• বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৫
ads
নয়নাভিরাম পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত

পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত

ছবি : সংগৃহীত

ভ্রমণ

নয়নাভিরাম পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত

  • তাবাসসুম তৈয়্যবা
  • প্রকাশিত ০৬ এপ্রিল ২০১৯

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থানের মধ্যে একটি। পর্যটকদের কাছে জায়গাটি আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত। সমুদ্রতীরে হাঁটার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে। তীরজুড়ে ফুলের বাগান। বসানো হয়েছে ছোট ছোট বিশ্রাম চেয়ার এবং রং-বেরঙের পাথর। বসার স্থান, হাঁটার পথ ও সবুজ বাগান করা হয়েছে ফাঁকে ফাঁকে। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে আগের তুলনায় দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে বহুগুণ। রাতের আলো ঝলমল পরিবেশ যেন অপরূপ দৃশ্য তৈরি করে। এক বছর আগেও এমন রূপে দেখা যায়নি সৈকত। হাঁটার পথ ছিল না। ঢোকার মুখে ছিল ঝুপড়ি। বসার কোনো স্থান ছিল না। সৈকতে নামতেও পোহাতে হতো ভোগান্তি। এখন পুরোপুরি বদলে গেছে আগের পরিবেশ।

এখানে সমুদ্র তলদেশ দিয়ে নির্মিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল। এ টানেল সন্নিহিত এলাকায় নির্মিত হচ্ছে ১৭ কিলোমিটারব্যাপী সিটি আউটার রিং রোড। আনুষ্ঠানিকভাবে এ রিং রোড খুলে দেওয়া না হলেও সমুদ্রের অপরূপ দৃশ্য উপভোগে ইতোমধ্যে সৌন্দর্যপিপাসুদের ভিড় জমজমাট রূপ নিয়েছে।

শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় এই দুদিনে প্রচুর লোকের সমাগম হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নারী-পুরুষ ও শিশুদের উপস্থিতি লক্ষ করার মতো। এ যেন হাজারো মানুষের মিছিল। দুই ভাগে সৈকতের পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে দু’পাশে যতদূর চোখ যায়, কেবল মানুষ আর মানুষ। তাদের কোলাহলে ছাপিয়ে যাচ্ছে ঢেউয়ের গর্জন। পরিবার-পরিজন, বন্ধু ও প্রিয় মানুষকে নিয়ে দর্শনার্থীরা উপভোগ করছেন আধুনিক পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত। কেউ ব্যস্ত সুসজ্জিত বাগানের ফুলের সঙ্গে ছবি তুলছেন। কেউ-বা বসার আসনে বিশ্রাম নিচ্ছেন। অনেকে আবার হাঁটাপথ (ওয়াকওয়ে) ধরে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। কেউ কেউ একটু নিচে নেমে সমুদ্রের বালুচরে হাঁটছেন। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে পানিতে গোসল করছেন মনের আনন্দে।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে আসা দুই বন্ধু তামজীদ ও মোকরামীনের সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ফেসবুকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের ছবি দেখে বিস্মিত হয়েছি। দর্শনার্থীদের জন্য এত সুযোগ-সুবিধা কল্পনার বাইরে ছিল। তাই চলে এলাম। খুবই ভালো লাগছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য মন ভরে উপভোগ করছি।’

বন্ধের দিন পর্যটকদের চাপে অবসর পাচ্ছিলেন না স্পিডবোট চালকরা। এসব বোটে চেপে সমুদ্রে চক্কর দিচ্ছিলেন দর্শনার্থীরা। সৈকতে বর্তমানে ৫০টি স্পিডবোট আছে বলে জানিয়েছেন চালকদের একজন কবীর উদ্দিন। তিনি বলেন, আগে ২০টির মতো স্পিডবোট ছিল। দর্শনার্থীরা বেশি আসায় নতুন করে স্পিডবোট নেমেছে সমুদ্রে। অন্যদিকে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও বিচ কমিউনিটি পুলিশকে তৎপর থাকতে দেখা গেছে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে অতিরিক্ত দর্শনার্থীদের বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের পাঁচ কিলোমিটারেরও বেশি ওয়াকওয়েতে একসঙ্গে ৫০ হাজার মানুষ হাঁটতে পারবে। এলাকাটিকে দুটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। জোন ওয়ান ও জোন টু। জোন ওয়ান হচ্ছে সমুদ্রসৈকত। জোন টু হচ্ছে পাঁচ কিলোমিটার শেষে রিং রোড। সেখান থেকে আসা-যাওয়ার জন্য ক্যাবল কারের ব্যবস্থা থাকবে। পর্যায়ক্রমে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এলাকা গড়ে তোলা হবে।

ইতোমধ্যে জোন ওয়ান জনসাধারণের জন্য বিনোদনের উপযোগী হয়ে উঠেছে। জোন ওয়ানের মধ্যে ৩০ ফুট চওড়া সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে রয়েছে। সিডিএ সূত্র জানায়, সৌন্দর্য বর্ধনের কাজটিকে জোন-১ এবং জোন-২ এ বিভক্ত করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জোন-১ এর কাজ চলছে। এ জোনের অধীনে পাঁচ কিলোমিটার হাঁটাপথ, বয়স্ক ও শিশুদের জন্য বিনোদনকেন্দ্র এবং কিডস জোন, বিভিন্ন ধরনের মেকানিক্যাল ও নন-মেকানিক্যাল রাইডের কাজ চলছে। এ ছাড়া সুসজ্জিত বাগান এবং ক্যাবল কারের সংস্থান করা হচ্ছে। এর সঙ্গে থাকছে বোটিংয়ের জন্য জেটি ও কার পার্কিং। রাতের সমুদ্রদর্শনের জন্যও থাকছে নানা আয়োজন। পুরো এলাকা জুড়ে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে জোন-২ অঞ্চলে বিশদ পরিসরে সৌন্দর্যবর্ধন, হোটেল-মোটেল, আধুনিক মানসম্পন্ন প্লাজা, সুসজ্জিত বাগান এবং টয় ট্রেনের ব্যবস্থা থাকবে।

সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, চট্টগ্রামের মানুষের বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। এ জন্য সমুদ্রসৈকত জুড়ে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে দুটি জোনে লাখো পর্যটকের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে। চার স্তর থেকেই দেখা মিলবে সমুদ্রের সৌন্দর্য। তাই আর দেরি কেন, সময় নিয়ে চলে যান পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে। নিজেকে সঁপে দিন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads