• রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৫
ads
বাফুফের ব্যর্থতায় প্রস্তুতি ম্যাচ বাদ

সংগৃহীত ছবি

ফুটবল

বাফুফের ব্যর্থতায় প্রস্তুতি ম্যাচ বাদ

  • স্পোর্টস রিপোর্টার
  • প্রকাশিত ০৭ আগস্ট ২০১৯

সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডের চনবুড়িতে অনুষ্ঠিত হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্ব। এটি আবার ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপের বাছাই পর্বও। যে কারণে এই টুর্নামেন্টকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। নারীদের প্রস্তুত করতে সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তাও চেয়েছিল দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি। কিন্তু অর্থের সংকুলান না হওয়াতে নাকি এখনো প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যবস্থা করতে পারেনি বাফুফে। যেখানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুরুষদের চরম ব্যর্থতার মধ্যে নারীরাই কিছু কিছু চমক দেখিয়ে আশা জাগিয়ে রেখেছে, সেখানে তাদের প্রস্তুতি ম্যাচের আয়োজন যে কোনো উপায়ে করা উচিত ছিল বাফুফের। তারা সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটা বাফুফেরও ব্যর্থতা। 

এদিকে দক্ষ ফুটবলার তৈরিতে মানসিকতার উন্নতির দিকে জোর দিয়েছেন নারী দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ আসর সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে নারী ফুটবলাররা। প্রতিপক্ষ কঠিন হলেও ভালো করার প্রত্যয় লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। তবে এ জন্য প্রস্তুতি ম্যাচের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন নারী ফুটবল দলের সফল এই কোচ। বিশ্বের অন্য দেশগুলোতে ফুটবলার বাছাই প্রক্রিয়ার তুলনায় বাংলাদেশে কিছুটা ভিন্ন। ফুটবলাররা খেলবে, ইনজুরিতে পড়বে, আবার ফিরেও আসবে। কিন্তু এ দেশে বয়সভিত্তিক ও খেলোয়াড় বাছাই এর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। এখানে চলে শুধু প্রতিযোগিতার তাড়া। বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা এখন অনেকটা জায়গা নিয়ে আছে দেশের ফুটবল অঙ্গনে। বর্তমানে ভালোও করছে তারা।

কিন্তু সম্প্রতি অনূর্ধ্ব-১৪ বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট জেএফএ কাপে বয়স লুকানো নিয়ে যে কাণ্ড ঘটে গেল তা কিছুটা সংশয়ে ফেলেছে দেশের নারী ফুটবলকে। তাই নারী দলের কোচ ছোটন মনে করেন, ফুটবলের স্বার্থে হলেও নৈতিকতার উন্নতি ঘটাতে হবে। পরিবর্তন আসবে মানসিকতায়। কোচ ছোটন বলেন, জয়-পরাজয়কে মুখ্য ভাবার কিছু নেই। এখানে খেলার মাধ্যমে মন-মানসিকতার উন্নতি ঘটানোই মূল লক্ষ্য। সেপ্টেম্বরে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চূড়ান্ত রাউন্ড খেলতে থাইল্যান্ড যাবে দেশের নারী ফুটবলাররা। এরপর ভুটানে হবে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ডিসেম্বরে নেপালে এসএ গেমসের আসর। সবমিলিয়ে ব্যস্ত সূচি দেশের নারী ফুটবলারদের। এসব ছাড়াও জাতীয় দল গঠন করতে আলাদাভাবে দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ। ৪ বছর বা তার অধিক সময় নিয়ে গড়ে তোলা হবে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নারী ফুটবলার।

গোলাম রব্বানী ছোটন বলেন, যে লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগোচ্ছি তাতে আমি মনে করি এখনো আমরা সঠিক পথেই আছি। তবে এখন মেয়েদের পূর্ণ মনোযোগ এএফসি অনূর্ধ্ব ১৬ ফুটবল নিয়ে। তাই ফুটবলাররা বাড়তি সতর্ক এ টুর্নামেন্ট নিয়ে। প্রত্যাশা বরাবরের মতো ভালো করার। অবশ্য টুর্নামেন্টের আগে মেয়েদের প্রস্তুতি সীমাবদ্ধ থাকছে শুধু অনুশীলনেই। এর কারণ হিসেবে বাফুফে নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরন বলেন, আমরা মেয়েদের প্রস্ততি ম্যাচের জন্য চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি। ইংল্যান্ড, জাপান ও কোরিয়ার সঙ্গে এরি মধ্যে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তার ব্যবস্থা হয়নি। অর্থের জোগান না হলে টুর্নামেন্ট শুরুর সপ্তাহ খানেক আগেই থ্যাইল্যান্ড চলে যাবে বাংলাদেশ। সেখানে সাত দিনের ক্যাম্প করে টুর্নামেন্টে অংশ নেবে মেয়েরা।

আট দলের চূড়ান্ত পর্বে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী স্বাগতিক থাইল্যান্ড, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ভিয়েতনাম। মাঠের মূল লড়াইয়ের আগে এক বা একাধিক প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজন খুবই দরকার ছিল। আমরা নারী ফুটবলের উন্নতি আসলেই চাই কি না সেটাই এখন প্রশ্ন। কারণ, মুখে অনেক বড় বড় কথাই বলা যায়। কাজের ক্ষেত্রেই আসল পরিচয় পাওয়া যায়।

প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য অর্থ জোগাড় করার ব্যর্থতা বাফুফের। কারণ, তারা সেটা আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads