• বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২ বৈশাখ ১৪২৭
ইউটিউবার হতে চান?

প্রতীকী ছবি

সোশ্যাল মিডিয়া

ইউটিউবার হতে চান?

  • অরণ্য সৌরভ
  • প্রকাশিত ০৫ এপ্রিল ২০২১

ইউটিউব ভিডিও শেয়ারিং-এর অন্যতম এক বিশাল সামাজিক মাধ্যম। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই আছেন যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করে এই সামাজিক সাইটে। ঝামেলামুক্ত এবং সহজ মাধ্যম হওয়ায় খুব দ্রুতই জায়গা করে নিয়েছে মানুষের মনে। এটা এখন এতটাই জনপ্রিয় যে, আজকাল বিজ্ঞাপন, নাটক কিংবা ডকুমেন্টারিগুলো শুধু টেলিভিশনকেন্দ্রিকই তৈরি হয় না; বরং ইউটিউবকেন্দ্রিক হতে শুরু করেছে দিনকে দিন। এছাড়া এই ইউটিউবকেই ব্যবহার করে অনেক ফ্রিল্যান্সার আয় করে ফেলছে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা। সেই বিবেচনায় যাদের স্বপ্ন ইউটিউবে কাজ করার, ক্যারিয়ার গড়ার তাদের জন্যই আজকের আয়োজন। ইউটিউবে নিবন্ধনভুক্ত ব্যবহারকারীরা সাইটে ভিডিওগুলো দেখতে, আপলোড করাসহ অন্যান্য নিয়ম মেনে বাকি সবকিছু করতে পারবে। এটি ব্যবহারকারী সবাই ভিডিওগুলো দেখতে পারবে। কিন্তু আপলোড করতে পারবে না, তবে ভিডিওগুলোতে মন্তব্য করতে পারবে। বয়স নির্ধারিত ভিডিওগুলো ১৮ বছর বয়সির নিচে কেউ দেখতে পাবে না। ফেব্রুয়ারি ২০১৭ পর্যন্ত, ইউটিউবে প্রতি মিনিটে ৪০০ ঘণ্টারও বেশি ভিডিও আপলোড করা হয়েছিল এবং এক বিলিয়ন ঘণ্টা দেখা হয়েছিল। ২০২০ সালের অক্টোবরের মধ্যে অ্যালেক্সা অনুসারে গুগলের পরেই ইউটিউব বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট। মে ২০১৯ পর্যন্ত, প্রতি মিনিটে ৫০০ ঘণ্টারও বেশি ভিডিও আপলোড করা হয়েছিল। বিজ্ঞাপনের আয়ের ভিত্তিতে, অনুমান করা হয় যে ইউটিউবের বার্ষিক আয় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইউটিউবে ক্যারিয়ার গড়তে সৃজনশীল বিষয়বস্তু নিয়ে যাত্রা শুরু করলে সহজে সফলতা দেখা দেবে। তবে শীঘ্রই ভাইরাল হওয়ার বা সফল হওয়ার জন্য আপনাকে অধ্যবসায়ী, ধৈর্য নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যেতে হবে। ​​এছাড়া নিয়মিত ভিডিও আপলোড করতে হবে। ইউটিউবে কীভাবে ক্যারিয়ার শুরু করবেন সে সম্পর্কিত কয়েকটি উপায় তুলে ধরছি।

সঠিক থিম নির্বাচন করা : শুরু করার আগে আপনাকে বাছাই করতে হবে, আপনি কী নিয়ে কাজ করতে চান? কারণ ইউটিউবে সফল হওয়ার পেছনে চ্যানেলের আইটেমের গুরুত্ব অপরিহার্য। জানতে হবে, ব্যবহারকারীরা কোন বিষয়ে আগ্রহী বা ব্যবহারকারীদের জন্য সুফল বয়ে আনছে। বিখ্যাত থিমগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো ড্রয়িং, নিউজ, সৌন্দর্য, স্বাস্থ্য, ফ্যাশন, ভ্রমণ টিপস, ব্লগ ইত্যাদি।

থিম আপনার হূদয়ের কথা বলে : যে-কোনো কাজই শুরুর আগে জানুন, দেখুন আপনি কী পারেন, কী জানেন বা আপনাকে দিয়ে কী সম্ভব। আপনি যদি সেই দিকটি নির্বাচন করতে পারেন তাহলে খুব সহজেই সফল হতে পারবেন। কারণ আপনার জানাশোনা কাজের মধ্যে প্রাণ থাকবে, বিরক্তি আসবে না। আর সেই সুযোগে স্বাভাবিকভাবেই আপনার শ্রোতা বা ভক্তদের কাছে আপনাকে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন।

কন্টেন্টে বৈচিত্র্য আনুন : আপনার কন্টেন্টটি সতেজ, প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়ভাবে দর্শকদের কাছে তুলে ধরুন। বিষয়বস্তু বা থিমের পাশাপাশি দর্শকদের ধরতে রাখতে যথাযথ সময় ব্যয় করে, স্ক্রিপ্ট লিখে, ভিডিও ধারণ করে এবং নিঁখুত এডিটের পর দর্শকদের সামনে প্রেজেন্ট করুন; তাতে সফলতার আশীর্বাদ হয়ে দর্শকের সংখ্যা বেড়েই চলবে।

কী লাগবে : নিজের থিমকে আকর্ষণীয় করে প্রদর্শনের জন্য অডিও/ভিডিওর সাথে কখনো আপস করবেন না। ইউটিউবে সফল ক্যারিয়ার গড়ার জন্য একটি ভালো মানের ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, ট্রাইপড, লাইট ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। আর জানতে হবে ভিডিও এডিটিং, সাথে রাখতে হবে সে অনুযায়ী ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার।

চলচ্চিত্র নির্মাতা হয়ে উঠুন : লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন-কেবল চলচ্চিত্র শুটিংয়ে সীমাবদ্ধ নয়। আপনিও হয়ে উঠুন একজন দক্ষ নির্মাতা। আকর্ষণীয় চিত্রগ্রহণ, এডিটিং, স্মার্টনেস ভিডিওটি সবাইকে দেখতে বাধ্য করে। আর  অনেক দূর এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর এতে ভালো করার জন্য ফটোগ্রাফি এবং ফিল্ম-মেকিংয়ের কিছু স্বল্পমেয়াদি কোর্স করতে পারেন।

আয়নার মতো ডিজাইন : আপনার ইউটিউব চ্যানেল প্রোফাইল, কভার স্বচ্ছ আয়নার মতো করে সাজিয়ে তুলুন, এটি আপনার সৃজনশীলতা এবং ব্যক্তিত্বকে প্রতিফলিত করে তুলবে। আপনার চ্যানেলটিকে দর্শনীয়ভাবে আকর্ষণীয় করে তুলুন, যাতে ব্যবহারকারী আপনার মাঝে আঠার মতো আটকে থাকে।

আকর্ষণীয় শিরোনাম ও ট্যাগ : আপনার ভিডিওর শিরোনামগুলো আকর্ষণীয় হওয়া উচিত, যাতে ভিডিও দেখার জন্য দর্শকের মনে কৌতূহল জাগে। এছাড়া ভিডিওগুলো ভাইরালের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি ট্যাগ বা কিওয়ার্ডগুলো। এগুলোর সঠিক ব্যবহার ভিডিওগুলোকে সবাইকে দেখতে বাধ্য করতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়া সেরা বন্ধু : দর্শকদের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং তাদের আরো কাছাকাছি যাওয়ার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া। সোশ্যাল মিডিয়াতে ফ্যান পেজ খুলুন এবং ফ্যানদের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকুন। আপনার ভিডিও শেয়ার করুন।

দর্শকদের সাথে থাকুন : আপনার দর্শকরা আপনার ক্যারিয়ারের ভাগ্য স্থির করে। আপনার সাথে দর্শকদের যুক্ত রাখার ক্ষেত্রে কমেন্ট এবং কমেন্টের রিপ্লাই দিন নিয়মিত। মাঝেমাঝে লাইভের মাধ্যমে দর্শকদের সাথে আড্ডা দিন বা মিলিত হন এবং তাদের অভিবাদন জানান সাথে থাকার জন্য। তাহলে দেখবেন আপনার দর্শকরা আরো সক্রিয় হয়ে আপনাকে ফলো করতে শুরু করছে।

কীভাবে অর্থোপার্জন : কাজের স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিজেকে প্রকাশ করার মাধ্যমে আপনি যখন ইউটিউবের নিয়মনীতি মেনে নির্ধারিত স্কোর করে ফেলেছেন তখন অর্থ উপার্জনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ইউটিউবার হিসেবে আপনি কীভাবে অর্থ উপার্জন করতে পারেন তার কয়েকটি উপায়-

১. যথেষ্ট পরিমাণ দর্শকের মন জয় করার পর, আপনি ইউটিউবের সাথে অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাবেন। তারপর ইউটিউব আপনার ভিডিওতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করার অনুমতি দেবে এবং প্রতিবার দর্শকরা আপনার ভিডিও দেখলে সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

২. আপনি যখন অনেক অনেক দর্শকের সাথে যুক্ত হবেন, তখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্র্যান্ডের কাছে পরিচিত হয়ে উঠবেন। এরপরে ব্র্যান্ডগুলো তাদের পণ্যগুলির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে নিয়ে আসবে। আর আপনি এর বিনিময়ে পাবেন অর্থ।

ইউটিউব তাদের জন্য আশীর্বাদ যারা এটিকে বড় করে তোলার স্বপ্ন দেখেন এবং তাদের সৃজনশীলতাকে অত্যন্ত উজ্জ্বলতার সাথে তুলে ধরেন। শেষকথা, যদি আপনার মনে হয় যে এগুলো আপনার মধ্যে রয়েছে তবে দ্বিধাদ্বন্দ্বে না থেকে আজই শুরু করুন ইউটিউবিং।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads