• বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৫
ads
হেরেও সেমিতে টটেনহ্যাম

শেষ চার নিশ্চিত হলে উল্লাসে মেতে ওঠেন টটেনহ্যামের খেলোয়াড়রা

ছবি : ইন্টারনেট

ফুটবল

হেরেও সেমিতে টটেনহ্যাম

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১৯ এপ্রিল ২০১৯

ঘরের মাঠে ফিরতি লেগের আগে ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা বলেছিলেন, ‘যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন ম্যাচে কী হবে, তাহলে বলব আমরা সেমিফাইনালে যাব। ‘কিন্তু তিনি কি ঘুণাক্ষরেও টের পেয়েছিলেন তার দলের সামনে কী অপেক্ষা করছে? দ্বিতীয় লেগ ৪-৩ গোলে জিতেও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হলো গার্দিওলার দলকে। এই নিয়ে টানা তিনবার ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে সেমির দরজাই খুলতে পারলেন না বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ।

বুধবার রাতে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ দেখল ইতিহাদ স্টেডিয়াম। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ আটের ম্যাচের প্রথম লেগে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল টটেনহ্যাম। ফিরতি লেগে যেন পালা করে একে অন্যকে গোলবন্যায় ভাসানোর খেলা খেলল দুই দল। তাতে দুই লেগ মিলে ৪-৪ গোলে ড্র করেও অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখল স্পাররা।

খেলার শুরুর ৪ মিনিটেই সিটিকে এগিয়ে দেন রাহিম স্টার্লিং। কেভিন ডি ব্রুইনের পাস থেকে বল পেয়ে কাইরেন ত্রিপিয়ারকে বোকা বানিয়ে স্পার গোলরক্ষক হুগো লরিসকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন এই ইংলিশ উইঙ্গার।

গোল শোধ করতে মাত্র ৩ মিনিট সময় নেন মাউরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা। গোল পোস্টের মাত্র ৮ গজ থেকে নেওয়া সন হিউং-মিনের শট ঠেকাতে পারেননি সিটির ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক এডেরসন। প্রথম লেগের একমাত্র গোলটিও এসেছিল এই দক্ষিণ কোরিয়ান স্ট্রাইকারের পা থেকেই।

গোল শোধের মাত্র ৩ মিনিট পর ফের সন-ঝলক। ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ১৭ গজ থেকে বুলেট গতির এক শটে এডেরসনকে পরাস্ত করেন সন। কিন্তু স্পারদের এগিয়ে থাকার আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র ১ মিনিট। মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যে ৪ গোল। এবার সিটির হয়ে গোল করে সমতা ফেরান স্ট্রাইকার বার্নাড সিলভা।

২১ মিনিটে ফের এগিয়ে যায় সিটি। ডি ব্রুইনের ব্যাক পোস্টে পাঠানো বল অনায়াসে জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান সেখানে অপেক্ষমাণ অবস্থায় থাকা স্টার্লিং। বিরতিতে যাওয়ার আগে ৩-২ গোলে এগিয়ে থাকার স্বস্তি সঙ্গী হয় ইংলিশ লিগের অন্যতম শিরোপার দাবিদার সিটি।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর প্রায় মিনিট পনেরো পরেই স্কোর লাইন ৪-২ বানিয়ে দেন সিটির সার্জিও আগুয়েরো। এবারো অ্যাসিস্টে ডি ব্রুইনে। প্রায় একাই বল টেনে নিয়ে আগুয়েরোর পায়ে পৌঁছে দেন ডি ব্রুইনে, যদিও ওই কোণ থেকে গোল করাটা দুরূহ, কিন্তু কঠিন কাজটাই সহজে করে ফেললেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার।

খেলার স্কোর ৪-২ দেখে যারা ভেবেই বসেছিলেন খেলার ফলাফল নিশ্চিত, তাদের জন্য তখনো বিস্ময় অপেক্ষা করছে। খেলার ৭৩ মিনিটে সিটির ত্রিপিয়ারের বাড়িয়ে দেওয়া বলে ডি-বক্সের জটলায় থাকা ফার্নান্দো লোরেন্তের গায়ে লেগে জালে প্রবেশ করে। যদিও সিটি আপিল করে ওটা হ্যান্ডবল ছিল। রেফারি ভিএআরের সহায়তা নিয়ে দেখেন বলটা লোরেন্তের হাতে লাগলেও তা ইচ্ছাকৃত ছিল না। গোলের বাঁশি বাজতেই আনন্দে মেতে ওঠেন স্পার সমর্থকরা। ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় ওই গোলটিই। যদিও যোগ করা সময়ে রাহিম স্টার্লিংয়ের করা একটি গোল ভিএআরের মাধ্যমে বাতিল করে দেন রেফারি।

এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে পা রাখল টটেনহাম। এর আগে ১৯৬১-৬২ মৌসুমে এই সৌভাগ্য হয়েছিল তাদের।

এই ম্যাচে একটা রেকর্ডও হয়েছে। ম্যাচের প্রথম ২১ মিনিটেই ৫ গোল হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এত কম সময়ে ৫ গোল অতীতে কখনো হয়নি।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads