• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ

ছবি : ইন্টারনেট

সোশ্যাল মিডিয়া

সিনেটরদের মুখোমুখি জাকারবার্গ

ফেসবুককে আরো নিরাপদ করার প্রতিশ্রুতি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১২ এপ্রিল ২০১৮

প্রায় আট কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য চুরির ঘটনায় মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে সিনেটরদের মুখোমুখি হয়েছেন ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। বুধবার বিচার ও বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ কমিটির ৪৪ সিনেটরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ শুনানিতে নানা প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে হয় তাকে। এ সময় তাকে সিনেটরদের তোপের মুখেও পড়তে হয়।

শুনানির শুরুর দিকে জাকারবার্গকে কিছুটা ভীত মনে হলেও যত সময় গড়াতে থাকে, ততই তাকে আত্মবিশ্বাসী হতে দেখা যায়। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময়ও জাকারবার্গের চোখে-মুখে এ অভিব্যক্তি দেখা গিয়েছিল।

কমিটির চেয়ারম্যান জন থুন শুনানির শুরুতে বলেন, ফেসবুকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টি যেন ‘দুঃস্বপ্নে’ পরিণত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়ভার জাকারবার্গেরই।

এ সময় জাকারবার্গ বলেন, ‘বর্তমানে প্রতিদিন যে ২২০ কোটি ব্যবহারকারী ফেসবুক ব্যবহার করেন, তাদের বেশিরভাগই সম্ভবত ফেসবুকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নীতি পুরোপুরি বোঝেন না।’

তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এ শুনানিতে জাকারবার্গ আরো বলেন, ‘আমাদের দায়িত্বের বিষয়ে আমরা খুব বেশি সচেতন ছিলাম না যা ছিল একটি বড় ভুল। এটা আমারই ভুল ছিল এবং আমি এর জন্য দুঃখিত। আমিই ফেসবুক চালু করেছিলাম, আমিই এটি পরিচালনা করি। এখানে যা কিছু ঘটে তার জন্য আমিই দায়ী।’

ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কীভাবে এই বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চান একজন সিনেটর। প্রশ্নের জবাবে জাকারবার্গ জানান, বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত চলাকালীন এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে রাজি না হলেও তথ্য চুরির ঘটনার জন্য সিনেটরদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

জাকারবার্গ জানান, শুধু নিজস্ব নীতিমালার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল না। আর এজন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঘিরে সরকারের তথ্য নিরাপত্তা আইনেও সমর্থন দিয়েছেন।

সিনেটরদের উদ্দেশে জাকারবার্গ বলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে ব্যবহারকারীদের কনটেন্ট এবং গোপনীয় তথ্য অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে আমরা যা করেছি তা যথেষ্ট ছিল না। একই কথা বলা যেতে পারে ভুয়া খবর, নির্বাচনে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ এবং ফেসবুকে ঘৃণাসূচক মন্তব্য ছড়ানোর ক্ষেত্রেও।’

শুনানিতে জাকারবার্গের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ। তিনি জানান, অনেক সময়ই রক্ষণশীলদের বিভিন্ন মতামত ফেসবুক সেন্সর করে থাকে।

এর জবাবে জাকারবার্গ বলেন, ‘রাজনৈতিক বক্তব্যে সম্পৃক্ত হওয়া কোনোভাবেই আমাদের লক্ষ্য নয়। ফেসবুককে সব ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে কথা বলার একটি প্ল্যাটফর্ম বানানোর জন্য আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান ৩৩ বছর বয়সী এ বিলিয়নিয়ার। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শুনানি চলাকালে কক্ষের ভেতরে ও বাইরে অনেককেই ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে। প্রতিবাদকারীদের একটাই দাবি ছিল। আর তা হলো ফেসবুকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং তথ্য নিরাপত্তা আরো জোরদার করা। অনেককেই ‘ফিক্স ফেসবুক’ লেখা টি-শার্ট পরে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads