• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
ads

রাজনীতি

রাজপথ অনেক বড় বেঈমান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৮ অক্টোবর ২০১৯

ক্যাসিনো-কাণ্ডে গ্রেপ্তার, আলোচিত-সমালোচিত যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বলে জানান তার সমর্থকরা। তাদের দাবি ও ক্ষোভ, দলের দুঃসময়ের একজন কর্মীকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ‘সম্রাট সাম্রাজ্যের’ পতন মেনে নিতে পারছেন না তার অনুসারীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশ সক্রিয় তারা। গত রোববার সন্ধ্যায় যখন রাজধানীর কাকরাইলের ভবন থেকে সম্রাটকে বের করা হচ্ছিল তখনো তারা সেখানে সম্রাটের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এমনও উচ্চারণ করেন, ‘সম্রাট ভাই ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই।’ 

যুবলীগের ডেপুটি মহিলাবিষয়ক সম্পাদক নাসরিন সুলতানা ঝর্ণা রোববার রাতে ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘রাজপথ যে অনেক বড় বেইমান! তার প্রমাণ পেলাম আজকে। ভবিষ্যতে কোনো নেতা-কর্মী জীবনবাজি রেখে আর রাজপথে থাকবে না। দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ দুঃসময়ের কর্মীকে যদি এভাবে নাটকীয়ভাবে ধ্বংস করতে পারে, তাহলে আর কিছু তো বোঝার বাকি থাকে না।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল লেখেন, ‘রাজপথের একজন দক্ষ সংগঠক ও প্রিয় নেত্রীর দুর্দিনের কর্মীকে এভাবে হাতকড়া পরিয়ে আর বিএনপির নেতা বিসিবি পরিচালক ম্যাডাম খালেদার চামচাকে দুলা মিয়ার স্টাইলে? সম্রাট ভাই দল থেকে বহিষ্কার আর বিসিবির পরিচালক পদে এখনো বহাল তবিয়তে আছেন লোকমান।’ রাসেলের এই স্ট্যাটাস শেয়ার করেন যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জেসমিন শামীমা নিঝুমসহ অনেকেই। এই স্ট্যাটাসে অনেকেই কমেন্ট করেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান পলাশ লেখেন, ‘মাফ করে দিয়েন প্রিয় ভাই (সম্রাট), আজ অনেকেই ভদ্রতার  মুখোশ পরেছে। যারা আপনার অফিসে হাজিরা দিত তারাই আজ বড় বড় কথা বলে। জাতীয় নির্বাচনের সময় আপনার কী কদর, সবাই নমিনেশন পেয়ে আপনার অফিসে হাজির। কত নেতা দেখেছি ওয়েটিং রুমে বসে থাকতে। কেউ কেউ তো আবার কবিতাও লিখত আপনাকে নিয়ে। যাই হোক রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র থাকবেই। তাই বলে এত নোংরামি! আপনার মতো লোক দলে খুবই প্রয়োজন, ইনশাআল্লাহ আইনি সব লড়াই লড়ে ষড়যন্ত্রের সব জাল ছিন্ন করে ঢাকার রাজপথে আবার ফিরবেন। অনেক কথা বলার ছিল আজ আর বললাম না, ষড়যন্ত্রকারীদের বিজয় সাময়িক, স্থায়ী নয়। আপনার মতো কেউ বলে না খেয়েছো যাও খেয়ে নাও। আপনি ছিলেন কর্মিবান্ধব নেতা। ভাই আপনার মূল্যায়নটা করতে পারল না কেউ। আপনাকে এভাবে দেখব কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি। আল্লাহ আপনার হেফাজত করবে ইনশাআল্লাহ।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর যুবলীগের এক সহ-সভাপতি বলেন, ‘তিনি (সম্রাট) ইয়াবা খান না, শুনেছি মদ আগে খেতেন, এখন খান না হার্ট অ্যাটাকের জন্য। আমি তাকে কাউকে মারতে দেখিনি, পিস্তল তার লাগে না, তার মুখের কথাই পিস্তল, আছে কর্মীদের আস্থা-ভালোবাসা। তবে আমাদের কাছে নেত্রীর চেয়ে বেশি মূল্যবান সম্রাট ভাই না, যদি নেত্রীর সিদ্ধান্ত না হতো, যদি অন্য কোনো দল ক্ষমতায় থাকত তাহলেও সম্রাট ভাইয়ের কিছু করতে পারত না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সম্রাটের একজন সমর্থক বলেন, ‘সম্রাট ভাই কর্মিবান্ধব ছিলেন। তার অফিস থেকে কেউ খালি হাতে ফিরে যেত না। তিনি দলের নেতাকর্মীদের দুই হাতে সহযোগিতা করতেন। যাদের কারণে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে আমরা তাদের শাস্তি চাই।’

যুবলীগের আরেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আজ দল ক্ষমতায় আছে। এখন যদি রাজপথে বিরোধীরা কোনো সহিংসতায় মেতে ওঠে, প্রশাসন দিয়ে হয়তো তা মোকাবেলা করা যাবে। কিন্তু ক্ষমতা যদি একবার ফসকে যায়, তখন অনুধাবন হবে সম্রাটের মতো ফাইটারদের দলের কতটুকু প্রয়োজন। তিনি বলেন, সুশীল দিয়ে রাজনীতি হয় না, রাজনীতি করতে সম্রাট ভাইদের মতো মেগা ফাইটারদের লাগে। মানুষটার জন্য খারাপ লাগে যে এই দলটার জন্য এত শ্রম দিল, তাকেই আজ ছুড়ে ফেলে দিল!

সম্রাটকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। রোববার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী আরমানকেও গ্রেপ্তার করে র্যাব।

পরে সম্রাটকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। রোববার রাত সোয়া ৮টার দিকে তাকে কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার জাহেদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সম্রাটকে সাধারণ বন্দি হিসেবে কারাগারে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads