• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads
ক্রোয়েশিয়া ফুটবলের রূপকথার গল্প

ক্রোয়েশিয়ার উন্নতির ধারা যেন হার মানিয়েছে রূপকথার গল্পকেও

ছবি : ইন্টারনেট

ফুটবল

ক্রোয়েশিয়া ফুটবলের রূপকথার গল্প

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১৩ জুলাই ২০১৮

ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় থাকলে যেকোনো কাজই যে সম্ভব তা বিশ্ব ময়দানে আবারো প্রমাণ করেছে ক্রোয়েশিয়া। মাত্র ২৫ বছরের ব্যবধানে একটি দল কীভাবে তরতর করে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে যায়, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ক্রোয়েটরা। ১৯৯৩ সালে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফার সদস্যপদ লাভ করা দলটি আজ বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মতো সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের পরাস্ত করে আজ তারা শিরোপার ঘ্রাণ নিতে শুরু করেছে। বিশ্ব ফুটবল আজ কুর্নিশ জানাচ্ছে ক্রোয়েশিয়াকে। তাদের উন্নতির ধারা যেন হার মানিয়েছে রূপকথার গল্পকেও।

এক সময় যুগোস্লাভিয়ার সঙ্গে একীভূত থাকা দেশটি ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। দুই বছর পর ফিফা ও ইউরো ফুটবলের অভিভাবক উয়েফার সদস্যপদ লাভ করে ক্রোয়েশিয়া। তবে আন্তর্জাতিক ময়দানে তাদের লড়াই শুরু হয় এক বছর আগেই। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামে তারা। ওই ম্যাচে ১-০ গোলে হারতে হয় ক্রোয়েশিয়াকে। এরপরই মূলত তাদের উন্নতি শুরু। যে দলটির কাছে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ম্যাচে হারতে হয়েছিল, সেই অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র পাঁচ বছর পরই নিজেদের মাটিতে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়।

তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, ফিফার সদস্যপদ পাওয়ার মাত্র ছয় বছরের মধ্যেই বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ইউরোপ অঞ্চল থেকে। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে প্রথম আসরেই শেষ চারে জায়গা করে নেয় তারা। তবে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে আর পেরে ওঠেনি তারা। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হারতে হয়েছিল। তবে স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ২-১ গোলে পরাজিত করে ঠিকই আলোচনায় উঠে আসে ক্রোয়েটরা। ওই আসরে দলটির ফরোয়ার্ড ডেভর সুকার জিদান-রোনাল্ডোদের মতো তারকা ফুটবলারদের পেছনে ফেলে জিতে নিয়েছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার।

ফ্রান্স বিশ্বকাপ থেকেই মূলত তাদের ফুটবল উন্নতির গল্পটা নতুন করে রচিত হয়। প্রথমবার অংশ নিয়ে তৃতীয় হওয়া দলটিকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তরতর করে উন্নতি হয়েছে র্যাঙ্কিংয়ে। শুরুতে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১২৫ নম্বরে থাকা দলটি ফ্রান্স বিশ্বকাপের পর এক লাফে চলে আসে তৃতীয় স্থানে। বর্তমানে তারা ২০ নম্বর স্থানে রয়েছে। রূপকথার গল্পের মতো সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া দলটি ২০১০ সালের ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেনি। সেবার তারা বাছাইপর্বের বাধা টপকাতে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে বসে থাকেনি। নিজেদের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে আবারো ফিরে আসে ব্রাজিল বিশ্বকাপে। নেইমার-মার্সেলোদের দেশেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি লুকা মডরিচ-মানজুকিচদের দল। কিন্তু চার বছর পর এসেই নিজেদের সামর্থ্য আর শক্তির জানান দিয়ে পাদপ্রদীপের আলোর নিচে চলে এসেছে দলটি।

চলতি আসরেও ক্রোয়েশিয়াকে ফেভারিট মানতে রাজি ছিল না প্রতিপক্ষরা। ‘আন্ডারডগ’ হিসেবেই বিবেচনায় রেখেছিল সবাই। কিন্তু সেই দলটিই যে আজ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলছে! ‘ডি’ গ্রুপে থাকা ক্রোয়েটরা নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ‘সুপার ঈগল’খ্যাত নাইজেরিয়াকে ২-০ গোলে পরাস্ত করে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করে। এরপর সাবেক চ্যাম্পিয়ন, হট ফেভারিট আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করে দ্বিতীয় রাউন্ড। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও ছিল অপরাজিত। নবাগত আইসল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোতে ঠাঁই করে নেয় ক্রোয়েশিয়া।

দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায় ডেনমার্কের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে টাইব্রেকারে গিয়ে (৩-২) জয় পায় তারা। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালেও ভাগ্য তাদের দারুণভাবে সঙ্গ দেয়। স্বাগতিক রাশিয়ার বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করায় এ ম্যাচও শেষ হয় টাইব্রেকারে। সেখানে আবারো জয় ক্রোয়েশিয়ার। আর বুধবার রাতের ইতিহাস তো সবারই জানা। ইংল্যান্ডের মতো ফেভারিট দলকে ২-১ গোলে ধরাশায়ী করে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেয় বিশ্ব ফুটবলের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে। আগামী ১৫ জুলাই আরেক সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নামবে ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ সালে এই ফ্রান্সের কাছেই সেমিফাইনালের লড়াইয়ে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল ক্রোয়েটদের। এখন দেখার বিষয় মডরিচ-মানজুকিচরা দুই দশক আগের হারের প্রতিশোধ নিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসকে নতুন করে রাঙাতে পারেন কি না?

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads