• শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
আপাতত শোকজ নয় ‘নৌকাবিরোধীদের’

ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতি

আপাতত শোকজ নয় ‘নৌকাবিরোধীদের’

  • হাসান শান্তনু
  • প্রকাশিত ২৬ জুলাই ২০১৯

উপজেলা পরিষদের গত নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা না মানায় অভিযুক্ত দলের সব নেতাকে আপাতত ‘কারণ দর্শানোর চিঠি’ পাঠাবে না আওয়ামী লীগ। আগামী ২৮ জুলাই থেকে দুইশ নেতাকে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত থাকলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে আপাতত এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন থেকে সরে এসেছে দল। বন্যা আক্রান্ত এলাকার নেতারা অভিযুক্তের তালিকায় থাকলেও তারা আপাতত শোকজ চিঠি পাচ্ছেন না। বন্যার্তদের পাশে দলের নেতাকর্মীদের দাঁড়ানো ও তাদেরকে সহায়তার বিষয়টি ক্ষমতাসীন দল অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। গত ২১ জুলাই থেকে দলের নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত ও দলীয় ঘোষণা থাকলেও বন্যা পরিস্থিতির কারণে ওই কার্যক্রম দল পিছিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র বাংলাদেশের খবরকে এসব তথ্য জানায়।

দলীয় সূত্রমতে, চলতি বছর অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে গিয়ে ‘বিদ্রোহ প্রার্থী’ হওয়া অনেকে জয়ীও হন। তাদের মধ্যে অনেকের এলাকা এখন বন্যার কবলে। এমন পরিস্থিতিতে দলের কারণ দর্শানোর চিঠি দলের কোনো কোনো নেতাকর্মীর মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা থাকে। যুক্তরাজ্যে সরকারি সফররত দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের বিভিন্ন এলাকার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে আলাদা আলাদা প্রতিনিধিদল গঠিত হয়েছে। দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে বন্যাদুর্গতদের সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও সহায়তা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া নির্মাণরত স্বপ্নের পদ্মা সেতু জোড়া লাগাতে মানুষের ‘কাটা মাথা’ লাগবে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে বিভ্রান্ত। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। মানুষের বিভ্রান্তি কাটাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দল থেকে দেওয়া হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী, দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদও নেতাকর্মীদের গুজব বিভ্রান্তি দূর করতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকার বিষয়ে নির্দেশ আছে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে। তবে অভিযুক্তদের মধ্যে যাদের এলাকায় বন্যার প্রভাব নেই, এমন কয়েকজনকে শোকজ চিঠি পাঠানো হতে পারে ২৮ জুলাই থেকে।

সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচন ও অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হওয়া ও বিদ্রোহীদের মদত দেওয়ার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। তবে এবার পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় আদেশ না মানা নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছে দলটি। ওই নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীই নন, সহযোগী সংগঠনের যেসব কর্মী তাদের পক্ষে কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। গত ১২ জুলাই অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ‘বিদ্রোহী’ ও তাদের মদতদাতাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ আসা অন্তত ২০০ জনকে ২৮ জুলাই থেকে চিঠি দেওয়ার দলীয় সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এর আগে চলতি বছরের ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত দলের সভাপতিমণ্ডলীর সভায়ও তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর গত ৫ এপ্রিল এসব নেতাকে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় দল। ওই সময়ও দল সিদ্ধান্তটি থেকে সরে আসে। তবে আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে চিঠি পাঠানো হতে পারে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও সাংগঠনিক প্রতিবেদন চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। যেসব নেতার কারণ দর্শানোর চিঠির উত্তর সন্তোষজনক হবে না, তাদেরকে দল ও দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা ও অব্যাহতি দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, ‘অভিযুক্তদের তিন ভাগে ভাগ করে তিন ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ তৈরি করা হয়েছে। চিঠি পাওয়ার ২১ দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর জবাব দিতে হবে।’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সূত্র জানায়, এবারের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ করা ও তাদের মদতদাতারের আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে দলে ভিন্নমত আছে। দলীয় শৃঙ্খলা অমান্যের অভিযোগ ও দায়ে অন্তত ২০০ নেতার নামের তালিকা হলেও তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর না করার পক্ষে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকে। কেন্দ্রীয় নির্দেশ না মানায় তৃণমূলের নেতাদের সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে দল থেকে বহিষ্কারের পক্ষে মত থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হওয়া নিয়ে সন্দেহ আছে।

‘বিদ্রোহী’ ও তাদের ইন্ধনদাতাদের বহিষ্কারের বিষয়টি দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ‘সতর্ক করে দেওয়া’ ও ‘শোকজ’ পাঠানোর মধ্যেই আওয়ামী লীগের সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ও দায়ে অতীতে এত নেতাকে একসঙ্গে বহিষ্কারের নজির দলে নেই। গত দশ বছরের বেশি সময় ধরে টানা ক্ষমতায় থাকাকালে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠলেও অনেককেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি। এমনকি অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

ফলে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দলের স্বার্থেই এবারো উপজেলা নির্বাচনে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতারা মাফ পেয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে তাদের আমলনামা সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। আগামী অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠেয় দলের জাতীয় সম্মেলনে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সবার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হলেও কোনো না কোনোভাবে শাস্তির আওতায় আসবেন দায়ী ও অভিযুক্ত নেতারা। তাদের বিরুদ্ধে আগামী সম্মেলন ও এর আগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে তৃণমূলে শৃঙ্খলা ফেরাতে চায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। অভিযুক্তরা দলের তৃণমূলে কোন্দল ও বিভেদের জন্য দায়ী বলে শীর্ষ পর্যায়ের সবাই একমত।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads