• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

ভ্রমণ

গড় জরিপা বারোদুয়ারী মসজিদ

  • ইশরাত জাহান
  • প্রকাশিত ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮

স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম নিদর্শন গড় জরিপা বারোদুয়ারী মসজিদ। শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ১২ কিলোমিটার দূরে বারোদুয়ারী মসজিদ অবস্থিত। এটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্য। জনশ্রুতি আছে, আনুমানিক ৭-৮শ বছর পূর্বে জরিপ শাহ নামক এক মুসলিম শাসক কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল এই মসজিদটি। তবে এটি বর্তমানে পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে। আসল মসজিদটি ভূগর্ভেই রয়ে গেছে। তার ওপরই স্থাপিত হয়েছে বর্তমান মসজিদটি। মসজিদটির পাশে নতুন করে বৃহৎ পরিসরে আরো একটি সম্প্রসারিত ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

মসজিদটিতে ১২টি দরজা, তিনটি জানালা ও তিনটি গম্বুজ রয়েছে। কথিত আছে, মসজিদটি বর্তমানে যে অবস্থানে আছে মোগল শাসন আমলে সেখানে সেনা ক্যাম্পের মসজিদ ছিল। কালের বিবর্তনে ভূমিকম্পে মসজিদটি ধসে যায় এবং মাটির নিচে তলিয়ে যায়। মসজিদের ওপর গড়ে ওঠে মাটির স্তূপ। আর মাটির স্তূপ বা টিলার ওপর বিভিন্ন প্রকার গাছও জন্মায়। এরপর দীর্ঘদিন স্থানীয় লোকজন জায়গাটিকে মসজিদ আড়া (জঙ্গল) বলেই জানত।

জামালপুর জেলার সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নের পীঙ্গলহাটী (কুতুবনগর) গ্রামের জনৈক পীর আজিজুল হক সাহেব শ্রীবরদী উপজেলায় পিএলএ পদে চাকরি করতেন। আজিজুল হক সাহেব ছিলেন পীরভক্ত। তিনি তৎকালীন শর্শিনা পীরের মুরিদ ছিলেন। সেই সূত্রে তিনি এ এলাকায় তার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান।

তিনি একদিন স্বপ্নে গড়জরিপা মসজিদের কথা জানতে পারেন। পরের দিন তিনি গড়জরিপা যান এবং উঁচু ঢিবি (উঁচু ভূমি) খুঁজতে থাকেন। গ্রামের প্রবীণ লোকদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, গাছপালায় ভরা ওই উঁচু ভূমির ওপর এককালে মসজিদ ছিল। তিনি এলাকার লোকদের কাছে তার স্বপ্নের কথা বর্ণনা করেন এবং মুরিদদের নিয়ে মাটি খুঁড়তে থাকেন। গাছপালা পরিষ্কার করার পর মাটি খুঁড়ে কয়েক গজ নিচে বর্তমান আকৃতির মসজিদের মতো একটি মসজিদ দেখতে পান। সেই পুরনো মসজিদের ইটগুলো চার কোনাওয়ালা গোলাপফুল মার্কা ছিল। স্থানীয় লোকজন সেই ইটগুলো সংরক্ষণ করলেও ১৯৬৩ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ ইটগুলো নিয়ে যায়। মসজিদটির ইটের ধরন কৌশলে খান বাড়ি মসজিদের ইটের সঙ্গে যথেষ্ট মিল লক্ষ করা যায়। প্রাচীন রীতির সঙ্গে আধুনিক রীতির সংমিশ্রণে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে, যা সহজেই দর্শকদের মনজয় করেছে। অপরূপ সুন্দর এই মসজিদটি আসলে পুরাকীর্তির অনন্য নিদর্শন। ১২টি দরজা থাকায় এর নামকরণ হয় বারোদুয়ারী মসজিদ। পূর্বেও তাই ছিল। অপূর্ব কারুকাজ সংবলিত মেহরাব ও কার্নিশগুলো সবার দৃষ্টি কাড়ে। তবে সময়ের বিবর্তনে মসজিদের সৌন্দর্য ধরে রাখতে মসজিদটি নতুনভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরনো মসজিদের পাশে নতুন করে সম্প্রসারিত ভবন করা হচ্ছে। প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক লোক এ মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন। মসজিদে যাতে আরো লোকজন এসে নামাজ পড়তে পারেন এবং মসজিদের ঐতিহ্য যাতে বজায় থাকে, এর জন্য নতুনভাবে মসজিদটি করা হচ্ছে বলে জানান মসজিদ কমিটি।

কীভাবে যাওয়া যায় :

ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে সরাসরি শেরপুরে অনেক বাস যায়- ড্রিমল্যান্ড, সারিকা, দ্য টেনিস ক্লাব, চেম্বার অব কমার্স। ভাড়া নেওয়া হয় ২৫০ থেকে ৩৪০ টাকা। শেরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে নেমে সিএনজি বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রিজার্ভ করতে হবে। শেরপুর জেলা সদর থেকে মসজিদটির দূরত্ব আট কিলোমিটার। এ ছাড়া কেউ শ্রীবরদী উপজেলা সদর থেকেও বারোদুয়ারী মসজিদে যেতে পারবেন। শ্রীবরদী থেকে মসজিদের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। সড়কপথে সিএনজি অটোরিকশাযোগে সেখানে যাওয়া যাবে। শ্রীবরদী থেকে সরাসরি কোনো গাড়ি চলে না। সিএনজি অটোরিকশা বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রিজার্ভ নিতে হবে। এ ছাড়া কুরুয়া বাজার থেকে অটোরিকশা পাওয়া যায়।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads