• মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬
ads
এবার ফুটবলে এগিয়ে যাওয়ার পালা

ফাইল ছবি

ফুটবল

এবার ফুটবলে এগিয়ে যাওয়ার পালা

  • তারিক আল বান্না
  • প্রকাশিত ১৯ জুলাই ২০১৯

এবার ফুটবলে জেগে ওঠার সময়। বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, ফুটবলই ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। জনপ্রিয়তার সঙ্গে যেহেতু মান বা সম্ভাবনার একটা যোগসূত্র আছে, সে হিসাবে একসময় ফুটবলেরও সম্ভাবনা ছিল। আমরা জানি, বাংলাদেশের ফুটবল কখনো ভালো অবস্থানে ছিল না। কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। সেটাও আমরা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছি। এবার নতুন করে ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন দেখা ও সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।  

অবহেলার কারণে ফুটবলের উন্নতি তো হয়ইনি, উল্টো দিনে দিনে খেলাটি তার সামান্য সম্ভাবনাটুকু হারিয়ে গেছে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান প্রায় দুই শর কাছাকাছি। তবে এবার একটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় দল ও ক্লাব দল ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের কারণে। ফুটবল পিছিয়ে পড়ায় ক্রিকেট দর্শকদের কাছাকাছি চলে গেছে। একসময় শিশু-কিশোর, যুবক-বৃদ্ধ সব শ্রেণির দর্শক মেতে থাকত ফুটবলে।  

আর এখন নতুন প্রজন্মের কাছে ফুটবলে কোনো আকর্ষণই নেই। তারা বোঝে ক্রিকেট, মেতে থাকে ক্রিকেট নিয়ে। ক্রিকেট তার জায়গায় থাকুক। তবে ফুটবলেও এগিয়ে যাওয়ার মোক্ষম সময় এসেছে।  

আবাহনী এশিয়ান ক্লাব আসর এএফসি কাপের সেরা আটে উঠেছে। যা বিশাল অর্জন। ইতোপূর্বে একবার ঢাকা মোহামেডান এশিয়ান ক্লাব ফুটবলে সেরা আটে জায়গা করে নিয়েছিল। এশিয়ার সেরা আট মানে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কাতার, জর্ডান, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া,  ইন্দোনেশিয়া, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের শক্তিশালী ও ধনী ক্লাবগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন। তাই একটু চিন্তা করলেই বোঝা যাবে আবাহনীর অর্জন কতটা বড়। আগে একসময় বাংলাদেশে আগাখান গোল্ডকাপ ফুটবলের আয়োজন করা হতো। যেখানে বিভিন্ন দেশের বড় বড় ক্লাব অংশ নিত। সঙ্গে থাকত মোহামেডান,  আবাহনী কিংবা ব্রাদার্স ইউনিয়নের মতো ক্লাবগুলো। আবাহনী বা মোহামেডান তখন অনেক সাফল্য দেখিয়েছে। সেসব এখন ইতিহাস। ওই ধরনের ক্লাব ফুটবল এখন হয় না বলেই আমরা ভালো কোনো সাফল্য দেখি না। তারপরও এমন অবস্থার মধ্যে আবাহনী যেটা করেছে তার তুলনা হয় না। এএফসি কাপের সেরা আটে পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের গতবারের শিরোপাধারী এই দলটি। আন্তআঞ্চলিক সেমিফাইনালে আবাহনীর প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়ার এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভ ক্লাব। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে আগস্টে। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে আগামী ২১ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে প্রথম লেগ ম্যাচটি। ফিরতি লেগ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৮ আগস্ট উত্তর কোরিয়ায়। এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভ বাংলাদেশের ফুটবলে খুব অপরিচিত প্রতিপক্ষ নয়। এই দলটির বিপক্ষে অতীতে জয়ের রেকর্ড আছে। ১৯৮৮ সালে সে সময়ের এশিয়ান ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল পর্বে এই এপ্রিল টোয়েন্টি ফাইভকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।  

এর আগে আবাহনী ‘ই’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথমবারের মতো এএফসি কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে ইতিহাস গড়েছে। এতদিন এএফসি কাপে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে একক রাজত্ব ছিল ভারতীয় ক্লাব বেঙ্গালুরু এএফসির। ২০১৭ সাল থেকে এই অঞ্চলের ক্লাবগুলোকে এএফসি কাপের প্রথম পর্বে নিজেদের মধ্যে খেলার সুযোগ করে দেয় এশিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা। প্রথম দুবারই চ্যাম্পিয়ন হয়ে দ্বিতীয় পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল বেঙ্গালুরু। এবারই ভারতের দুই ক্লাবকে পেছনে ফেলে তাদের রাজত্ব দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশের আবাহনী। ৬ ম্যাচে ৪ জয় ও ১ ড্রয়ের বিপরীতে একটি মাত্র ম্যাচ হেরে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা। পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমোসের সুদক্ষ কোচিংয়ে আবাহনী এখন এশিয়ার অন্যতম সেরা দলে পরিণত হতে চলেছে। 

এদিকে বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাই পর্বে বাংলাদেশ জাতীয় দল কোচ জেমি ডের তত্ত্বাবধানে ভালো করেছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাইয়ের দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশের গ্রুপে পড়েছে আফগানিস্তান, ভারত, ওমান ও বিশ্বকাপের স্বাগতিক কাতার। বাছাইয়ের প্রথম রাউন্ড পার হওয়া ছয়টি এবং র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা আরো ৩৪টিসহ মোট ৪০ দল নিয়ে গতকাল বুধবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে কাতার বিশ্বকাপ ও ২০২৩ সালের এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। গ্রুপের প্রতিটি দল হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে পরস্পরের বিপক্ষে খেলবে। ম্যাচগুলো হবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৯ জুন পর্যন্ত। আট গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও সেরা চার রানার্সআপ-মোট ১২ দল পাবে বিশ্বকাপের এশিয়া অঞ্চলের বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডের টিকেট।  

এই ১২ দল সরাসরি এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করবে। পরের সেরা ২৪ দল নিয়ে আলাদা আরেকটি বাছাই পর্ব হবে, সেখান থেকে নির্ধারিত হবে চীনে ২০২৩ সালের এশিয়ান কাপের বাকি দলগুলো। ২০২২ সালের ২১ নভেম্বরে শুরু হবে কাতার বিশ্বকাপ। ফাইনাল হওয়ার কথা ১৮ ডিসেম্বরে। দুই লেগ মিলিয়ে লাওসকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথম রাউন্ড পার হয় বাংলাদেশ। লাওসের মাঠে ১-০ গোলে জেতা জেমি ডের দল ফিরতি পর্বে নিজেদের মাঠে গোলশূন্য ড্র করেছিল। 

বাংলাদেশের ফুটবলপিপাসুরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আবাহনী এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের দিকে। এমন সুযোগ সব সময় পাওয়া যায় না। একসঙ্গে দুটি সুযোগ এসেছে ফুটবলে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। সেটা কাজে লাগাতে হবে। ফুটবল আবার তার চিরচেনা অবস্থায় ফিরে আসুক, সেটাই দেখতে চান দর্শকরা।  

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads