• বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭
ads
কে হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক

সংগৃহীত ছবি

রাজনীতি

কে হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক

  • হাসান শান্তনু
  • প্রকাশিত ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক কাকে করা হতে পারে, কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে এ বিষয়ে ঘনিষ্ঠজনদের ধারণা দিয়ে থাকেন দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার এ ধরনের ইঙ্গিত বা ধারণা এখনো পাননি দলের শীর্ষনেতারা। দলের সভাপতি এ নিয়ে কারো সঙ্গে এখন পর্যন্ত আলোচনাও করেননি। অন্যান্য বছরের সম্মেলনগুলোয় সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন, তা আগেভাগে আঁচ করা গেলেও চলমান শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে এবারের পরিবেশ যেন কিছুটা ভিন্ন। তবে দলের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন, এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ও নানা সমীকরণ থেমে নেই কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলেও।

ক্ষমতাসীন দলের আগামী কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আগ্রহী নন বলে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজেই এক অনুষ্ঠানে জানানোর পর আলোচনা এক ধরনের ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা এ বিষয়ে ধারণাগত নানা সমীকরণ মেলাচ্ছেন। কেউ কেউ আকারে-ইঙ্গিতে ব্যক্তও করছেন গণমাধ্যমের কাছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের ময়নাতদন্তও করছেন তারা। দলে তার ঘনিষ্ঠজনসহ প্রভাবশালী একটি মহল তাকে সাধারণ সম্পাদক পদে আবারো দায়িত্বে দেখতে আগ্রহী বলে বাংলাদেশের খবরকে জানায় নীতিনির্ধারক সূত্র।

কাদেরসহ সাধারণ সম্পাদক পদে পাঁচ থেকে ছয়জনের নাম এখন পর্যন্ত আলোচনায় আছে। তিনি এবার প্রার্থী না হলে ওই পাঁচ-ছয়জনের মধ্য থেকে কেউ একজন দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন, এটা নিশ্চিত করেই বলছেন কোনো কোনো শীর্ষনেতা। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নামও এবার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় আছে। তাদের মধ্য থেকে কার হাতে সভাপতির পরে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ সাধারণ সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব শেখ হাসিনা তুলে দেবেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে কিছু কারণ মিলিয়ে অনেকে মনে করেন, ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক পদে আবারো রাখা হতে পারে। অনেকে বলছেন, শুধু সভাপতি ছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য যে কোনো পদে পরিবর্তনের আভাস দলের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে আগেই নানাভাবে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে এবার নতুন মুখের সম্ভাবনাই বেশি।

সূত্রমতে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তনয়া শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের হাল ধরার পর থেকে গত প্রায় চার দশক ধরে প্রতিবার কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে দলের দ্বিতীয় শীর্ষ পদ সাধারণ সম্পাদক নিয়ে আলোচনা বেশি থাকে। আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ২১তম কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কে হচ্ছেন দলের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক, এ প্রশ্ন এখন খুব বেশি আলোচিত। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব কাউন্সিলরদের হলেও তারা বরাবরই এ দায়িত্ব তুলে দেন সভাপতির কাঁধে। দলের আগামী সাধারণ সম্পাদক কে হবেন, তা নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভাপতির সিদ্ধান্তের ওপর। সাধারণ সম্পাদক পদে সাম্প্রতিক অতীতে নির্বাচন হয়নি, সমঝোতার মাধ্যমেই নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক সূত্র বলছে, অতীতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব যারা পালন করেছেন, তাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও আবদুল জলিল এক মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বাকিরা এ পদে কয়েক মেয়াদে থেকেছেন। এক-এগারোর মতো বিশেষ পরিস্থিতি থেকে সৃষ্ট রাজনৈতিক দুর্যোগের কারণে জলিল এক মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলেও অনেকে মনে করেন। সাধারণ সম্পাদক পদে পাঁচবার দায়িত্ব পালন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন আহমদ তিনবার, জিল্লুর রহমান চারবার, আবদুর রাজ্জাক দুইবার, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দুইবার ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দুইবার। ওবায়দুল কাদেরও শুধু এক মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক। দলের অতীত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তাকে আবারো এ পদে রাখা হতে পারে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী দলকে চালাতে পারেন, এমন যোগ্যতা আছে এবং সততা, নিষ্ঠা ও দল চালানোর মতো নেতৃত্বের ক্ষমতা আছে— এমন কেউ এ দায়িত্ব পাবেন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘গত ৬ ডিসেম্বর দলের দপ্তর উপ-কমিটির বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের জানান, আসন্ন জাতীয় সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হচ্ছেন না। তিনি প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণায় আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এ পদে নতুন মুখ আসছে।’

সূত্র জানায়, দল ও সরকার আলাদা করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে সাধারণ সম্পাদক পদে রদবদল আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তখন এ পদে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে সাংগঠনিক দক্ষতাসম্পন্ন একজনকে, যিনি সরকারে নেই। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার পর দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির পদ থেকে বাদ পড়েন সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান নূর, অর্থ সম্পাদক আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইয়াফেস ওসমানসহ অনেকে। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরো গতি বাড়ানোর সঙ্গে সরকার ও দলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় এসব সিদ্ধান্ত নেয় দল। এবারো এমন চিত্র দেখা যেতে পারে।

এ ছাড়া গত তিন বছরে দলের সারা দেশে তৃণমূলে নিয়মিত কমিটি গঠন হয়নি। দলীয় কার্যক্রম অনেক এলাকায় ঝিমিয়ে পড়ে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা গত তিন বছরের মধ্যে তৃণমূলে কমিটি না হওয়া নিয়ে তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দলীয় কার্যক্রমে গতি আনতে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার গুঞ্জনও আছে। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরো গতি আনার পাশাপাশি যে কোনো পরিস্থিতি ও সরকারবিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে আসছে আওয়ামী লীগ।

জানা যায়, আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শুধু দলেই শেখ হাসিনার বিকল্প নেই, এমন নয়। রাষ্ট্র পরিচালনায়ও তার মতো দক্ষ, দূরদর্শী ও প্রাজ্ঞ নেতা দেশে নেই বলে মনে করেন নীতিনির্ধারকরা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগকে চান দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকরা। কয়েকবার অবসরের ঘোষণা দিলেও নেতাকর্মীদের দাবির মুখে দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা। এবারো তিনিই দলের সভাপতি থাকছেন তা প্রায় নিশ্চিত। আগামী জাতীয় সম্মেলনে দলের সভাপতি ছাড়া তাই অন্য যে কোনো পদে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads