• রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৫
ads
অলির খায়েশ অপূর্ণই থাকল

ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতি

অলির খায়েশ অপূর্ণই থাকল

  • আফজাল বারী
  • প্রকাশিত ০৫ আগস্ট ২০১৯

কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম। বীর মুক্তিযোদ্ধা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খুব কাছের ছিলেন তিনি। সেনাবাহিনীতে চাকরির মেয়াদ থাকার পরও ইস্তফা দিয়ে যোগ দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দলে। শহীদ জিয়ার পত্নী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপিতেও পার করেছেন দীর্ঘ সময়। বিএনপির আমলে মন্ত্রীও ছিলেন। কিন্তু বৈরী পরিবেশের কারণে ২০০৬ সালে বিএনপি ত্যাগ করে নিজেই বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) নামের নতুন দল গড়েছেন। বাস্তবতার আবর্তে ত্যাগ করা নেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক হয়েছেন। জোটে থেকেই গড়েছেন আরেক নতুন জোট ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’। সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন করছেন সামনে আছে কর্মসূচিও। সম্পর্কের যোজন-বিয়োজনকে নানাভাবে দেখছে বিএনপি।

দলটির নীতি-নির্ধারকদের মন্তব্য বিএনপির সাবেক এ নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের ভবিষ্যৎটা বলা যাবে না তবে বর্তমান মতিগতি ভালো না। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অবর্তমানে বিএনপি ঘিরে তার যে টার্গেট তা পূর্ণ হচ্ছে না। যদিও দুই মাস আগে কর্নেল অলির কর্মকাণ্ডকে গণনায় নিয়েছিল বিএনপি। এখন আর পাত্তা দিচ্ছে না।

দেশের তিনটি বিভাগে সভা-সমাবেশ করে তার জানান দিয়েছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ জোটে আছেন, জোটের বাইরে জোট করে ভালো কিছু করার চেষ্টাকে অবশ্যই ভালো বলতে হবে। তবে তার বিপরীতটা বাস্তবায়ন হয় না। 

এদিকে জাতীয় মুক্তি মঞ্চের পথচলায় আশার আলো দেখছে না কর্নেল অলির মিত্ররা। তারা বলছেন, স্রোতের বাইরে কোনোদিন কিছুই হয়নি, এখনো হওয়ার নয়। অলির খায়েশ ভেস্তে গেছে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, তিনি বাংলাদেশের খবরকে বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্ব দেওয়ার মতো নেতা আপাতত বিএনপিতে দেখছি না। তবে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদও তো পারছেন না। কালের আবর্তে নতুন নেতৃত্ব আসবে, জাতি তার নেতা খুঁজে নেবে।

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইবরাহিম বীর বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আমরা দেখছি কতদূর যেতে পারি। আশা-হতাশা দুটিই আছে-এর চেয়ে বেশি বলতে চাই না।

এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, জাতীয় মুক্তি মঞ্চ গঠনের সময়ই বিএনপি ভালো চোখে দেখেনি। তারা বিভিন্ন দলকে এই মঞ্চে যেন না আসে এবং মিডিয়াতে যেন কভারেজ না পায় সে কাজটি করেছে। তিনি বলেন, সময়ই বলে দেবে জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে। তবে বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি করতে হলে বিএনপিকে লাগবে। বিএনপিকে বাদ দিয়ে কেউ চিন্তা করলে তা বাস্তবায়ন হবে বলে আমি মনে করি না।

গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন অলি। তাতে জিয়াউর রহমানকে পিতার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমার অধিনায়ক। প্রথম অধিনায়ক হলো পিতার মতো। সুতরাং ব্যাটালিয়নের অন্যান্য অফিসার হলো তার সন্তানের মতো, অফিসারদের স্ত্রীরা ছিল তার মেয়ের মতো। পাকিস্তান সৈন্যরা অনেক কিছু করেছে। কিন্তু তাদের যে একটা কালচার, তাদের যে একটা স্ট্যান্ডার্ড সেটা তারা বিসর্জন দেয়নি। বিএনপি নেতাকর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে অলি আহমদ বলেন, আপনারা ছোট-খাটো মিটিং করেন, ছোট ছোট মিছিল করেন, প্রত্যেকটা জায়গায় একত্র হন। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুষ্ঠু পুনর্নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হন।

অলি আহমদ বলেন, সুপ্রিম কোর্টের জাজ সাহেবদের কাছে আমরা অনুরোধ করব, তার (খালেদা জিয়া) বয়স বিবেচনায়, অবদান বিবেচনায় নিয়ে, তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান বিবেচনায় নিয়ে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে মুক্তি দিন।

বিএনপি ও এলডিপির একাধিক সিনিয়র নেতার বিশ্লেষণ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে। খুব সহসাই যে তিনি মুক্তি পাবেন এবং রাজনীতির হাল ধরবেন তা আশা করা দুষ্কর। অন্যদিকে শহীদ জিয়ার উত্তরাধিকারী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনিও সাজাপ্রাপ্ত। পট পরিবর্তন না হলে তার দেশে ফেরাটাও অনিশ্চিত। তাই জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্ব দিতে একজন সাচ্চা নেতার খুবই প্রয়োজন। যে প্রয়োজনটা মেটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা অলি আহমদ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মুক্ত থাকাকালে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে দলে ফেরানোর প্রস্তাবে নিমরাজি ছিলেন। তবে খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তে বাদ সেধেছিলেন তারেক রহমান। তাই দলে ফেরার প্রস্তুতিটাও ভেস্তে যায়। অবশেষে জাতীয় মুক্তি মঞ্চ নামের মঞ্চ করে তাতে জামায়াতে ইসলামী, কল্যাণ পার্টি, জাগপা ও খেলাফত মজলিসসহ বেশ কিছু দলকে কাছে টানতে চেয়েছিলেন অলি আহমদ। দীর্ঘ দুই মাসের চেষ্টা ব্যর্থ করতে বিএনপিও নড়েচড়ে বসেছিল। মুক্তি মঞ্চের ব্যানারে সিলেট ও চট্টগ্রামে সমাবেশ করেছে অলি আহমেদ। ওই সভাকে ভেস্তে পাঠাতে বিএনপিও তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দেশের তিন বিভাগে সমাবেশ করেছে। বন্যা, ডেঙ্গুর কারণে কর্মসূচি স্থগিত করেছে। আপাতত অলি আহমদকে নিয়ে ভাবছে না বিএনপি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads