• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
শেষ মুহূর্তের গোলে স্বপ্নভঙ্গ

ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল

শেষ মুহূর্তের গোলে স্বপ্নভঙ্গ

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শেষ মুহূর্তের গোলে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশ যুব দলের। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে অমীমাংসিত হয়েই গিয়েছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে ভারত একটি গোল করে ফেলে। ৯০ মিনিটের ওই গোলে প্রথমবারের মতো শিরোপা লাভ করে ভারত; যেখানে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো শিরোপা জয়ের আশায় ছিল। গতকাল রোববার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর এপিএফ কমপ্লেক্স স্টেডিয়ামে তৃতীয় সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ২-১ গোলে জয়ী হয় ভারত। 

ম্যাচের ২১তম মিনিটে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের খেলোয়াড়রা হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়ে। রেফারি ভারতের গুরকিরাত সিংকে সরাসরি লালকার্ড দেখান। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার মোহাম্মদ হূদয়। ৪০তম মিনিটে সমতার স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশ শিবিরে। বাঁ দিক থেকে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের কর্নারে আমির হাকিম বাপ্পীর ব্যাকহিলের পর দূরের পোস্টে থাকা ইয়াসিন আরাফাত মাপা শটে জাল খুঁজে নেন। কিন্তু জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে গোল উদযাপন করতে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় হলুদ কার্ড পান এবং মাঠ ছাড়েন ইয়াসিন। বাংলাদেশ পরিণত হয় নয়জনের দলে।

দ্বিতীয়ার্ধে তাই বাংলাদেশ বাধ্য হয়ে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলে। শেষ মুহূর্তে ভারতীয় খেলোয়াড় রবি রানার শট গোলরক্ষক শান্ত কুমার রায়কে ফাঁকি দিয়ে ঢুকে যায় বাংলাদেশের জালে। যোগ করা সময়ে চেষ্টা করেও সমতায় ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে বয়সভিত্তিক এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে ভারতীয় যুবারা। আর হতাশায় ডুবে যায় বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। 

এবারের গ্রুপ পর্বের লড়াই বাদ দিলে এর আগে বয়সভিত্তিক এই আসরে দুবার মুখোমুখি হয়েছে এই দু’দল। ২০১৫ সালে বাংলাদেশকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ভারত। ২০১৭ সালে ভারতকে ৪-৩ ব্যবধানে সেমিতে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ।

বিশ্ব ফুটবলে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক নিচে। অথচ বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ প্রায়ই ভালো করছে। যদিও এই সাফল্য ধরে রাখার মতো চেষ্টা নেই। এবার অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ফাইনালে হেরে শিরোপা অধরাই থেকে গেল।

এর আগে ‘বি’ গ্রুপে রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে আসে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৩-০ গোলে হারানোর পর গোলশূন্য ড্র হয় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি। ভারত তাদের অপর ম্যাচে বাংলাদেশের মতো ৩-০ গোলে পরাজিত করে শ্রীলঙ্কাকে। ফলে ভারত ও বাংলাদেশের পয়েন্ট ও গোল পার্থক্য সমান হয়ে যায়। তখন  আসরের নিয়ম অনুসারে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করতে লটারি হয়। সেখানে টসে জিতে গ্রুপ সেরা হয়ে সেমিফাইনালে ওঠে ভারত। গত দুই আসরে সেমিফাইনালিস্ট এবং রানার্সআপ হওয়া বাংলাদেশ দল দ্বিতীয়বারের মতো ওঠে টুর্নামেন্টের ফাইনালে। গত শুক্রবার টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে ভুটানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের যুবারা। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত একই ব্যবধানে পরাজিত করে মালদ্বীপ দলকে।

এর আগে ২০১৫ ও ২০১৭ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম দুই আসরেই শিরোপা জেতে নেপাল। এবার তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ভারত ২০১৫ সালের আসরে রানার্স আপ হয়। আর বাংলাদেশ রানার্স আপ হয় ২০১৭ সালের টুর্নামেন্টে। তুলনামূলকভাবে ফুটবলে বাংলাদেশের চেয়ে ভারত শক্তিমত্তার বিচারে অনেকটাই এগিয়ে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ভারত যেখানে ১০১ নম্বরে, সেখানে বাংলাদেশ রয়েছে প্রায় ২০০ নম্বরের কাছাকাছি। অবশ্য বয়সভিত্তিক ফুটবলে বাংলাদেশ ও ভারতের শক্তির মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। এবারের আসরে ভারত শিরোপা জিতেছে। ভাগ্য সহায় হলে বাংলাদেশই জিততে পারত শিরোপা। এখন রানার্স আপ হয়েই সন্তষ্ট থাকতে হচ্ছে। 

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads