• শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭
ads
করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বিপর্যস্ত বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন

সংগৃহীত ছবি

খেলা

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বিপর্যস্ত বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মরণঘাতী করোনা ভাইরাস বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নির্মল বিনোদনের মাধ্যম খেলাধুলাও এ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। এর প্রভাবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে খেলা বাতিল করা হচ্ছে। করোনার কুপ্রভাব বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনেও আঁচড় ফেলেছে। এর প্রভাবে এখন পর্যন্ত লাল-সবুজের দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক আসর স্থগিত করা হয়েছে। এগুলো হলো আইএসএসএফ আরচারি প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধু এশিয়ান সিনিয়র মেন্স সেন্ট্রাল জোন ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপ ও বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ট সাইক্লিং। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হলেও মূলত বিদেশি দলগুলো আসতে অপারগতা প্রকাশ করায় টুর্নামেন্টগুলো স্থগিত করা হয়েছে।

করোনার প্রভাবটা বেশি পড়েছে ইতালির ফুটবলে। ইতালিয়ান সিরি-এ লিগে ইতোমধ্যে স্থগিত হয়েছে স্যাম্পদোরিয়া-ইন্টার মিলান ম্যাচ। এই ম্যাচটির পাশাপাশি স্থগিত হয়েছে আটালান্টা-সাসোলো ও হেলাস ভেরোনা-ক্যালিয়ারি ম্যাচ। সিরি-এ লিগ ছাড়াও দেশটিতে ভাইরাস আতঙ্কে ৪০টিও বেশি অপেশাদার ও যুব ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী গিউসেপ্পে কন্টে ঘোষণা দিয়েছেন উত্তরাঞ্চলীয় দুটি প্রদেশ ভেনেটো ও লম্বাার্ডিতে সব ধরনের ক্রীড়া ইভেন্ট বাতিল করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ফুটবল সমর্থকদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে অন্য যে ক্রীড়া ইভেন্টগুলোতে সমর্থকরা উপস্থিত হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তাদের প্রতিও সমবেদনা জানাচ্ছি। নাগরিকদের বিষয়টি সম্পর্কে দায়িত্ববান হতে হবে।

ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের কারণে ইতালিয়ান সিরি-এ ও উয়েফা ইউরোপা লিগের ম্যাচগুলো দর্শকশূন্য খালি স্টেডিয়ামে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইতালিয়ান ক্রীড়ামন্ত্রী ভিনসেনজো স্পাডাফোরা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনার পর ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলীয় ইতালির ছয়টি প্রদেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আমরা ম্যাচগুলো আবদ্ধ অবস্থায় আয়োজনে বাধ্য হচ্ছি। ইতোমধ্যেই ইন্টার মিলান বৃহস্পতিবার লুডোগোরেটসের সঙ্গে তাদের ইউরোপা লিগের ম্যাচটি দর্শকবিহীন মাঠে খেলা হয়েছে। যদিও ইতালির ক্রীড়ামন্ত্রী নিশ্চিত করে জানাননি সিরি-এ লিগের কোন ম্যাচগুলোতে দর্শকের উপস্থিতি থাকবে না। তিনি শুধু জানিয়েছেন ছয়টি প্রদেশে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলো এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে রোববার জুভেন্টাস ও ইন্টার মিলানের ম্যাচটিতে গ্যালারিশূন্য থাকবে এটা অনেকটাই নিশ্চিত।

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে স্থগিত হয়ে গেছে চতুর্থ আইএসএসএফ ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটি ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিং আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি টঙ্গীর আরচারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতাটি শুরুর কথা ছিল। বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীবউদ্দিন আহমেদ চপল জানান, করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণে অনেক দেশ খেলোয়াড় পাঠাতে রাজি হচ্ছে না। এ কারণে টুর্নামেন্টটি আপাতত স্থগিত করে দিতে হয়েছে। এরপর আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব কবে নাগাদ এটি আয়োজন করা যায়।

এবার টুর্নামেন্টে ৩০টি দেশের দুইশরও বেশি প্রতিযোগীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা অনেক কমে যাচ্ছিল। প্রতিযোগীও নেমে আসছিল ৭০-৮০ জনে। তাই বাধ্য হয়ে টুর্নামেন্টটি স্থগিত করেছে আয়োজকরা। ২০১৭ সাল থেকে আইএসএসএফ ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটি ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিং আরচারি চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশ। এছাড়া স্থগিত করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু এশিয়ান সিনিয়র মেন্স সেন্ট্রাল জোন ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপ। মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ মোট আট দল নিয়ে আগামী ২২ মার্চ থেকে এই প্রতিযোগিতা শুরুর কথা ছিল। বাকি দলগুলো হচ্ছে তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, নেপাল ও ভুটান। কিন্তু করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণে এই টুর্নামেন্ট ছয় মাস পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু।

করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় আসর অলিম্পিক গেমস আয়োজন নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। আগামী জুনে জাপানের টোকিওতে বসার কথা আছে এবারের আসর। তবে অলিম্পিকের ভবিষ্যত নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। দুই সংস্থাই জানিয়ে দিয়েছে, চরম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নির্ধারিত সূচি মেনেই অলিম্পিকের আয়োজন করা হবে টোকিওতে। প্রথমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং পরে অলিম্পিক কমিটির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, অলিম্পিক টোকিও থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা এখনো ভাবছে না তারা।

এ প্রসঙ্গে অলিম্পিক সংযোগকারী কমিটির চেয়ারম্যান জন কোটস বলেন, করোনা ভাইরাসের জন্য নিয়মিত সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হচ্ছে। এটা অনেক বড় কাজ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে তথ্য দিয়েছে তার ভিত্তিতে অলিম্পিক নির্ধারিত সময়ে আয়োজন নিয়ে কোনো সংশয় নেই। তবে চিন্তা থাকছে চীনের এ্যাথলেটদের নিয়ে। কারণ চীন থেকেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অ্যাথলেট অলিম্পিকে অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads