• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

ফুটবল

মেসি-রোনালদো হতে চায় রোহিঙ্গা শিশুরা

  • মাহাবুবুর রহমান, কক্সবাজার
  • প্রকাশিত ০৯ মে ২০১৮

রোহিঙ্গা শিশুরাও মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিংবা হালের নেইমার হতে চায়। সুবিধাবঞ্চিত হাজার হাজার রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের ফুটবল মাঠে ফেরাতে এগিয়ে আসছে এশিয়ান ফুটবল কাউন্সিল (এএফসি) ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

কিন্তু বাধা ফুটবল খেলার প্রধান অনুষঙ্গ মাঠ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এএফসি ও বাফুফের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল উখিয়ায় কুতুপালং শিবির পরিদর্শন করেছে। প্রতিনিধিদলটির সদস্যরা এ সময় রোহিঙ্গা শিশুদের ফুটবলের প্রবল আগ্রহের কথা খুবই মনোযোগ দিয়ে শোনেন। রোহিঙ্গা শিশু কালাম, আনিস ও ওসমানসহ উপস্থিত প্রায় শতাধিক শিশু থেকে জানতে চাওয়া হয় তারা ফুটবল খেলতে ভালোবাসে কি না। উত্তরে তারা বলে- তারা সবাই এক সময় তাদের দেশ মিয়ানমারের খোলা মাঠে ফুটবল খেলত। জীবন বাঁচার তাগিদে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে ফুটবলে লাথি মারার জিনিসটি ভুলতে বসেছে। সুযোগ পেলে তারা প্রতিদিন ফুটবল খেলবে। তারাও মেসি, রোনালদো ও নেইমারের মতো বিশ্বসেরা তারকা ফুটবলার হতে চায়।

পরিদর্শন শেষে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এএফসি প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ডেভিড মাইকেল বুরজা বলেন- ফুটবল হচ্ছে একটি বিশাল শক্তি। ফুটবলের সাইড ভিউ থেকে সুবিধাবঞ্চিত রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে ফুটবল ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এডুকেশন ও হেলদি লাইফ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী এএফসি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও কক্সবাজার জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে সঙ্গে পাব বলে আশা করছি। পরিদর্শক দলের সদস্য এএফসি সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটির প্রধান ডা. আনাতোলি রঙ্গনাথন বলেন- স্পোর্টস মানবিকতাকে পাশ কাটাতে পারে না। এশিয়ার ৪৭টি দেশের সংগঠন এএফসি রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের ফুটবল সুবিধা দিতে চায়। তাদের মধ্যে ফুটবল, জার্সি, ফিড দেওয়ার কথা ভাবছে এএফসি। বিষয়টি নিয়ে আমরা ইউএনএইচসিআর ও রেডক্রসের মতো রোহিঙ্গা শিবিরে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাব। বাফুফে জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবু নাঈম সোহাগ বলেন, এএফসির মানবিক প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে আমরা সাইড ভিজিট করব। তারপর কঠিন কাজটি কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সে লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করব। আশা করি, জনপ্রিয় ফুটবলের শক্তির জায়গা থেকে আমরা রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের মুখে হাসি ফোটাতে পারব। পাশাপাশি রোহিঙ্গা চাপে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় কমিউনিটির সুবিধা নিয়েও আমরা যৌথভাবে কাজ করতে নীতিগত সম্মত হয়েছি। এদিকে প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন বাফুফে সদস্য বিজন বড়ুয়া, কক্সবাজার জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী, সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন শাহীন, কোষাধ্যক্ষ ফরহাদুজ্জামান ফরহাদ। এদিকে এর আগে সকাল ৯টায় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিশেষ বিমানযোগে কক্সবাজার বিমানবন্দরে উপস্থিত হন। পরে সড়কপথে রোহিঙ্গা শিবিরে যান। বিকাল সাড়ে ৪টায় বিমানযোগে প্রতিনিধিদলটি ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads