• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
হতাশার গেমস বাংলাদেশের

একরাশ দুঃখ নিয়ে শূন্য হাতেই ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে

সংরক্ষিত ছবি

খেলা

হতাশার গেমস বাংলাদেশের

  • প্রকাশিত ২৯ আগস্ট ২০১৮

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত এশিয়ন গেমসের গত কয়েকটি আসর থেকে পদক নিয়েই দেশে ফিরেছিল বাংলাদেশ। বিশেষ করে কাবাডিতে পদকটা ছিল নিশ্চিত। কিন্তু এবার শুধুই হতাশা। একরাশ দুঃখ নিয়ে শূন্য হাতেই ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেওয়া লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা কোনো ইভেন্টেই আশাব্যঞ্জক সফলতা অর্জন করতে পারেনি। ব্যক্তিগত ইভেন্টগুলোতে ছিল লজ্জাজনক পারফরম্যান্স। ট্র্যাকে বা কোর্টে, সব জায়গাতেই অ্যাথলেটরা ছিলেন বিবর্ণ, যা শুধু লজ্জাতেই ফেলেছে দেশকে। বিশেষ করে সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, শুটিং, ভারোত্তোলন, গলফ, রেসলিং ও রোয়িংয়ে তো শুরুতেই বাদ পড়েছেন। চূড়ান্ত পর্বের লড়াইয়ে যোগ্যতাও অর্জন করতে পারেননি। তবে পদক না পেলেও এবার জাকার্তায় এসে নিজেদের উন্নতির গ্রাফটা ঠিকই প্রমাণ হয়েছে ফুটবল, হকি আর আরচারি ইভেন্টে। আর সম্ভাবনাময় ইভেন্ট কাবাডিতে (মহিলা) গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়ে নিজেদের জাতীয় খেলার অবস্থা যে কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, সেটাই প্রমাণ করেছেন মালেকারা।

চলতি এ আসরের ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেন লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক এবং কর্মকর্তা মিলে বাংলাদেশ ক্রীড়া দলের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৪৪ জন। বিশাল এ বহর নিয়ে বেশ কয়েক ধাপে জাকার্তায় এসেছিল তারা। অথচ গেমস শেষ হওয়ার আগেই অধিকাংশ ক্রীড়াবিদ ফিরেছেন দেশে। ইন্দোনেশিয়ায় এখন হকি দল ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) কর্মকর্তারা ছাড়া আর কেউ নেই। হকি ইভেন্টেও পদকের কোনো সম্ভাবনা নেই। জেগে আছে শুধু স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জয়ের আশা। সেটাও পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠ স্থানের জন্য। ১৪টি ইভেন্টে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ একটি পদকও দেশে নিয়ে ফিরতে পারেনি। এটা যে কতটা লজ্জা আর কষ্টের, সেটা হয়তো অনুধাবন করতে পারেননি বিওএ কর্মকর্তারা।

কাবাডি ইভেন্টে প্রতিবারই একটা পদক অর্জন করে বাংলাদেশ। আগের আসরগুলোতে নিদেনপক্ষে একটি ব্রোঞ্জ এলেও এবার একেবারেই শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে। তিন খেলার সবক’টিতে হেরে বিদায় নিয়েছে চার বছর আগের ব্রোঞ্জজয়ীরা। অন্যদিকে পুরুষ কাবাডি দল কিছুটা সম্ভাবনা জাগালেও শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। সাঁতার থেকে পদকের স্বপ্ন না দেখলেও নিজেদের উন্নতিটা প্রমাণ করবেন মাহফিজুর রহমান সাগর ও খাদিজা আক্তার বৃষ্টি- এমনটাই প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু হিটেই বাদ পড়েছেন দেশসেরা এ দুই সাঁতারু। সাগর তো ২০০ মিটারে পুলেই নামেননি অনুশীলন করতে না পারার দোহাই দিয়ে।

শুটিং রেঞ্জেও গ্রাস করেছিল হতাশা। দেশসেরা শুটাররা ইন্দোনেশিয়া এসে পদক জয় তো দূরের কথা, নিজেদের সেরাটাও দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আবদুল্লাহ হেল বাকী, রিসালাতুল ইসলাম, উম্মে জাকিয়া সুলতানা, শারমিন আক্তার রত্নারা হতাশ করেছেন পালেম্বাংয়ের কাজাবারিং শুটিং কমপ্লেক্সে। এবারের গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্চপাস্টে লাল-সবুজের পতাকা ছিল যে অ্যাথলেটের কাঁধে, সেই মাবিয়ার পারফরম্যান্স সবচেয়ে বাজে। নিজেকে ছাড়িয়ে যেতেও পারেননি তিনি। দেশসেরা এ ভারোত্তোলক ব্যর্থ হয়েছেন স্ন্যাচ আর ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ইভেন্টে। বার বার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সামর্থ্যের অধিক ভার তুলতে ব্যর্থ হন গৌহাটি এসএ গেমসে সোনা জেতা এই তারকা ভারোত্তোলক। বাস্কেটবলের অবস্থা ছিল আরো করুণ। টানা দুই ম্যাচে হেরেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের। কুস্তির শুরুতেই শেষ হয়ে যায় লাল-সবুজদের স্বপ্ন। মোহাম্মদ আলী আমজাদ ও শরৎচন্দ্র রায়ের পর প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছেন শিরিন সুলতানা। বিচ ভলিবলে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ে যায় লাল-সবুজরা। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের লড়াইয়ে নামার পর প্রমাণিত হয়েছে বাংলাদেশি অ্যাথলেটরা যে দিন দিন কতটা পিছিয়ে পড়ছে। আবু তালেব ও সুমি আক্তাররা হিটেই বাদ পড়েছেন অ্যাথলেটিকস থেকে। তাদের পারফরম্যান্স ছিল আরো হতাশার।

তবে এত হতাশার মধ্যেও আশা জাগিয়েছে ফুটবল, হকি ও আরচারি ইভেন্ট। পদক না এলেও এ তিন ইভেন্টে যে বাংলাদেশ আগের চেয়ে উন্নতি করেছে সেটা প্রমাণ হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads