• মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬
ads

রাজনীতি

শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত হবে

  • ঢাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়। গতকাল রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এ কথা বলেন নাহিয়ান।

ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশমতো দেশের উন্নয়নে সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত পথে থেকে ছাত্রলীগের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করব। সংগঠনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করা হবে। ছাত্রলীগ চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজদের প্রশ্রয় দেয় না। কারো বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তদন্তসাপেক্ষে তা প্রমাণিত হলে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

নাহিয়ান বলেন, আমরা শুধুই দায়িত্ব নিয়েছি। ছাত্রলীগকে আমরা একটি উচ্চ জায়গায় নিয়ে যেতে চাই। আমাদের প্রতি সবাই যেন পজিটিভ থাকেন, সেদিকে লক্ষ রেখে কাজ করে যাব। আমাদের দায়িত্ব হলো সংগঠনকে গড়ে তোলা। এ বিষয়ে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তারা যে দিকনির্দেশনা দেবেন সে অনুযায়ী কাজ করব। আগামীকাল (আজ) সোমবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনের দায়িত্ব গ্রহণ করব।

এক প্রশ্নের জবাবে আল-নাহিয়ান খান জয় বলেন, আমি একটি হলের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, আইন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, লেখক ভট্টাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আমাদের সম্পর্কে আপনারা খোঁজ নিলে জানতে পারবেন। আমরা সব সময় চেষ্টা করি, যেকোনো ধরনের কালিমা আমাদের গায়ে যেন না লাগে।

ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সারা দেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের যেকোনো অভিযোগ কিংবা দাবি থাকলে আমাদের জানাতে পারেন। আমাদের কাছে আসতে কোনো লবিং কিংবা মধ্যস্থতা লাগবে না। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে নতুন নেতৃত্ব কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তাদের সঙ্গে ছিলেন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ। উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের আড়াই মাস পর গত বছরের ৩১ জুলাই শোভনকে সভাপতি ও রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছর মেয়াদি আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সে হিসাবে আরো প্রায় ১১ মাস এই কমিটির মেয়াদ ছিল। এই কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা, নিজেদের অনুষ্ঠানে মূল সংগঠনের নেতাদের আমন্ত্রণ করে তাদের পরে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কানে পৌঁছায়। এসব অভিযোগ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে দলীয় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এই কমিটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ছাড়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই কোটি টাকা চাঁদাবাজির একটি ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় তাদের ওপর ব্যাপক ক্ষুব্ধ হন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। এসব ঘটনার জেরে গত শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এই দুই নেতাকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। ফলে শোভনের পরিবর্তে আল-নাহিয়ানকে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আর রাব্বানীর পরিবর্তে লেখক ভট্টাচার্যকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads