• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫
ads
ফ্রান্স-বেলজিয়াম মহারণ আজ

ফ্রান্স-বেলজিয়াম ফুটবল টিম ২০১৮

ছবি : ইন্টারনেট

ফুটবল

ফ্রান্স-বেলজিয়াম মহারণ আজ

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১০ জুলাই ২০১৮

২০১৮ বিশ্বকাপে শুরু থেকে চমক। বিপদে ফেভারিট দলগুলো। পরে হিসাবটা ভিন্ন। যেখানে প্রবল আধিপত্য ইউরোপিয়ানদের। শেষ চারের আগেই ল্যাটিনদের বিদায়। ইউরোপে সর্বশেষ বিশ্বকাপ হয় ১৯৯৮ সালে। সেবার অল-ইউরোপ ফাইনাল হয়নি। ২০ বছর পর হলো অল-ইউরোপ সেমিফাইনাল। শেষ চারে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড হেরে গেলে সম্পূর্ণ নতুন দুটি দলের ফাইনাল দেখবে বিশ্ব। সেই পথে এগিয়ে যেতে আজ রাতে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম। সেন্ট পিটার্সবার্গে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় শুরু হবে দুই দলের মহারণ।

বিশ্বকাপে মাত্র একবারই সেমিফাইনাল খেলেছে বেলজিয়াম। সেটি ১৯৮৬ সালে। সেবার হেরে যায় ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার কাছে। তৃতীয় স্থানের লড়াইয়ে লাভ হয়নি। ফ্রান্সের কাছে হার। তবে এবারের বেলজিয়াম অনেক শক্তিশালী একটি দল। গত ২৪ ম্যাচে তারা হারেনি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আছে তৃতীয় স্থানে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফ্রান্স অনেক এগিয়ে। মোট ১৬ বার অংশগ্রহণ করে এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো সেমিতে খেলছে। এর আগের পাঁচবারের মধ্যে দুবার ফাইনাল খেলে। ১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে হয় চ্যাম্পিয়ন। সর্বশেষ ২০০৬ সালে ফাইনালে ইতালির কাছে হারে টাইব্রেকারে।

এবার দিদিয়ের দেশমের অধীনে তুখোড় দল ফ্রান্স। আক্রমণভাগে গ্রিজম্যান ও এমবাপে যেকোনো দলকে পরাস্ত করতে সক্ষম। ইতোমধ্যে তাদের হাতে বিদায় নিয়েছে সাবেক দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে। ফরাসিরা সর্বশেষ ১৯৮৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে হারে। এরপর দুবারই শেষ চারের বাধা পার হয়। এবার বেলজিয়ামকে হারাতে পারলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সাত নম্বরে থাকা দলটি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপের মিশন শুরু করে ফ্রান্স। কোনো ম্যাচে হারেনি। যদিও গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডেনমার্কের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে। তবে শেষ ষোলোতে মেসির আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে হারায়। শেষ আটে উরুগুয়ের বিপক্ষে জয় পায় ২-০ গোলে। সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে মোট নয়বার বল জড়ায়। সেখানে নিজেরা হজম করে মাত্র চার গোল।

বেলজিয়ামও গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়। পূর্ণ নয় পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোর টিকেট কাটে তারা। কিন্তু জাপান তাদের হূদয়ে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। প্রথমে দুটি গোলে এগিয়ে যায়। সেখান থেকে বেলজিয়াম ঘুরে দাঁড়ায়। তিন গোল দিয়ে শেষ আটে নাম লেখায়। সেমিতে উঠতে তারা ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলকে হারায় ২-১ গোলে। প্রতিপক্ষের জালে তারা ১৪ বার বল জড়ায়। সেখানে গোল হজম করে মাত্র পাঁচটি।

মুখোমুখি লড়াইয়ে দল দুটি রেকর্ড গড়ে। এখন পর্যন্ত ৭৪ বার তাদের দেখা হয়। হার-জিতের পরিসংখ্যানে এগিয়ে বেলজিয়াম। তাদের জয় ৩০টি। ফ্রান্সের জয় ২৪টি। বাকি ১৯ ম্যাচ ড্র। বিশ্বকাপে মোট দুবার দেখা হয়। দুবারই জয়ী ফ্রান্স। বিশ্বকাপে সর্বশেষ ১৯৮৬ সালের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয় পায় ফ্রান্স। তবে সব মিলিয়ে সর্বশেষ লড়াইয়ে জয়ী বেলজিয়াম। ২০১৫ সালে এক প্রীতি ম্যাচে ৪-৩ গোলে জয় পায় হ্যাজার্ড-লুকাকুরা।

বেলজিয়ামের কোচ মার্টিনেজ সেমির লড়াইয়ের জন্য থমাস মিউনিয়েরকে পাচ্ছেন না। কারণ দুটি হলুদ কার্ড দেখায় এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি। বিপরীতে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকার পর ফ্রান্স দলে ফিরছেন ব্লেইস মাতুইদি। আক্রমণভাগে গ্রিজম্যান, এমবাপে, পল পগবারা আস্থা জোগান ফরাসি কোচ দেশমকে। তেমনি বেলজিয়াম কোচ পাখির চোখ করে আছেন হ্যাজার্ড, ব্রুইনে ও লুকাকুদের দিকে। তারা জ্বলে উঠলেই প্রথমবারের মতো ফাইনালের টিকেট মিলবে বেলজিয়ামের। হয়ে যাবে ইতিহাস। তবে বেলজিক গতি আটকাতে সব ধরনের কৌশলই প্রয়োগ করবে ফ্রান্স শিবির। সব মিলিয়ে ধুন্ধুমার একটি সেমিফাইনাল ম্যাচ হতে যাচ্ছে পিটার্সবার্গে, যা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads