• সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
আবাহনীকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন

লে‍াগো আবাহনী

ফুটবল

আবাহনীকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন

  • মোস্তফা তারিক আল বান্না
  • প্রকাশিত ০৭ এপ্রিল ২০১৯

বাংলাদেশের ফুটবলের দুরবস্থা সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছুই নেই। বিশ্ব ফুটবলে বাংলাদেশ ক্রমেই পেছনের পথে ধাবিত হচ্ছে। মান নেই, জনপ্রিয়তাও নেই বাংলাদেশের ফুটবলের। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান প্রায় দুশোর কাছাকাছি। বার বার স্বপ্ন দেখেও বাংলাদেশের ফুটবলের মান ছিটেফোঁটাও পরিবর্তন হয়নি। দর্শকরা কিন্তু ফুটবলের প্রতি এখনো দুর্বল। ফুটবলে কোনো সম্ভাবনার ইঙ্গিত পেলে তারা আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। এবার এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) কাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেপালের লিগ চ্যাম্পিয়ন দল মানাং মার্সিয়াংদিকে ১-০ গোলে পরাজিত করে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দল ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। আবাহনীর এই সাফল্যকে কেন্দ্র করে ফের নতুন করে আশার স্বপ্ন এখন দর্শকদের চোখে।  

গ্রুপ পর্বের বাধা পেরুতে না পারার হতাশা দূর করতে উন্মুখ হয়েছিল আবাহনী। আর তার জন্য এবারের আসরে জয় দিয়ে শুরুর লক্ষ্য নিয়ে আবাহনী নেপাল পায়। গত বুধবার স্বাগতিক মানাংকে হারিয়ে ওই প্রথম লক্ষ্য পূরণ করেছে তারা। ‘ই’ গ্রুপের এই ম্যাচটি কাঠমান্ডুর আনফা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়। মানাং ও বাংলাদেশের ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর ম্যাচটি দারুণ উপভোগ্য হয়। ম্যাচের ২৮ মিনিটের সময় আবাহনীর আফগান ডিফেন্ডার মাসিহ সাইঘানি ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন। শেষ পর্যন্ত গোল আর না হওয়ায় আবাহনী পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ত্যাগ করে।

এএফসি কাপে এই প্রথম জয়ে শুরু পেল আবাহনী। গত দুই আসরে হার দিয়ে এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের এই প্রতিযোগিতা শুরু করেছিল দেশের ঐতিহ্যবাহী দলটি। আগামী ১৭ এপ্রিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের মিনারভা পাঞ্জাবের মুখোমুখি হবে আবাহনী। মার্সিয়াংদির সঙ্গে ফিরতি লেগের ম্যাচটি হবে আগামী ১৯ জুন ঢাকায়।

জাতীয় দলের খেলোয়াড় নিয়ে সমৃদ্ধ আবাহনী। চার বিদেশি বাদ দিলে স্থানীয়দের ১৬ সদস্যের মধ্যে ১৩ জনেরই জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। কম্বোডিয়ার বিপক্ষে শেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশ দলের ছয়জন আছেন এই দলে।

কাঠমান্ডুর ম্যাচে আশঙ্কা ছিল ইতিহাস পাশে নেই আবাহনীর। ২০০৫ সালে ভুটানে কিংস কাপে আবাহনী ২-০ গোলে হেরেছিল মানাং মার্সিয়াংদির কাছে। বুধবারের ম্যাচের আগে তাই ইতিহাসকেই টেনেছিলেন মানাং ক্লাবটির নতুন কোচ সিরিং লোপসাং, ‘ভুটানে আবাহনীকে হারিয়েছিলাম। এবার কাঠমান্ডুতে নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেলব। ম্যাচ জেতাই আমাদের লক্ষ্য। ম্যাচটি আমার কাছে পঞ্চাশ-পঞ্চাশ। যারা সুযোগ কাজে লাগতে পারবে, তারাই জিতবে।’ কিন্তু কোচের সেই আশা বিফলে গেল। ইতিহাসকে মিথ্যে প্রমাণ করে বাংলাদেশের আবাহনী তাদেরকে হারিয়েই এএফসি কাপে শুভ সূচনা করে। অনেক দিন পর বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের কোনো ক্লাব দল জয় পেল।    

এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের তৃতীয় সারির টুর্নামেন্ট প্রেসিডেন্টস কাপে ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত খেলা পাঁচ আসরে গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি আবাহনী। এরপর ২০১৭ ও ২০১৮ সালে খেলা এএফসি কাপেও একই অবস্থা তাদের। গত দুই আসরে ছয় ম্যাচে একটি করে জয় ও ড্র এবং চার হার নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকে যাত্রা থামে আবাহনীর। ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বেঙ্গালুরু এফসির বিপক্ষে ২-০ গোলে একমাত্র জয়টি পেয়েছিল তারা; সেবার একমাত্র ড্র (১-১) মোহনবাগানের সঙ্গে। পরেরবার একমাত্র জয় (১-০) বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে পাওয়া; ১-১ ড্রটি ভারতের লিগের আরেক দল আইজল এফসির সঙ্গে।

বাংলাদেশের ঢাকা মোহামেডান এশিয়ান ক্লাব ফুটবলে বেশ কয়েকবার ভালো করেছে।

১৯৮৮-৮৯ সালে তারা বাছাইপর্বে ইরানের পারসেপলিস ও শ্রীলঙ্কার স্যান্ডার্স ক্লাবকে পেছনে ফেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় পর্বে ওঠে। দ্বিতীয় পর্বে উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল ২৫ ক্লাবকে ১-০ গোলে পরাজিত করে এবং কাতারের আল সাদ দলের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে। তবে সৌদি আরবের আল ইত্তেফাক ও মালয়েশিয়ার পাহাং দলের কাছে হেরে যায়। ১৯৯০-৯১ সালের আসরে মোহামেডান আবার বাছাইপর্বে ৫ নম্বর গ্রুপে ভারতের সালগাওকর ও মালদ্বীপের ক্লাব লেগুন্সকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান লাভ করে রবিন লিগে ওঠে। রবিন লিগে তিন ম্যাচেই ড্র করে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ব্যাংক ক্লাব (১-১), উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল ২৫ ক্লাব (০-০) এবং ইরানের ইসতেঘলাল ক্লাবের (১-১) সঙ্গে। তবে গোলপার্থক্যে পেছনে পড়ে সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়। ১৯৯১ সালের আসরে মোহামেডান বাছাইপর্বের বাধা পেরিয়ে শেষ আটে ওঠে। এর পর থেকে বাংলাদেশের কোনো ক্লাব আর ভালো অবস্থানে যেতে পারেনি। এবার আবাহনী নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads