• সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads

রাজনীতি

শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন আজ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৯ নভেম্বর ২০১৯

জাতির পিতা ও সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন আজ। বেলা ১১টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংগঠনটির এবারের সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে বিকাল ৩টায় ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশনে সংগঠনটির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন করা হবে।

তথ্যমতে, ২০১২ সালের ১৯ জুলাই সর্বশেষ শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দুই বছরমেয়াদি এ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চার বছরের বেশি সময় আগে। শুদ্ধি অভিযানের মতো বড় ধাক্কা ও ভিন্ন রকম পরিবেশের মধ্য দিয়ে এবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন হচ্ছে। দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন এবারই প্রথম এক ধরনের ভিন্ন পরিবেশে হচ্ছে।

দলের সভাপতি ও সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নতুন পরিবেশের মুখোমুখি করেছে সংগঠনগুলোকে। গত ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া কৃষকলীগের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন ও বিতর্কমুক্ত নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছে। শ্রমিকলীগের শীর্ষ নেতৃত্বেও নতুন মুখের চমকের সম্ভাবনা বেশি বলেই নেতাকর্মীদের ধারণা। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে নানাভাবে এ বিষয়ে ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত, দুর্নীতিবাজ ও তদবিরবাজরা চলমান অভিযানের পাশাপাশি সম্মেলনের মধ্য দিয়ে শ্রমিক নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়ছেন। বাস্তবতা মেনে যোগ্য নেতৃত্বের হাতে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে এবার তৃণমূলেও আশাবাদ জন্মেছে। সংগঠনের নেতৃত্বে প্রবীণ ও নবীন মিলিয়ে নতুন মুখ উঠে আসার সম্ভাবনাই বেশি। কঠোর শুদ্ধি অভিযান চলাকালীন কেমন হতে পারে সংগঠনটির নতুন কমিটি, কারা আসছেন নেতৃত্বে, বিতর্কিত নেতৃত্বের গন্তব্য কোথায়-আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাদের কাছেও একই প্রশ্ন ও নানা কৌতূহল।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে এক ডজন নেতা মাঠে তৎপরতা চালাচ্ছেন। সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ, বর্তমান কার্যকর সভাপতি ফজলুল হক মন্টু, সহ-সভাপতি শাহজাহান খান, সরদার মোতাহের উদ্দিন, নূর কুতুব আলম মান্নান, আমিনুল হক ফারুব, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, মোল্লা আবুল কালাম আজাদ। এছাড়া বর্তমান সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ আবারো পদে থাকতে চান। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামও সভাপতি পদে আসতে চান।

সাধারণ সম্পাদক পদের দৌড়ে আছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন। তাদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, খান সিরাজুল ইসলাম, মু. শফর আলী, প্রচার সম্পাদক কে এম আযম খসরু, দপ্তর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, অর্থবিষয়ক সম্পাদক সুলতান আহমেদ, শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ ও এ টি এম ফজলুল হক বেশ কয়েকজন আলোচনায় রয়েছেন। তবে বিগত কমিটির সফলতা-ব্যর্থতা হিসাব করলে সভাপতি- সাধারণ সম্পাদকের স্বপদে থাকার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা নেতারা।

অন্যদিকে শ্রমিকলীগের সম্মেলনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি ও নয়টি উপ-কমিটির নেতারা তাদের কাজ গুছিয়ে এনেছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল সম্মেলন মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ ছাড়াও সম্মেলনস্থল ও আশপাশের সড়কগুলোকে বর্ণাঢ্য সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। তবে সম্মেলন কেন্দ্র করে চিরচেনা স্লোগান, মিছিল ও পদপ্রত্যাশীদের মহড়ার দৃশ্য নেই এবার। সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে নেতা-কর্মীদের চাঞ্চল্য ও উদ্দীপনা ছিল ঠিকই। দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হতে যাওয়ায় তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাসও আছে। খরচ কমাতে এবার একই মঞ্চে আওয়ামী লীগের সব সম্মেলনের আয়োজন হচ্ছে বলে জানান দলের শীর্ষ কয়েক নেতা।

শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের খবরকে জানান, ‘কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সারা দেশে সংগঠনের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা থেকে আট হাজার কাউন্সিলর ও সমসংখ্যক ডেলিগেটস সম্মেলনে যোগ দেবেন। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতারাসহ কয়েকজন বিদেশি অতিথিও এতে উপস্থিত থাকবেন।’

২০১২ সালের ১৯ জুলাই শ্রমিকলীগের সর্বশেষ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা শুকুর মাহমুদ সভাপতি এবং জনতা ব্যাংক ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সিরাজুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালের ১২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু দেশের সবচেয়ে বড় শ্রমিক সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিকলীগ’ গঠন করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads