• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
ফুটবলে কার্যকর পদক্ষেপ দরকার

সংগৃহীত ছবি

ফুটবল

ফুটবলে কার্যকর পদক্ষেপ দরকার

  • তারিক আল বান্না
  • প্রকাশিত ১৯ অক্টোবর ২০১৯

ফুটবলে আমাদের সবই ছিল কম আর বেশি। একাত্তরে মহান স্বাধীনতা অর্জনের পর আর সব খেলার আগেই নতুন করে ফুটবলের চর্চা শুরু হয়েছিল। বিপুল জনপ্রিয়তা আর পাশাপাশি ছিল বেশ সম্ভাবনা। কালের আবর্তে সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় দুই দশক পর দুটো বিষয়েই আশার আলো সঞ্চার করেছে জেমি ডের তত্ত্বাবধানে বর্তমান জাতীয় দল। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) উচিত এই আশার আলোর পূর্ণতা কার্যকর করার যা যা পদক্ষেপ দরকার, তা শতভাগ নিশ্চিত করা।

নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে আমাদের ফুটবলের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে যা সম্ভাবনা ছিল, সেটাও হারিয়ে যেতে শুরু করে। সারা বিশ্বে ফুটবলের মান বাড়তে থাকলেও উল্টো কমতে থাকে বাংলাদেশে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের র্যাঙ্কিংয়ের তেমন কোনো পার্থক্য না থাকলেও আস্তে আস্তে তা বাড়তে থাকে। এশিয়া বা দক্ষিণ এশিয়ার যেসব দেশ কখনোই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জেতেনি, তারাও ম্যাচ শেষে সাফল্য নিয়ে মাঠ ত্যাগ করতে শুরু করে। ৭৩ ধাপ এগিয়ে থাকা ভারতের বিরুদ্ধে গত ১৫ অক্টোবর বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের বাছাই পর্বের ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ প্রমাণ করল, তারাও ভালো করার যোগ্যতা রাখে।

বাফুফে আসলে আসল কাজটা ঠিকমতো করছে না। তারা রয়েছে নির্বাচন আর লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে। বাফুফের নির্বাচন এলে দেখা যায়, ভীষণ ব্যস্ততায় সময় পার করেন কর্মকর্তারা। নির্বাচন শেষ হলে মনে হয় তাদের আর কোনো কাজ নেই। শুধুমাত্র নানান আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিনক্ষণ পার করেন কর্মকর্তারা। সাংগঠনিক চুক্তি, মহাসমারোহে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট উদ্বোধন, প্রেস কনফারেন্স, বার্ষিক সাধারণ সভা, ফিফার অনুষ্ঠানে যোগদান, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) বৈঠকে যোগদান, বিভিন্ন আসরের জন্য জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দল ঘোষণা, ফুটবলের দলবদল ইত্যাদি নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটান তারা। এসব যে অ-দরকারি, তা বলা হচ্ছে না। এসবের চেয়ে বেশি প্রয়োজন ভালো মানের দল তৈরি করা, যাতে করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করা যায়। সে বিষয়ে মুখে মুখে অনেক বড় বড় কথা বলা হলেও কাজের বেলায় দেখা যায় শূন্য।

আজ বাংলাদেশে ক্রিকেট খুব জনপ্রিয় ও দারুণ সম্ভাবনাময়। ক্রিকেট বোর্ড কিন্তু প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগিয়েছে বলেই খেলাটিতে বাংলাদেশ বিশ্বমানে চলে যেতে পেরেছে। মজার বিষয়, ফুটবল যখন তার পথ হারাতে শুরু করে, ক্রিকেট ঠিক তখন আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বকাপের চূড়ান্তপর্বে নাম লেখায়, ওয়ানডে ও টেস্ট স্ট্যাটাস লাভ করে। এসব সুযোগ বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগায় ক্রিকেট বোর্ড। এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে যে পর্যায়ে রয়েছে, সেখান থেকে নিচে নামার হয়তো সম্ভাবনা নেই। অথচ সারা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাই হলো ফুটবল। ভারতের সঙ্গে ১৫ অক্টোবর কলকাতার ম্যাচে বাংলাদেশ অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছে। কলকাতায় প্রতিপক্ষ দলের প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের সামনে প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশ যে আশার বীজ বপন করল, তা মনে রাখার মতো। ভারতের সঙ্গে নিশ্চিত হারবে বাংলাদেশ, সেটাই ধারণা ছিল সবার মধ্যে। অথচ সব ধারণা পাল্টে দিয়ে জামাল ভূঁইয়ারা বীরত্বপূর্ণ লড়াই করে মূল্যবান পয়েন্ট নিয়ে দেশে ফিরেছে। এখানে এক পয়েন্ট পাওয়াই বড় কথা নয়। বড় কথা, বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।

আমরা এখন সেই সময়কে ফিরিয়ে আনার পথ খুঁজে পেয়েছি, যখন অন্তত দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ সমীহ জাগানো দল ছিল। মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ এশিয়ার বাইরেও অনেক দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়েছি মাঠের লড়াইয়ে। আগা খান গোল্ড কাপ, প্রেসিডেন্ট গোল্ড কাপ, এশিয়ান ক্লাব কাপে অনেক সাফল্য দেখিয়েছে তখন বাংলাদেশের জাতীয় কিংবা ক্লাব দলগুলো। এখন কিন্তু বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গেই মাঠের লড়াইয়ে পেরে উঠছে না। দেরিতে হলেও ভারতের বিপক্ষে এবারের ফুটবল ম্যাচে বাংলাদেশ আগের সেসব সাফল্য লাভ করার পথ দেখাল।

আইসিসি ট্রফি লাভের পর ক্রিকেট বোর্ড যেভাবে সুযোগ কাজে লাগায়, এবার বাফুফের উচিত হবে সুযোগের সদ্ব্যবহার করা। সুযোগ বারবার আসে না। এবারেরটা কাজে লাগাতেই হবে। এর জন্য বাফুফেকে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে। সর্বপ্রথম, ভারতের বিপক্ষে সাফল্যকে পুঁজি করে ফায়দা লাভের চেষ্টা থেকে নিজেদের নিবৃত্ত রাখতে হবে। আর পদক্ষেপ নিতে হবে নতুন করে প্রতিভা খুঁজে বের করা, খেলোয়াড়দের সঠিকভাবে পরিচর্যা করা, বিদেশের মাটিতে নিয়মিত ম্যাচ খেলা, খেলোয়াড়দের দম ও স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া, তাদের মানসিকভাবে বিকশিত করা, বারবার কোচ না বদলানো, কোচের সঙ্গে ভালো ও কার্যকর ট্রেনার, ফিজিও নিয়োগ দেওয়া, খেলোয়াড়দের জন্য কঠোর নিয়মশৃঙ্খলা নির্দিষ্ট করা ইত্যাদি। এসব বাফুফের তথাকথিত কার্যক্রমের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাফুফে যদি এই বিষয়গুলোর দিকে বেশি বেশি নজর দেয়, তাহলে ফুটবলে হারানো গৌরব ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। জনপ্রিয়তা বাড়বে, বাড়বে ফুটবলের মান। বিশ্ব ফুটবলে আমরা পাব নতুন করে মর্যাদার আসন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads