• রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭
ads
বার্সেলোনাকে তছনছ করে সেমিফাইনালে বায়ার্ন

সংগৃহীত ছবি

ফুটবল

বার্সেলোনাকে তছনছ করে সেমিফাইনালে বায়ার্ন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১৫ আগস্ট ২০২০

স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনাকে তছনছ করে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফুটবলের সেমিফাইনালের উঠলো জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ।

গতরাতে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখ ৮-২ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনাকে। ম্যাচে এই ১০ গোলের ম্যাচে ৯টি’ই দিয়েছে বায়ার্ন। এটি আত্মঘাতি গোল ছিলো মিউনিখের। বাকী ৮টি নিজেদের পক্ষেই দিয়েছিলো তারা। দলের পক্ষে থমাস মুলার-ফিলিপ কুটিনহো ২টি করে, ইভান পেরিসিচ-সের্গে গ্যানাবরি-জুসয়া কিমিচ ও রবার্ট লিওয়ানদোস্কি ১টি করে গোল করেন। আর বার্সার হয়ে একমাত্র সান্তনার গোলটি করেন স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। দলকে শুন্য হাতে মাঠ ছাড়া থেকে রক্ষা করেন সুয়ারেজ।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে নকআউট পর্বে এত বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া প্রথম দল হিসেবে নাম লিখলো বায়ার্ন মিউনিখ। এছাড়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যেকোন পর্বে বায়ার্ন মিউনিখের এটিই সবচেয়ে বড় জয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই গোল হয়েছে মোট ৫টি। এরমধ্যে একটি আত্মঘাতি। পরের অর্ধে হয়েছে আরও ৫টি গোল।

এই ম্যাচটিকে নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিলো কয়েকদিন ধরেই। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অপেক্ষায় ছিলো পুরো ফুটবল বিশ্ব। ফুটবল প্রেমিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেই দেয়, ফাইনালের আগে বার্সেলোনা-মিউনিখ ফাইনাল হয়ে যাচ্ছে।

তবে ম্যাচের আগে দুঃসংবাদ শুনতে হয়েছিলো বার্সেলোনাকে। চোটের কারণে স্পেনে রেখে আসা ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমতিতির করোনা পজিটিভ হয়। তারপরও ম্যাচের প্রতি মনোযোগি হয়েই মাঠে নেমেছিলেন বার্সার খেলোয়াড়রা।

ম্যাচের শুরুটাও হয়েছিলো উত্তেজনা দিয়ে। ৭ মিনিটের ব্যবধানে দু’টি গোল হয়ে যায় ম্যাচে। দু’টি গোল করে মিউনিখ। কিন্তু ম্যাচের স্কোরলাইন বলছিলো ১-১। কারন এরমধ্যে একটি আত্মঘাতি গোল দিয়েছিলো মিউনিখ।
৪ মিনিটে বার্সেলোনাকে গোল হজম করান মুলার। লিওয়ানদোস্কির পাসকে আলতো পায়ে বার্সার জালে বলকে পাঠাতে কোন সমস্যাই হয়নি মুলারের। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় মিউনিখ।

এগিয়ে গিয়ে তিন মিনিট পর নিজেদের ইচ্ছায় হোচট খায় মিউনিখ। সপ্তম মিনিটে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন মিউনিখের ডেভিড আলাবা। স্ট্রাইকাদের উদ্দেশ্যে মিউনিখের বিপদ সীমানায় ক্রস করেছিলেন বার্সার মিডফিল্ডার ফ্রেংকি ডি ইয়ং। সেই ক্রসটি বিপদমুক্ত করতে গিয়ে দলের জালে বল পাঠিয়ে দেন আলাবা। আত্মঘাতী গোল পেয়ে ম্যাচে ১-১ সমতায় পায় বার্সেলোনা।

এগিয়ে থেকেও ম্যাচে সমতা চলে আসায়, আক্রমনাত্মক হয়ে উঠে মিউনিখ। গোটা ম্যাচের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয় বুন্দেস লিগার দলটি। আক্রমনের পর আক্রমনে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে বার্সেলোনাকে। তাই প্রথমার্ধের খেলা শেষ হবার আগেই বার্সার জালে আরও চার গোল দিয়ে দেয় মিউনিখ। এরমধ্যে ২১ মিনিটে পেরিসিচ, ২৭ মিনিটে গ্যানাবরি ও ৩১ মিনিটে মুলার গোল করেন।

২১তম মিনিটে গ্যানাবরির কাছ থেকে বল পেয়ে বাম পায়ের দারুন এক প্লেসিং শটে বার্সেলোনার জালে দ্বিতীয়বারের মত বল পাঠান পেরিসিচ। বার্সার গোলরক্ষক টার স্টেগান ঝাঁপিয়ে পড়েও গোল হজম ঠেকাতে পারেননি।

২৭ মিনিটে গোরেৎকার পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের মাঝ থেকে ডান পায়ের শটে দলের তৃতীয় গোল করেন গ্যানাবরি(৩-১)।

এ্যাচের ৩১ মিনিটেই মিউনিখকে ৪-১ গোলে এগিয়ে দেন মুলার। ডান কর্নার থেকে জসুয়া কিমিচের পাস থেকে আসা বলে পা হাল্কা স্পর্শে গোল পূর্ণ করেন মুলার। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক স্টেগানের তাকিয়ে দেখা ছাড়া কোন উপায়ই ছিলো না।

৪-১ গোলে পিছিয়ে থেকে নিজেদের গুছিয়ে নেয়ার সুযোগই পাচ্ছিলো না বার্সেলোনা। মিউনিখের উপর যে চাপ সৃষ্টি করবে সেই পথ হারিয়ে ফেলেছিলো কাতালানরা। তারপরও বল পেলে চেষ্টার কমতি রাখেননি দলের সেরা তারকা লিওনেল মেসি।

৪০ মিনিটে মধ্যমাঠ থেকে বল পেয়ে মিউনিখের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। টিভি সেটের সামনে থাকা বার্সা সমর্থকরা নিশ্চিতই ছিলেন দলের দ্বিতীয় গোলের। কিন্তু মিউনিখের গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করতে পারেননি মেসি। গোলের নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায়, আরও বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে কাতালানরা।
প্রথমার্ধে বার্সেলোনার উপর পুরো আধিপত্য বিস্তার করে এক হালি গোল দিয়ে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন মিউনিখ।

বিরতি শেষে মাঠে ফিরে কিছুটা রক্ষনাত্মকভাবে খেলতে থাকে মিউনিখ। আবারো মধ্যমাঠের দখলের চেষ্টায় ছিলো তারা। এই সুযোগে বার্সেলোনাকে গোলের স্বাদ দেন সুয়ারেজ। ৫৭ মিনিটে গোলটি করেন সুয়ারেজ। জর্ডি আলবার কাছ থেকে বল পেয়ে একেক প্রচেষ্টায় নিচু শটে বলকে মিউনিখের জালে পাঠান তিনি।

ঐ গোলের পর আর নিজেদের দমিয়ে রাখেনি মিউনিখ। প্রথমার্ধের মত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে তারা। ৬৩ মিনিটে মিউনিখের পক্ষে গোল করেন কিমিচ। কিন্তু এই গোলটির পেছনে শতভাগ কৃতিত্ব আলফনসো ডেভিসের।
মাঝ মাঠ থেকে লেফট উইং দিয়ে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় বার্সার তিন ডিফেন্ডারকে ধোকা দিয়ে বিপদ সীমানায় প্রবেশ করেন ডেভিস। এরপর বাঁ-দিকে দাঁড়ানো কিমিচকে বল দেন। বল পেয়ে অনায়াসে গোল করেন কিমিচ। শুধু পা’কে বলের স্পর্শ দিয়েছেন তিনি। তাতে ৫-১ গোলে এগিয়ে যায় মিউনিখ।

৭৫ মিনিটে গ্যানাবরির পরিবর্তে মাঠে নামেন বার্সার সাবেক খেলোয়াড় কুটিনহো। সাবেক দলের বিপক্ষে কিছু করে দেখানোর জিদ হয়তো তার ছিলো। কারন বার্সেলোনা থেকে মিউনিখে ধারে খেলতে এসেছিলেন তিনি। বার্সার জালে শেষ তিন গোলে অবদান কুটিনহোর।

ম্যাচের ৮২তম মিনিটে বার্সেলোনার জালে বল পাঠাতে বড় অবদানই রাখেন কুটিনহো। ডি-বক্সের সামনে থেকে অসাধারণ একটি ক্রস করেন তিনি। উড়ে আসার বলে মাথা লাগিয়ে গোল করেন লিওয়ানদোস্কি। এবারের আসরে এটি তার ১৪তম গোল। আর মৌসুমে ৫৪তম গোল।

সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়ে, নিজেই গোলের লোভে পড়েন কুটিনহো। ৮৫ মিনিটেই গোলের আনন্দ পান তিনি। মুলারের পাস থেকে ভেসে আসা বলকে ডান পায়ের তীব্র শটে গোল করেন কুটিনহো। আর ৮৯তম বার্সালোনার জালে শেষবারের মত বল ঠুকে দেন কুটিনহো। ফলে বার্সেলোনাকে ২ হালি গোল হজম করিয়ে, ৮-২ স্কোরলাইন রেখে মাঠ ছাড়ে মিউনিখ।

গত ৭৫ বছরের ইতিহাসে এত বড় ব্যবধানে কখনও কোন ম্যাচ হারেনি বার্সেলোনা। এর আগে ১৯৪৬ সালে কোপা দেল রে’র শেষ ষোলোয় সেভিয়ার কাছে ৮-০ গোলে হেরেছিল কাতালানরা।

বার্সেলোনার এই হারের রাতে ২০১৪ সালের ৯ জুলাই ফিরে গিয়েছিলো ফুটবলপ্রেমিরা। ঐ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়ামে জার্মানি ৭-১ গোলে হারিয়েছিলো ব্রাজিলকে। ব্রাজিলের ঐ দুঃস্মৃতির সাথে এখন বার্সার এমন হারের মিল খুঁজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গরম করছেন ফুটবল প্রেমিরা।

তাই ম্যাচ চরম হতাশা ঝড়লো বার্সেলোনার ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের কন্ঠে, ‘আমি হতাশ, বেদনাহত-মর্মাহত। আমরা সবাই কষ্ট পাচ্ছি। আমরা এভাবে খেলতে পারি না। এটা মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। জঘন্য একটা ম্যাচ ছিল। একটাই শব্দ বলা যায়, এটি অপমান। আমাদের সাথে এমনটা প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার হয়নি। এটা মেনে নেওয়া কঠিন, খুবই কঠিন। আশা করি এই বিপর্যয় থেকে ভালো কিছু বেরিয়ে আসবে।’
হতাশ পিকে আরও বলেন, ‘শুধু খেলোয়াড়দের ব্যাপার নয়, ক্লাব হিসেবেও আমরা সঠিক পথে নেই। আজ মাঠে যা হলো তা মেনে নেয়া যায় না। অনেকগুলো সাফল্যে ভরা বছর পার করে এসেছি আমরা। এবার আমরা লিগ, ইউরোপ কিছ্ইু জিততে পারলাম না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগও শেষ। তবে আমাদের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। ’

ক্লাবে পরিবর্তন দরকার বলে মনে করেন পিকে। সেটিও বলে দিলেন তিনি, ‘ক্লাবে পরিবর্তন দরকার, আমি নির্দিষ্ট করে বলতে চাই না। ক্লার্ব কর্তৃপক্ষ ভালো বুঝতে পারবে। ফুটবল এমন একটা খেলা যেখানে নিয়মিত পরিবর্তন প্রয়োজন। ঘুরে দাঁড়াতে যা প্রয়োজন, তার খোঁজ করতে হবে আমাদের। যেসব মানুষ এই ক্লাবের জন্য সঠিক কাজটা করবে, তাদের ওপর আস্থা রাখতে হবে আমাদের। ক্লাবকে সাফল্যে রাঙ্গাতে হলে, দ্রুতই পদক্ষেপ নিতে হবে। নয়তো, আমাদের জন্য আরও খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads