• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

সালাহকে ঘিরে সতীর্থদের উল্লাস

ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল

ফাইনালের পথে লিভারপুল

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২৬ এপ্রিল ২০১৮

রোমা আফসোসই করতে পারে। গত মৌসুমে মোহাম্মদ সালাহকে বিক্রি করে দেয় তারা। এবার সেই সালাহ তাদেরকে তছনছ করে দিলেন। সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে নিজে করলেন দুই গোল। সতীর্থদেরকে দিয়ে করালেন আরো দুই গোল। খেলার ৭৫ মিনিটে ‘মিসরীয় রাজা’ যখন মাঠ থেকে উঠে যান, তখন ৫-০ গোলে এগিয়ে লিভারপুল। তার মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার পর যেন একটু স্বস্তি পেল রোমা। দুটি গোল শোধ করে দেয়। তবুও ৫-২ গোলে জিতে ফাইনালের পথে এগিয়ে যায় লিভারপুল।

মঙ্গলবার অ্যানফিল্ডে প্রথমার্ধে দুটি গোল করেন সালাহ। ব্রাজিলিয়ান তারকা রবার্তো ফিরমিনোও দুই গোল করেন। অপর গোলটি করেছেন আরেক তারকা ফরোয়ার্ড সাদিও মানে। যদিও মানের বেশ কয়েকটি সহজ গোলের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কারণে জয়ের ব্যবধান বাড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রথম লেগে ৪-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ম্যাচ উপহার দিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল রোমা। আগামী ২ মে নিজেদের মাঠে খেলতে নামার আগে বার্সার বিপক্ষে স্মৃতি অবশ্যই বুকে নিয়েই মাঠে নামবে রোমা। বিশেষ করে মঙ্গলবার শেষ ১০ মিনিটে এডিন জেকো ও দিয়েগো পেরোত্তির গুরুত্বপূর্ণ দুটি অ্যাওয়ে গোল কিছুটা হলেও তাদেরকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

ম্যাচ শেষে রোমা কোচ ইউসেবিও ডি ফ্রান্সেসকো বলেছেন, ‘এই গোল দুটি আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। এর কারণেই ফিরতি ম্যাচটিতে লড়াই করার আশা থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি ফুটবলে সবকিছুই সম্ভব। বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের থেকে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ম্যাচ। কিন্তু সবকিছুর পরও জয়ের লক্ষ্যেই আমরা মাঠে নামব।’

লিভারপুল তাদের সুযোগগুলো নষ্ট করার পাশাপাশি শেষের দিকে রক্ষণভাগের ব্যর্থতায় পিছিয়ে পড়লেও ১১ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলার পথে ভালোভাবেই এগিয়ে রয়েছে। লিভারপুল ম্যানেজার জার্গেন ক্লপ বলেছেন, ‘অবশ্যই আমরা যদি ৫-০ কিংবা ৫-১ গোলে জিততাম তবে আরো বেশি খুশি হতাম। কিন্তু ৫-২ ব্যবধানও দারুণ ফলাফল। আমরা সেখানে যাব ও নিজেদের যথাসাধ্য চেষ্টা করব। আমরা যে গোলগুলো করেছি তার থেকে আরো বেশি গোলের সুযোগ পেয়েছিলাম। এটাই এই ম্যাচের ইতিবাচক দিক।’

ম্যাচ শুরুর ১৮ মিনিটেই চেম্বারলেইনের ইনজুরি ক্লপকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল। ইনজুরির কারণে মাঠ ত্যাগ করা এই ইংলিশ মিডফিল্ডারের সামনে এখন বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরের মিনিটেই আলেকজান্ডার কোলারভের দূরপাল্লার শট লোরিস করিয়াসকে পরাস্ত করলেও ক্রসবারে লেগে ফেরত আসে। কিন্তু পরমুহূর্তেই লিভারপুল নিজেদের ফিরিয়ে এনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের করে নেয়। ফিরমিনোর পাসে মানে ম্যাচের প্রথম সুযোগটি নষ্ট করেন।

এই নিয়ে রোমা চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগের অ্যাওয়ে ম্যাচে পরাজিত হলো। এই সময় তারা ১৩টি গোল হজম করেছে। গত বছর ৪২ মিলিয়ন ইউরোতে লিভারপুলের কাছে ছেড়ে দেওয়া সালাহই সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে প্রথম গোলটি করেন। ৩৫ মিনিটে গোল এরিয়ার মধ্য থেকে দারুণ এক কার্লিং শটে গোলপোস্টের টপ কর্নারে বল পাঠিয়ে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন সালাহ। ব্রাজিলিয়ান এক নম্বর গোলরক্ষক অ্যালিসন দারুণ ফর্মে থাকলেও সালাহর এই গোলে তার কিছুই করার ছিল না। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে অনেকটা এগিয়ে আসা অ্যালিসনকে পরাস্ত করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সালাহ।

দ্বিতীয়ার্ধের ১১ মিনিটে চ্যাম্পিয়নস লিগের হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েও সতীর্থ মানের দিকে বল বাড়িয়ে দেন। সেই পাস থেকে মানে কোনো ভুল করেননি। আর এর মাধ্যমে সালাহ আরো একবার প্রমাণ করেছেন কেন তাকে বর্তমানে ফুটবলের অন্যতম স্বার্থপরহীন ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৬১ মিনিটে তার ক্রসেই ফিরমিনো দলের পক্ষে চতুর্থ গোলটি করেছেন। ৬৮ মিনিটে জেমস মিলনারের কর্নারে ফিরমিনোর হেডে স্বাগতিকরা ৫-০ গোলে এগিয়ে যায়। এটি ছিল চলতি মৌসুমে লিভারপুলের ভয়ঙ্কর ত্রয়ী আক্রমণভাগের সব মিলিয়ে ৮৮তম গোল।

ম্যাচ শেষের ১৫ মিনিট আগে সালাহকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়ার ক্লপের সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে দেখা দেয়। সালাহর অনুপস্থিতিতে ৮১ মিনিটে জেকো রোমাকে প্রথম গোল উপহার দেন। এটি ছিল মৌসুমে তার ২১তম গোল। এরপর ৮৫ মিনিটে মিলনারের হ্যান্ডবল থেকে প্রাপ্ত পেনাল্টিতে পেরোত্তি দ্বিতীয় গোল করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads