• শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
খালেদাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএনপি

ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতি

খালেদাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএনপি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৭ জুলাই ২০১৯

দলীয়প্রধান খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তার পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার বিকালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে এই দাবি জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জিভে আলসার হয়েছে। গত এক সপ্তাহে তার (খালেদা জিয়া) ৪ কেজি ওজন কমেছে। উনি শুকিয়ে গেছেন। কিছুই খেতে পারছেন না। ইট ইজ ভেরি অ্যালার্মিং। তাকে দেখলে এখন চিনতেই পারবেন না। সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। তার পছন্দ অনুযায়ী দেশে অথবা বিদেশে যেখানে তিনি চিকিৎসা করাতে চান সেখানে তার চিকিৎসার জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।

গত ১ এপ্রিল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন। তাকে হাসপাতালের কেবিন ব্লকের ৬২৫নং কক্ষে রাখা হয়েছে। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় বিশেষ জজ আদালত ৫ বছরের সাজা দেওয়ার পর থেকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে বিশেষ কারাগারে বন্দি আছেন তিনি। এর পর থেকে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে তাকে এখন হুইল চেয়ারে করে চলতে হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, পিজিতে আনার পর দেখেছেন, তিনি (খালেদা জিয়া) হুইল চেয়ার ছাড়া মুভই করতে পারছেন না। প্রকৃত অবস্থা আরো ভয়াবহ। তিনি এখন বিছানা থেকে নিজে উঠতে পারেন না। তাকে দুইজন হেলফ করে উঠাতে হয় এবং হুইল চেয়ারে বসিয়ে তাকে টয়লেটে, ওয়াশরুমে বা খাবার টেবিলে নিতে হয়। আবার দুজনের সাহায্য নিয়েই তাকে বিছানায় নেওয়া ও শোয়াতে হয়। এটা অমানবিক। এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারি না, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী যিনি গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন, দুইবার বিরোধী দলের নেতা ছিলেন, যার স্বামী স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এবং যিনি নিজে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি ছিলেন তার দুই সন্তানসহ, আজ চরম অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে তার সঙ্গে। দণ্ডপ্রাপ্ত একজন প্রথম শ্রেণির কয়েদির সঙ্গে যে আচরণ করা হয় তার সঙ্গে তার চেয়েও খারাপ আচরণ করা হচ্ছে।

ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, খালেদা জিয়াকে এখন সময়মতো এবং সঠিকভাবে তার খাবারগুলো দেওয়া না। যেসব ফলমূল তার খাওয়া উচিত সেগুলো তিনি ঠিকমতো পান না। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে তার চিকিৎসা—এটা কোনোমতেই এখানে (বিএসএমএমইউ) সম্ভব হচ্ছে না।

দল চেয়ারপারসনের খবর রাখার চেষ্টা করে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যেটায় তিনি সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন সেটা হচ্ছে তার জিভে আলসার হয়েছে, যেটাকে টাং আলসার বলে। এ ছাড়া তার দাঁত সার্প (চোখা) হয়ে গেছে। সেটা যখন তার জিভে আঘাত করে তখনই তিনি কষ্ট পান। ফলে তিনি এখন কিছু খেতেও পারছেন না। এই বিষয়টা ধরার পড়ার পরে সেখানকার চিকিৎসকরা টুথ ব্রান্ডিং করে সার্পনেসটা কমিয়ে এনেছিলেন। এখন তার দাঁতের সার্পনেস আরো বেশি করে দেখা দিয়েছে। খালেদা জিয়ার দাঁতের চিকিৎসাটা বড় চিকিৎসা। তার রুট ক্যানেল ও স্কেলিং করা দরকার। বয়সের কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়া তার দু-একটা দাঁত তুলে ফেলা দরকার।

ইনসুলিন নেওয়ার পরও খালেদা জিয়ার ‘ব্লাড সুগার’ নামছে না বলে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, উনি ডায়াবেটিকসের তিনটা ওষুধ খাচ্ছেন তারপরও কিছুতেই তা ২০-এর নিচে নামছে না। এটাও অত্যন্ত অ্যালার্মিং। এ কারণেও জিভে যে আলসার হয়েছে সেটা আরো বাড়ছে। আপনারা জানেন, এ ধরনের রোগ দ্রুত বাড়তে থাকে। আর্থ্রাইটিস, ফ্রোজেন শোল্ডার প্রভৃতি রোগে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

‘ম্যাডামের ব্যাপারটা দল, পরিবারসহ দেশের সবাইকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে’ জানিয়ে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই আচরণের উদ্দেশ্যটা কী? রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কী একেবারে তার জীবন অবসানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এই প্রশ্নগুলো তো মানুষের মধ্যে এসে যাচ্ছে। আপনারা এই বিষয়টাকে একটু গুরুত্ব দিয়ে জনগণের সামনে, সরকারের সামনে তুলে ধরেন, যাতে জনগণের নেত্রী তার ডিজার্ভ করা ভালো ট্রিটমেন্ট পান। আমরা শিগগিরই তার মুক্তি চাই। আজকে তার প্রত্যেকটা জামিন আবেদনে সরকার বাধার সৃষ্টি করছে।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, তিন সপ্তাহ আগে ম্যাডামের টুথ গ্র্যান্ডিং করা হয়েছিল। তার দাঁতের সার্পনেসটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গত ৬-৭ জুলাই রেফার্ড দিয়ে ডেন্টাল ডিপার্টমেন্টে কল করা হয়েছিল। তারা গত ২৪ জুলাই তাকে দেখেছেন। কল দিলে ‘এ’ ব্লক থেকে কেবিন ব্লকে যেতে যদি ডাক্তারের ১৫ দিন সময় লাগে তাহলে এ ধরনের রোগীর প্রতি এই আচরণ কী ইন্ডিকেট করে? ডেন্টাল ডিপার্টমেন্ট এ ব্লকের চারতলায়। বিএসএমএমইউতে খালেদা জিয়ার দাঁতের সুচিকিৎসার আধুনিক যন্ত্রপাতি আদৌ আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এই চিকিৎসক। এটা দেখে আসার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads