• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭

ফুটবল

নেপাল যাচ্ছে আবাহনী

  • স্পোর্টস রিপোর্টার
  • প্রকাশিত ২৯ মার্চ ২০১৯

বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় ও সেরা দল আবাহনী লিমিটেড। স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এখানে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তনে বিরাট ভূমিকা রেখেছিল দলটি। আগা খান গোল্ডকাপসহ নানা ধরনের আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলে আবাহনী খ্যাতির চূড়ান্ত পথেও পা বাড়িয়েছিল। সময়ের পরিবর্তনে বিশ্ব ফুটবলে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে গেছে, তা প্রায় সবারই কমবেশি জানা। তবে এখনো আবাহনী তাদের সেই ধারাবাহিকতা কিছুটা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। আবাহনী আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলে অংশ নেবে, এটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে একটা আশা জেগে ওঠে দেশের ক্রীড়ামোদীদের মনে। হ্যাঁ, আবাহনী আসন্ন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) কাপের গ্রুপপর্বে পুনরায় অংশ নেবে। আগে প্রতিবারই আবাহনী ব্যর্থ হয়েছে। তবে এবার তারা ভালো করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

আবাহনী ঘরোয়া ফুটবলে অপ্রতিরোধ্য দল, প্রিমিয়ার ফুটবলে তারা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। কিন্তু ঘরোয়া ফুটবলে রাজত্ব দেখানো আবাহনী আন্তর্জাতিক আসরে নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারছে না। এএফসির নানা টুর্নামেন্টে প্রায় নিয়মিত অংশ নিয়েও গ্রুপপর্ব টপকাতে পারছে না আকাশি-হলুদরা। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ৮ বারের চ্যাম্পিয়ন দলটি নতুন প্রতিজ্ঞা নিয়ে আগামী ৩ এপ্রিল শুরু করতে যাচ্ছে এএফসি কাপের আরেকটি মিশন। নেপালের মানাং মার্সিয়াংদি ক্লাবের বিপক্ষে আবাহনীর প্রথম ম্যাচ ওইদিন। খেলা হবে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর আনফা কমপ্লেক্সে। ম্যাচটি খেলতে আবাহনী নেপাল যাবে রোববার সকালে। আবাহনী ও মানাং মার্সিয়াংদি ক্লাবের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময়  বেলা সোয়া ৩টায়। ‘ই’ গ্রুপে আবাহনীর অন্য দুই প্রতিপক্ষ ভারতের মিনারভা পাঞ্জাব ও চেন্নাই এফসি। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে তিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৬টি ম্যাচ খেলবে আবাহনী। বাংলাদেশের জায়ান্টদের দ্বিতীয় ম্যাচ ১৭ এপ্রিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের মিনারভা পাঞ্জাবের সঙ্গে। তৃতীয় ম্যাচ ৩০ এপ্রিল চেন্নাইয়ে।১৫ মে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ফিরতি ম্যাচ ঢাকায়। নেপালের মানাং মার্সিয়াংদি ক্লাবের সঙ্গে আবাহনীর হোম ম্যাচ ১৯ জুন। ২৬ জুন গ্রুপের শেষ ম্যাচ আবাহনীর। প্রতিপক্ষ মিনারভা পাঞ্জাব। খেলা হবে পাঞ্জাবের মাঠে।

ভারত ও নেপালের ক্লাবগুলোর শক্তি আবাহনীর চেয়ে খুব ভালো নয়। বলা যায়, প্রায় সমশক্তির ক্লাব এই তিন দেশের। ভারত কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বাকি দুই দেশের চেয়ে। যদিও সেটা আবার স্থায়ী নয়। কখনো আবাহনী ভারত ও নেপালের ক্লাবগুলোর চেয়ে ভালো ফলাফল করেছে, কখনো খারাপ করেছে। বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা যখন ছিল তুঙ্গে, তখন ঢাকা মোহামেডান একবার এএফসি ক্লাব ফুটবলের চূড়ান্তপর্বে উঠে ইতিহাস গড়েছিল। এশিয়ার সেরা আট দলের একটিতে পরিণত হয়েছিল সাদা-কালোরা। যদিও মোহামেডান তাদের সেই ধারাবাহিকতা আর ধরে রাখতে পারেনি। এবার আবাহনীকে নিয়ে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের আশা, দলটি গ্রুপপর্বের বাধা অতিক্রম করে চূড়ান্ত পর্বের টিকেট নিশ্চিত করুক। আবাহনীও চাচ্ছে আগের সব ব্যর্থতা মুছে ফেলে সাফল্য আনতে। বর্তমানে আবাহনী দলটি বেশ শক্তিশালী। দেশি-বিদেশি বেশ কিছু ভালো খেলোয়াড় রয়েছে দলটিতে। আবাহনী গ্রুপপর্বের বাধা অতিক্রম করতে পারলে তাতে শুধু দলটির সম্মানই বাড়বে না, দেশের ফুটবলের প্রতি হারিয়ে যাওয়া আকর্ষণ ফিরে আসবে।   

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads