• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
ভুলটা আসলে কোথায়?

একটি ইভেন্টেও কোনো পদকের দেখা পায়নি লাল-সবুজরা

সংগৃহীত ছবি

খেলা

ভুলটা আসলে কোথায়?

  • প্রকাশিত ৩১ আগস্ট ২০১৮

কবিরুল ইসলাম, ইন্দোনেশিয়া থেকে

এশিয়ান গেমস থেকে এবার শূন্য হাতেই ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১৪টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়ে একটি ইভেন্টেও কোনো পদকের দেখা পায়নি লাল-সবুজরা। প্রত্যাশার ইভেন্ট মহিলা কাবাডি, শুটিং ও গলফ জুড়ে ছিল শুধুই হতাশা। প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। এছাড়া ভারোত্তোলন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকসের মতো ইভেন্টগুলো থেকে হিটে বাদ পড়ে দেশের মুখ লজ্জায় ঢেকেছেন অ্যাথলেটরা। এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর অংশগ্রহণকারীরা দোষারোপ করেছেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (বিওএ)। আর অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন দোষারোপ করেছে অ্যাথলেটদের। উভয় পক্ষের এ দোষারোপের মধ্যেই শেষ হয়েছে বাংলাদেশের এবারের এশিয়ান গেমস মিশন। কিন্তু ব্যর্থতার মূল কারণ উদঘাটনে কারোই যেনো কোনো ভূমিকা নেই। ভুলটা আসলে কোথায়? সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন না কেউ।

আমাদের পাশের দেশ ভারত যখন একের পর এক স্বর্ণপদক নিজেদের ঝুলিতে ভরে নিয়ে উৎসবে মাতছে, তখন আমাদের হিসাবের খাতায় প্রাপ্তি একেবারেই শূন্য। পদক তালিকায় এবারো শীর্ষে আছে চীন। এরই মধ্যে ১০৬ ডিসিপ্লিনের স্বর্ণপদক জয় করেছে তারা (গতকাল দুপুর পর্যন্ত)। গত আসরের মতো এবারো তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার সিঁড়িতে এককদম এগিয়ে আছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জাপানের সংগ্রহ ৫৩টি স্বর্ণসহ ১৬৩টি পদক। দক্ষিণ কোরিয়া ৩৭টি ডিসিপ্লিনে সেরা হয়ে তিন নম্বরে রয়েছে। আর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া ৩০টি স্বর্ণপদক নিয়ে তালিকার চার নম্বরে আছে। ভারত ১১টি স্বর্ণসহ ৫৪টি পদক জিতে সেরা দশে অবস্থান করছে। ইন্দোনেশিয়ার মতো গরিব একটি রাষ্ট্র যদি একের পর এক স্বর্ণপদক জিততে পারে তাহলে আমরা কেনো পারি না? ভারত যদি দিন দিন উন্নতি করতে পারে তাহলে আমরা কেনো পারি না? এমন প্রশ্ন আসলে সবার মনেই। কিন্তু উত্তর নেই কারো কাছেই। আসলেই কি উত্তর নেই? না কি জেনেও আমরা হাঁটছি ভুল পথে?

এবারের আসরে আসার অন্তত সাত মাস আগেই বিওএ অ্যাথলেটদের অনুশীলন শুরু করার কথা জানিয়েছিল। কয়েকটি ইভেন্টে তারা জোর দিয়ে ক্যাম্প শুরুও করেছিল। কিন্তু মাঝপথেই আর্থিক সঙ্কটের কারণে ক্যাম্প বন্ধ হয়ে যায়। ক্যাম্প নিয়ে এমন ধোঁয়াশার কারণে মনোকষ্ট ছিল অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেও। সাঁতারু মাহফিজুর রহমান সাগর নিজের ক্ষোভ সামলাতে না পেরে বলেছিলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া আসার মাত্র এক মাস আগে ক্যাম্প শুরু করেছিলাম। যেটা মোটেও পর্যাপ্ত ছিল না আমার জন্য। আরো বেশি করে অনুশীলনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বিওএ সেটা করেনি। ভেবেছিলাম এবার সাত-আট মাস সময় পাচ্ছি। ভালো কিছু করতে পারব। কিন্তু না, বিওএ’র উদাসীনতার কারণে তা আর হয়নি।’

ক্ষোভ ছিল এসএ গেমসের ভারোত্তোলন ইভেন্টে স্বর্ণজয়ী মাবিয়া আক্তার সীমান্তর কণ্ঠেও। চলতি এ আসরের মার্চপাস্টে বাংলাদেশের পতাকা বহনকারী এ অ্যাথলেট জানান, ‘বিওএ আমার অনুশীলনের ব্যবস্থাই করেনি। যতটুকু করেছি নিজের চেষ্টাতেই করেছি। বিওএ যদি অনুশীলনের ব্যবস্থা করত, তাহলে আরো ভালো কিছু করতে পারতাম।’ আসলে কতটুকু ভালো বা উন্নতি করতেন সাঁতারু সাগর কিংবা মাবিয়ারা, সেটা পরের বিষয়। তার আগে বিওএ’র উচিত ছিল আগে থেকেই ক্যাম্প শুরু করা এবং ইভেন্ট ধরে উন্নতির চেষ্টা করা। তবে অ্যাথলেটদের এমন অভিযোগ মানতে নারাজ ডেপুটি শেফ দ্য মিশন একে সরকার, ‘এখানে এককভাবে বিওএ’র দোষ দিলে চলবে না। অ্যাথলেটদেরও নিজ উদ্যোগে ভালো করার মানসিকতা থাকতে হবে। তারা শুধু অংশগ্রহণ করার জন্যই আসে। দেশকে কিছু দেওয়ার চিন্তা তাদের মাথায় কাজ করে না। আমাদের যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি অ্যাথলেটদেরও দায়িত্ব নিয়ে অংশগ্রহণ করা উচিত।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads