিসেম্বর বিকালে এখানেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সংবাদ সম্মেলন থেকেই ড. কামাল হোসেন জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অন্তত ২০০ আসনে জিতবে। পরদিন ২৮ ডিসেম্বর বিকালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঢাকা মহানগর কমিটির সংবাদ সম্মেলন ছিল প্রধান কার্যালয়ে। কিন্তু ওই দিন দুপুরের পর প্রীতম-জামান টাওয়ারে আগুন লাগে। সেদিন রাস্তায় দাঁড়িয়েই সংবাদ সম্মেলন করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মহানগর কমিটির সমন্বয়ক জগলুল হায়দার আফ্রিক। অর্থাৎ ২৭ ডিসেম্বরই ছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান কার্যালয়ের শেষ দিন।

সম্প্রতি প্রীতম-জামান টাওয়ারের চতুর্থ তলায় গিয়ে দেখা হয় ডেভেলপার কোম্পানির কর্মী শাহ আলমের সঙ্গে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অফিস সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সে অফিস তো কবেই শেষ। নির্বাচনের পর এখানে আর কেউ আসেনি। ভবন মালিক ডেভেলপার কোম্পানির কাছে অফিস ভাড়া দিয়ে দিয়েছে।’

সরেজমিন দেখা যায়, ডেভেলপার কোম্পানি নিজেদের মতো করে অফিস সাজিয়ে নিয়েছে। সেখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো সাইনবোর্ড নেই। মিডিয়ায় ব্রিফ করার জন্য বিশাল আকৃতির যে কক্ষটি ব্যবহার করত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, সেটিও ভাড়া দিয়ে দিয়েছে ভবন কর্তৃপক্ষ। সেটি তালাবদ্ধ দেখা গেছে। আর যে কক্ষটি ড. কামাল হোসেনের জন্য সাজানো হয়েছিল, সেটিতে এখন ‘চ্যান্সেরি লিগ্যাল কাউন্সিল (সিএলসি)’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নামফলক লাগানো আছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ১০ জুন আ স ম আবদুর রবের বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সর্বশেষ বৈঠক। এরপর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আর কোনো সভা কোথাও অনুষ্ঠিত হয়নি। ৩০ ডিসেম্বরের পর থেকে ১০ জুনের আগ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বেশির ভাগ বৈঠক ড. কামাল হোসেনের বাসা, তার মতিঝিল চেম্বার অথবা আ স ম আবদুর রবের বাসায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোটের প্রধান কার্যালয়ে কেউ আসেননি।

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর থেকেই এর আয়ু ও স্থায়িত্ব নিয়ে নানা মহল থেকে সংশয় প্রকাশ করা হচ্ছিল। তবে সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোক্তরা বলার চেষ্টা করেন, এটি নির্বাচনী জোট নয়, এটি জনতার জোট। ভোটের পরও এই জোটের অস্তিত্ব এবং অখণ্ডতা বজায় থাকবে।

এদিকে গত ৮ জুলাই জোটভুক্ত হওয়ার আট মাসের মাথায় এসে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, ঐক্যফ্রন্টের এখন কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরে ঐক্যফ্রন্টকে খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায়নি। জাতীয় কোনো সমস্যাতে ঐক্যফ্রন্ট মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেনি।

অফিস ও ঐক্য বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দপ্তরপ্রধান জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু বলেন, ‘নির্বাচনের আগে গড়ে ওঠা সরকারবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের তেমন কোনো কর্মকাণ্ড এখন নেই। যেটুকু আছে, সেটা ড. কামাল হোসেনের চেম্বার অথবা শীর্ষ নেতাদের বাসায় সেরে ফেলা যায়। সে জন্য অত বড় অফিস আর প্রয়োজন নেই। আবার যখন প্রয়োজন হবে, তখন হয়তো বড় অফিস খুঁজে নেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।’

এদিকে ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য ও আন্দোলনের বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের মতো একটি ফ্রড নির্বাচনের পরও আমরা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে পারিনি। উল্টো সংসদে যোগদান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুতরাং এগুলো নিষ্পত্তি হতে হবে। তা না হলে ঐক্যফ্রন্টের সামনে এগোনো কঠিন।’ তিনি আরো বলেন, ‘যে ধরনের ভয়ংকর এক স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতায় আছে তাতে জোট ছেড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো হয়নি।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads