• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
বিরূপ আবহাওয়ায় পর্যটনে সাড়া কম

বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশের প্রধান পর্যটন অঞ্চলগুলোয় এবার আগের মতো অতটা ভিড় নেই

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ভ্রমণ

বিরূপ আবহাওয়ায় পর্যটনে সাড়া কম

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৯ জুন ২০১৮

ঈদ এলেই পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় ভিড় বাড়ে। ছুটির ফুরসতে আনন্দ-বিনোদনে সময় কাটাতে পর্যটন এলাকাগুলোয় ছুটে যান কর্মব্যস্ত মানুষ। যথারীতি ভ্রমণপিয়াসীদের আনাগোনাও বেড়ে যায়। তবে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশের প্রধান পর্যটন অঞ্চলগুলোয় এবার আগের মতো অতটা ভিড় নেই। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম: ঈদের ছুটি উপভোগ করতে বিনোদনকেন্দ্রগুলোয় ভিড় জমিয়েছে নগরবাসী। পতেঙ্গা নেভাল রোড ও সমুদ্র সৈকত, কর্ণফুলী নদীর অভয়মিত্র ঘাট ও নেভাল টু, ফয়’স লেক, শিশুপার্ক, স্বাধীনতা কমপ্লেক্স ও চিড়িয়াখানায় ছিল উপচেপড়া ভিড়। তবে দর্শনার্থীদের সবাই প্রায় স্থানীয়। বাইরের পর্যটকদের তেমন একটা দেখা যায়নি।

কক্সবাজার: দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারে পর্যটকদের ভিড় থাকলেও গতবারের তুলনায় তা বেশ কম। এ জন্য কম ছুটি ও বর্ষা মৌসুমের কথা বলছেন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হওয়ায় সাগর উত্তাল। তাই দিনের বেশিরভাগ সময়ই সৈকতের নানা স্থানে গোসলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখছে প্রশাসন। মৌসুমি বৃষ্টির কারণে বেড়াতে আসা পর্যটকরা ঠিকমতো ঘুরতেও পারছেন না।

ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিন গত রোববার পর্যটকদের সংখ্যা অবশ্য বেড়ে যায়। তবে তা আশানুরূপ নয় বলে জানান হোটেল ব্যবসায়ীরা। কক্সবাজার কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি কাজী রাসেল আহমদ বলেন, ‘এবার ঈদের ছুটি খুব দীর্ঘ নয়। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার পর্যটকের আগমন অনেক কমে গেছে।’

ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী সাত দিনে সৈকত ভ্রমণে দুই লাখের বেশি পর্যটক আসবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি। তবে হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, গত বছর ঈদুল ফিতরের ছুটিসহ সাত দিনে কক্সবাজারে এসেছিলেন অন্তত ছয় লাখ পর্যটক। তখন হোটেল, মোটেল, রেস্তোরাঁসহ পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা হয়েছিল প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কক্সবাজারে হোটেল, কটেজ, গেস্টহাউজ ও বাংলো রয়েছে প্রায় ৫০০। মাত্র ২৩ শতাংশ হোটেল কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে।

সমুদ্র উত্তাল থাকায় এই ছুটিতে প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন, সোনাদিয়া দ্বীপ, মহেশখালী ভ্রমণ আপাতত বন্ধ। ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি তোফায়েল আহমদ বলেন, সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটকের আগমন অনেক কমে গেছে।

বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি : ঈদের ছুটিতে পার্বত্য তিন জেলায়ও ঢল নামে পর্যটকদের। তবে এবার অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বাইরের পর্যটকদের আনাগোনা তেমন নেই। পাশাপাশি পাহাড়ি সংগঠনগুলোর সহিংসতায় ঈদের ছুটির তিন দিনে তিনজন নিহত হওয়ায় আতঙ্কিত অনেকেই পাহাড়মুখো হননি। বাইরের পর্যটকদের আশানুরূপ সাড়া না পাওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে অনেকেই হোটেল-মোটেলে বুকিং বাতিল করেছেন বলে জানান তারা।

সিলেট : পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ সিলেট। কিন্তু বর্ষার কারণে সেখানেও তেমন ভিড় নেই। এবার মৌসুমের শুরুতেই অতিবৃষ্টির কারণে বাইরের পর্যটকরা সিলেট ভ্রমণের প্রতি তেমন একটা আগ্রহী হননি। একই অবস্থা দেখা গেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রেও। বন্যার কারণে হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের হাওরেও যাননি পর্যটকরা।

গাজীপুর : ঈদের ছুটিতে গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে পর্যটকদের প্রচুর সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। ঈদের প্রথম দিনে সাফারি পার্কে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল ৯ হাজার; যা দ্বিতীয় দিনে ১৪ হাজারে গড়ায় বলে পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে পার্কে প্রবেশে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পার্কে প্রবেশ টিকেটের মূল্য প্রাপ্তবয়স্ক জনপ্রতি ৫০ টাকা এবং ১৮ বছরের নিচে ২০ টাকা। শিক্ষা সফরে আসা বা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা। আর গাড়িতে করে কোর সাফারি পার্কে ঘুরতে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিজনের টিকেট ফি ১০০ টাকা। অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তা ৫০ টাকা। কিন্তু শর্ত না মেনে শিশু ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব মিয়া বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের কোর সাফারি অংশটি নির্ধারিত শর্তানুসারে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের জন্য পাল এন্টারপ্রাইজ, বেঙ্গল ট্যুরস লিমিটেডের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাফারি পার্কের এ অংশের ঠিকাদারদের লোকজন চুক্তি না মেনে সবার কাছ থেকেই প্রবেশ মূল্য বাবদ ১০০ টাকা করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে পর্যটকদের কাছ থেকে।’ ইজারার শর্ত না মানা হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান মোতালেব মিয়া।

নরসিংদী : জেলার বিনোদনকেন্দ্রগুলোয় এখন দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। এর মধ্যে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে পাঁচদোনার চৈতাব এলাকায় অবস্থিত ‘ড্রিম হলিডে পার্ক’। স্থানীয়দের পাশাপাশি রাজধানী ও আশপাশের জেলা থেকেও প্রচুর পর্যটক আসছেন এখানে। আধুনিক সব রাইড ও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটাচ্ছেন হাজারো বিনোদনপিপাসু।

পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা বলেন, ‘চেষ্টা করছি ড্রিম হলিডে পার্ককে আন্তর্জাতিক মানের পার্কে পরিণত করার। বিভিন্ন রাইডের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘোরাঘুরির জন্য একটি সাফারি পার্ক করেছি।’

সোনারগাঁ : ঈদের দিন সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। গতকাল সোমবার প্রাচীন জনপদ পানাম নগরী এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এলাকায় পর্যটকদের ঢল নামে। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা পর্যটকরা স্থানীয় অন্যান্য বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্রেও ভিড় জমান।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads