• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
 কলঙ্কভারে ন্যূব্জ বিএনপি

ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতি

কলঙ্কভারে ন্যূব্জ বিএনপি

  • আফজাল বারী
  • প্রকাশিত ২৬ আগস্ট ২০১৯

সমালোচনা আর কলঙ্কভারে ন্যুব্জ এখন বিএনপি। ব্যক্তির কালিমায় কলঙ্কিত হয়েছে দল। কেউ করেছেন অর্থ কেলেঙ্কারি, কেউ নারী কেলেঙ্কারি, আবার কেউ করেছেন সোনার মুকুট কেলেঙ্কারি।

সুসময়-দুঃসময়ে বহু বিতর্কিত ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে দেশের বৃহত্তম এই দলটিকে।

দলীয় বোদ্ধাদের অভিমত, শীর্ষনেতাদের অদূরদর্শিতা, স্বজনপ্রীতি আর ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল গুনতে হয় নির্ভেজাল নেতাকর্মীদের। মাশুল গণনাকারীদের তালিকা থেকে বাদ যাননি দলটির শীর্ষনেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারও।

ব্যক্তির দুর্নীতির কারণে কারাগারে জীবন-মরণ লড়াই করছেন দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া। ঘনিষ্ঠ বন্ধুর অর্থ কেলেঙ্কারির জন্য সাজা নিয়ে প্রবাস জীবনযাপন করছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশি-বিদেশিদের কালো তালিকাভুক্তিসহ উইকিলিকের ঝুড়িতে ঢুকতে হয়েছে একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপিকে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ব্যক্তির সমালোচনার দায় প্রথমে ব্যক্তিকেই নিতে হয়। আরেকটা কথা থাকে যে, সমালোচনামূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদনকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সংগঠনকেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। রুমিন ফারহানার প্লট আবেদনের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপিকে আরো বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। দলের স্বার্থে লোভ সংবরণ করাটাও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য অতি জরুরি। নইলে পুরো সংগঠন বিতর্কিত পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করেন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরে বর্জন করেছে বিএনপি। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সংসদ এবং সরকারকেই অবৈধ আখ্যা দিয়েছে। দফায় দফায় বৈঠক করে ফের সেই সংসদেই যোগদান করেছে। এখন সংরক্ষিত আসনের এমপি দলের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহান তলে তলে প্লটের আবেদন করেছেন।

বিষয়টি গণমাধ্যমে আসায় চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। গতকাল আলাপকালে দলটির একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, দলের ত্যাগী নেতা বাদ দিয়ে আমদানি করা নেত্রীকে মনোনয়ন দিয়ে সংসদে পাঠানো ছিল নীতিনির্ধারকদের বড় ভুল। যার মাশুল দিতে হচ্ছে দলকে।

বিএনপির আরেক আলোচিত নেতা মিয়া নুরুদ্দিন অপু। তিনি ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী। হাওয়া ভবনের দাপুটে কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর তিনি দেশে ফেরেন। গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে তার হাতে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হয়। এরপরই তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রাজধানীর মতিঝিল থেকে আট কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। টাকা উদ্ধারকারী র্যাবের দাবি ছিল- জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত ও প্রলুব্ধ করার কাজেই এ টাকা ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল। এ ঘটনায় পরবর্তীতে মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। হঠাৎ করেই বিএনপির মতো দল থেকে তাকে মনোনয়ন প্রদান এবং কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা উদ্ধারের ঘটনার দায় এড়াতে পারেনি বিএনপি।  

রাজশাহীর নাদিম মোস্তাফা। ২০০১ সালে বিএনপির আমলে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। পরের বছরই তার নির্বাচনী এলাকার জনগণকে বাধ্য করেন তাকে সোনার মুকুট উপহার দিতে। এ ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ কেলেঙ্কারির পরও নাদিম মোস্তাফা বিএনপির বিশেষ সম্পাদক।

বিএনপিকে বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি করেন আরেক নেতা জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ জয়নাল আবদীন ফারুক। আমেরিকা প্রবাসী দলীয় এক নেতার স্ত্রীর সঙ্গে তার ফোনালাপ হয়। যেসব কথা ছিল আপত্তিকর। স্ত্রীর সঙ্গে ওইরূপ কাণ্ড করায় ওই প্রবাসী নেতা রহমত বিএনপির কাছে জয়নাল আবদীন ফারুকের বহিষ্কার চান। কিন্তু রহমতের চাওয়া পূরণ হয়নি। দলের তরফ থেকে এ কেলেঙ্কারির ঘটনা নিয়ে নেতারা মুখ খোলেননি। তবে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভিন্ন সময় সমালোচনা সইতে হয়েছে।

বিএনপির গায়ে কালিমা লেপন করেছেন গিয়াস উদ্দিন আল মামুন। তিনি ছিলেন বিএনপির দ্বিতীয় কাণ্ডারি তারেক রহমানের বাল্যবন্ধু। বিএনপি ক্ষমতায় এবং তারেক রহমানের হাওয়া ভবন এই দুই শক্তি ব্যবহার করে তিনি বৈধ-অবৈধভাবে টাকার পাহাড় গড়ে তোলেন। তার ব্যাংক হিসাবে ঘুষের টাকার লেনদেনের অভিযোগেই তারেক রহমানের সাজা ভোগ করতে হচ্ছে। দেশ পেরিয়ে তিনি আছেন বিদেশে।

বিএনপিকে শুধু পুরুষের কেলেঙ্কারিই হজম করতে হয়নি, কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন দলটির নারী নেত্রীরাও। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামের স্ত্রী সাবিরা নাজমুল মুন্নি। স্বামী খুন হওয়ার পর দলের তরফ থেকে তাকে ওই পদে নির্বাচন করানো হয়। তিনি আটকা পড়েন দুদকের জালে। অবশেষে ২০১৮ সালে তাকে কারাবরণ করতে হয়।

মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা বেগমের বিরুদ্ধেও কেলেঙ্কারির আঙুল তুলেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। একাধিক স্বামী বদলের কারণে নারী নেত্রীরা তার অধীনে রাজনীতি করতে চাইছেন না বলেও খোদ দলটির নেতাকর্মীদের ভাষ্য।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads