• রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫
ads
থেমে আছে আ.লীগের দলীয় কার্যক্রম

ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতি

থেমে আছে আ.লীগের দলীয় কার্যক্রম

  • হাসান শান্তনু
  • প্রকাশিত ০৪ আগস্ট ২০১৯

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম থেমে আছে। নানা পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা থাকলেও দলের নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম গত মাসে শুরু হয়নি। উপজেলা পরিষদের গত নির্বাচনে দলের ‘নৌকাবিরোধী’ নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কেন্দ্রীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন আটকে আছে। দলের আগামী কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে সারা দেশের তৃণমূলের কমিটি গঠনের পরিকল্পনা থাকলেও অনেক জেলা ও উপজেলায় এ বিষয়ে এখন কার্যক্রম নেই। বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো ও মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু মোকাবেলার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ায় দলীয় কার্যক্রম থেমে আছে বলে জানায় সরকারি দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র।

সূত্র জানায়, রাজনীতির মাঠে বেশ নির্ভার থাকলেও বন্যা ও ডেঙ্গুর মতো দুর্যোগ আওয়ামী লীগকে চাপে ফেলেছে। এরই মধ্যে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নির্মাণরত স্বপ্নের পদ্মা সেতু জোড়া লাগাতে এক লাখ মানুষের কথিত কাটা মাথা লাগার গুজব ক্ষমতাসীনদের ভেতরে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি রাজনীতির মাঠে না থাকলেও ডেঙ্গু, বন্যা ও গুজব নিয়ে সামাজিক অসন্তোষ যেন দেখা দিতে না পারে, সেজন্য দলীয় কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রেখে জনগণকে দ্রুত দুর্ভোগমুক্ত করতে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগও আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দলীয় কোনো ব্যর্থতার সুযোগ যেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিতে না পারে, এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন ক্ষমতাসীনরা। ফলে দলীয় কার্যক্রমের বদলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর মতো কর্মসূচিগুলোকে।

দলীয় সূত্রমতে, দেশে অতীতের নানা রেকর্ড ভঙ্গ করে এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ার বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সরকারের নানা পদক্ষেপ ও কার্যক্রমের পাশাপাশি রোগটির প্রতিরোধে দলের পক্ষ থেকেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগটির প্রতিরোধকে দলটির ঢাকাসহ সারা দেশের সব সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও মাঠে আছেন। সরকারি সফরে যুক্তরাজ্যে থাকা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগকেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিছন্নতা ও অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিলে দলটির নেতাকর্মীরা পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামেন। দলের সভাপতির ঢাকার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল শনিবার বিকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন ও সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সারা দেশে ডেঙ্গু-আক্রান্ত রোগীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দলের পক্ষে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসা মনিটরিং সেল’ গঠিত হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল শনিবার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যতদিন দেশ ডেঙ্গুমুক্ত ও এডিস মশা নির্মূল না হবে, ততদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এটাই আমাদের আজকের অঙ্গীকার। এখন সময়টা অত্যন্ত সংবেদনশীল। দেশের মানুষকে ডেঙ্গু আতঙ্ক থেকে রক্ষা করতে হবে।’

সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই থেকে আওয়ামী লীগের নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত ও দলীয় ঘোষণা থাকলেও বন্যা পরিস্থিতির কারণে ওই কার্যক্রম দল পিছিয়ে দেয়। যুক্তরাজ্যে সরকারি সফররত দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের বিভিন্ন এলাকার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে তখন আলাদা আলাদা প্রতিনিধিদল গঠিত হয়। দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে বন্যাদুর্গতদের সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও সহায়তা করা হয়।

গত দুবারের মতো এবারো যেন হঠাৎ করে দলের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম গতিহীন হয়ে না পড়ে, এ বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিল দল। সবশেষ ২০১৭ সালে সাড়ম্বরে দলের সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও পরের বছর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের জোয়ারে তা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে যায়। ওই অভিযানের মধ্য দিয়ে নতুন ভোটারসহ দুই কোটি নতুন সদস্য করার টার্গেট ছিল। এর আগে ২০১০ সালে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও ওই বছরও তা বেশিদিন চলেনি। তবে এবার কার্যক্রম শুরুর আগে আরো প্রস্তুতি থাকলেও ডেঙ্গু ও বন্যার কারণে তা এখনো শুরু হয়নি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো একযোগে কাজ করছে। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ডেঙ্গু মোকাবেলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি মুহূর্তে যুক্তরাজ্য থেকে খবর রাখছেন। তিনি নির্দেশনা দিচ্ছেন আর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’

নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্রমতে, চলতি বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই সারা দেশের তৃণমূলের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্মেলন শেষ করার নির্দেশ দেয় ক্ষমতাসীন দল। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করা, এর আগের প্রস্তুতি হিসেবে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও তৃণমূলের নতুন কমিটি নির্বাচনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিশেষ প্রস্তুতি নেয়। এবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে’ সংকটাপন্ন জেলা ও উপজেলাগুলোতে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করার ঘোষণা দেওয়ায় তৃণমূলে চাঞ্চল্য ফিরে আসে। এর মধ্যে তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতাদের দায়িত্ব দিয়ে আটটি বিভাগীয় টিম গঠন করে দেন। তৃণমূল কমিটি গঠনের লক্ষ্যে অনেক জেলায় বর্ধিত সভাও শেষ করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে বন্যা ও ডেঙ্গুর কারণে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এখন কমিটি গঠনের কার্যক্রম নেই। দলের নেতাকর্মীদের জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আক্রান্ত মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে।

অন্যদিকে উপজেলা পরিষদের গত নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা না মানায় অভিযুক্ত অন্তত ২০০ নেতাকে গত ২৮ জুলাই থেকে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত থাকলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার কারণে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন থেকে সরে এসেছে আওয়ামী লীগ। বন্যার্তদের পাশে দলের নেতাকর্মীদের দাঁড়ানো ও তাদের সহায়তার বিষয়টি ক্ষমতাসীন দল অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গুরুত্ব দেয়। চলতি বছর অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে গিয়ে ‘বিদ্রোহ প্রার্থী’ হওয়া অনেকে জয়ীও হন। তাদের মধ্যে অনেকের এলাকা বন্যার কবলে থাকায় সিদ্ধান্ত নিয়েও দলের কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানো হয়নি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads