• শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
আ.লীগের দুই পরিকল্পনা

ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতি

এরশাদের আসনে উপনির্বাচন

আ.লীগের দুই পরিকল্পনা

  • হাসান শান্তনু
  • প্রকাশিত ২৫ জুলাই ২০১৯

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনের বিষয়ে আওয়ামী লীগ দুই রকম পরিকল্পনা করছে। প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি ও দলটির নেতৃত্বের জোট ওই নির্বাচনে অংশ নিলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মহাজোটের প্রার্থী দেওয়া হতে পারে। বিএনপি ও দলটির জোট কোনো কারণে নির্বাচনে অংশ না নিলে নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে আলাদা প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে ক্ষমতাসীন দল। আবার বিএনপির জোট অংশ নিলেও আসন্ন নির্বাচনের সময় বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আওয়ামী লীগ একক প্রার্থীও দিতে পারে। সরকারি দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র বাংলাদেশের খবরকে এসব তথ্য জানিয়েছে।

দলীয় সূত্রমতে, ১৯৭৩ সালের পর থেকে দীর্ঘ বছর ধরে আওয়ামী লীগের হাত ছাড়া হয়ে থাকা রংপুর-৩ আসন উপনির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলটির আসন তালিকায় যোগ করার পক্ষে আছেন দলের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক নেতা। তারা আসনটিতে জাতীয় পার্টিকে আর ছাড় দিতে রাজি নন। উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হতে না পারলে ওই এলাকায় সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা সম্ভব নয় বলেও তাদের দাবি। ফলে আসনটিতে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনের পক্ষে তারা। সাবেক রাষ্ট্রপতি ‘এরশাদের আসন’ হিসেবে পরিচিত রংপুর-৩ এর উপনির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না পেলেও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উপনির্বাচন নিয়ে নানা সমীকরণ চলছে।

ইতোমধ্যে আসনটির উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক রংপুরের যুবলীগের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশের পর দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে মহাজোটের বাইরে এসে এককভাবে নির্বাচনের নানা বিশ্লেষণ ও হিসাব-নিকাশ চলছে। নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে ফেসবুকসহ অনলাইকেন্দ্রিক অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতাকর্মী ও অনুসারীরা মতামত তুলে ধরে স্ট্যাটাসও দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি অংশ নিতে পারে বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার ধারাবাহিকতায় বিএনপি এ উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। একাদশ সংসদে থেকে এ সংসদের উপনির্বাচনে দলটি অংশ না নেওয়ার মতো স্ববিরোধী কাজ আর করবে বলে মনে হয় না। বিএনপি ও দলটির জোট অংশ নিলেও আওয়ামী লীগ সেখানে একক প্রার্থী দিতে পারে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৫ আগস্ট যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরার পর।’

যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেবে। এ বিষয়ে দ্বিমত নেই। আশা করি, এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিসহ সব রাজনৈতিক দল অংশ নেবে। তাহলে এ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। তবে এখনো এ আসনে নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ড রয়েছে। তারা মনোনয়ন ফরম দেয়। এ বোর্ড নিয়ে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্য থেকেই নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।’

রংপুরের স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামানকে এ আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিতে প্রচারণা শুরু করেছেন তার অনুসারীরা। তার অনুসারী হিসেবে পরিচিত নগরীর মাহিগঞ্জ এলাকার জয় চৌধুরী গত ২০ জুলাই ফেসবুকে লেখেন, ‘চৌধুরী খালেকুজ্জামানকে রংপুরে নৌকার মাঝি হিসেবে দেখতে চাই।’ মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্য নেতার অনুসারীরাও একইভাবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে কেউ কেউ নানাভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমেও নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার তালিকায় আছেন রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম, রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি এবং সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল। 

অন্যদিকে মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে চেয়ারম্যানের মৃত্যু শোক বিরাজ করলেও কে হবেন ওই শূন্য আসনের উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী-তা নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। আসনটি জাতীয় পার্টির থাকবে, নাকি চলে যাবে আওয়ামী লীগের দখলে-এমন প্রশ্নেরও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরশাদের পরিবারের তিনজনের নাম স্থানীয় বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। তারা হলেন এরশাদের ভাই হুসেইন মুহম্মদ মোর্শেদ, এরশাদের ছেলে রাহগীর আলমাদি শাদ এরশাদ ও এরশাদের ভাতিজা রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ। রংপুর সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসিফ ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হলে সেই সময় জাতীয় পার্টি থেকে তিনি বহিষ্কৃত হন। তাই তিনি উপনির্বাচনে শেষ পর্যন্ত দলের মনোনয়ন পাবেন কি না, এ নিয়ে দলের স্থানীয় পর্যায়ের অনেকে সন্দিহান। 

এরশাদ পরিবারের বাইরে নাম শোনা যাচ্ছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পাওয়া ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীরের নাম। গত নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী এইচ এন আশিকুর রহমানের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হন।

উল্লেখ্য, একাদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের গত ১৪ জুলাই মৃত্যু হলে ওইদিন থেকেই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। শূন্য ঘোষিত এ আসনে আগামী তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন হবে। সংবিধান অনুযায়ী কোনো সংসদীয় আসন শূন্য হলে পরের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে এ আসনে ভোট হওয়ার কথা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads