• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

ফুটবল

রুগ্ন মোহামেডানকে তুলবে কে?

  • কবিরুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ২৫ জানুয়ারি ২০১৮

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নাম। মতিঝিলপাড়ার ক্লাব দলটি ছাড়া ফুটবলের কথা যেনো ভাবাই যায় না। অথচ সেই দলটি আজ ফুটবলের যে কোন টুর্নামেন্টের শিরোপা দেখা পাচ্ছে না পাঁচ বছর ধরে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে কোটি টাকার সুপারকাপ ফুটবলের শিরোপা উৎসব করেছিল সাদা-কালো শিবিরের সমর্থকরা। এরপর থেকেই শিরোপা খড়া। স্বাধীনতা কাপ, পেশাদার লিগ, ফেডারেশন কাপ, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ, শেখ কামাল ফুটবল টুর্নামেন্ট- কোন আসরেই সুবিধে করতে পারছে না। শূণ্যহাতেই ফিরতে হচ্ছে। সমর্থকরাও যেনো দিন দিন ভুলে যাচ্ছেন শিরোপা উৎসবের কথা। রুগ্ন এ মোহামেডানকে বাঁচাতে যেনো যেনো কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। ক্লাবটির কর্মকর্তারা ব্যস্ত নিজেদের কাজ নিয়ে।
মোহামেডানের চিড়প্রতিদ্বন্দ্বি ঢাকা আবাহনী যখন বছর বছর শিরোপা উৎসবে রঙ্গীন হচ্ছে। সমর্থকরা ঢোল-বাদ্যের তালে তালে নেচে-গেয়ে স্টেডিয়াম ও ক্লাব ভবন মাতিয়ে রাখছেন। তখন মতিঝিলপাড়ার ক্লাব দলটি কোন আসরের সেমি ফাইনাল কিংবা কোন লিগের পাঁচ-ছয় নম্বরে থেকেই সন্তুষ্টু থাকছে। সর্বশেষ চলতি মৌসুমের শেষ ফুটবল আসর ফেডারেশন কাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই লজ্জাজনক বিদায় নিতে হয়েছে মোহামেডানকে। ‘এ’ গ্রুপে থাকা এমিলি-তখলিছরা বাদ পড়লেও একই গ্রুপে থাকা রহমতগঞ্জ ও শেখ জামাল শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী, সমর্থক বেষ্টিত ক্লাব দলটির যে কতোটা অধ:পতন হয়েছে, সেটা এ ফুটবল আসরের ফলাফলই বলে দিচ্ছে।
দেশের সর্বোচ্চ মর্যাদার ফুটবল আসর পেশাদার ফুটবল লিগ চালু হয়েছে ২০০৭ সালে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা’র প্রেসক্রিপশনুযায়ী বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এ লিগের প্রবর্তন করে। এই লিগের শিরোপার স্বাদ এখনো পায়নি সাদা-কালো শিবির। অথচ আবাহনী দশবারের মধ্যে ছয়বারই শিরোপা জয়ের স্বাদ নিয়েছে। পেশাদার লিগে মোহামেডানের সর্বোচ্চ অর্জন রানার্স আপ ট্রফি। শুধু ফুটবলেই নয়, হকিতেও বেহাল দশা মতিঝিলের দলটির। মোহামেডানের এমন রুগ্ন অবস্থা দেখে হতাশ সাবেক ফুটবলার ও কর্মকর্তারা। ক্রিকেটেও ভালো অবস্থানে নেই সাদা-কালোরা।
এমন ধ্বংসস্তূপ থেকে মোহামেডানকে টেনে তুলে আবারও সাফল্যের কক্ষপথে ফেরাতে গত বছর একাট্টা হয়েছিলেন ক্লাবের সাবেক সংগঠক ও খেলোয়াড়রা। দুর্দশাগ্রস্ত ক্লাবটিকে আলোর দিশা দেখাতে সেদিন মনিরুল হক চৌধুরী, সাবেক তারকা ফুটবলার সালাম মুর্শেদী, বাদল রায়, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, ইলিয়াস হোসেন, সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালী সাব্বির, কামরুন নাহার ডানা, সাবেক পরিচালক মোস্তাকুর রহমানরা একত্রিত হয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি। কারন কর্মকর্তাদের অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত মোহামেডানের একেবারে বেহাল দশা এখন। দুই ভাগে বিভক্ত নীতিনির্ধারকরা।
ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি গ্রুপ ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নানা অজুহাতে তারা নির্বাচন দিচ্ছে না। এক সময়ের নিবেদিতপ্রাণ অনেক সংগঠককেও এখন ক্লাবে তেমন দেখা যায় না। খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের পদচারণায় মুখর থাকা মোহামেডানের বারান্দায় সেই দৃশ্য এখন শুধুই অতিত। নাম প্রকাশ না করারশর্তে মোহামেডানের সাবেক এক কর্মকর্তারা জানান, ‘কর্মকর্তাদের ব্যর্থতার কারনে স্বাধীনতার পর ঢাকা লিগের ১২ বারের চ্যাম্পিয়নরা পেশাদার লিগের দশ আসর কেটে যাওয়ার পরও শিরোপাশূন্য! বিশ্বাস করতেই কষ্ট হয়। মোহামেডান-ভক্তদের কাছে এর চেয়ে হতাশাজনক আর কী হতে পারে! ক্লাবের চলমান ব্যর্থতার জন্য ক্ষমতা ‘আঁকড়ে’ থাকা কর্মকর্তাদের দায়ী।’

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads