• সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
ads
একদিনে বরিশাল ভ্রমণ

বরিশালের দুর্গাসাগর

সংগৃহীত ছবি

ভ্রমণ

একদিনে বরিশাল ভ্রমণ

  • তাবাস্সুম তৈয়্যবা
  • প্রকাশিত ১৩ জুলাই ২০১৯

ভ্রমণপিয়াসু বাংলাদেশিদের আগের ট্রাভেল ডেস্টিনেশন ছিল কক্সবাজার নয়তো সিলেট। কিন্তু এখন বাংলাদেশি ট্রাভেলাররা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক অনেক দূর যাচ্ছে বা যাওয়ার প্ল্যান করছে। তবে বিদেশে ঘুরতে তো আর মাসে মাসে যাওয়া যায় না তাই দেশের মাঝেই অনেক সুন্দর ভ্রমণের জায়গা আছে যা ছোট্ট এক-দুই দিনের ট্যুরের জন্য অসাধারণ জায়গা হতে পারে। এমনি একটি একদিনের ছোট্ট ট্যুরে যেতে পারেন প্রাচ্যের ভেনিস নামে খ্যাত বরিশালে।

বরিশালে যাওয়ার জন্য সেরা সময় হচ্ছে ঠিক গরম না আবার কনকনে ঠান্ডাও না এমন সময়। কেন এই সময় বেস্ট তা একটু পরে বলছি। বরিশাল যাওয়ার জন্য ট্যুর প্ল্যানটা কদিন আগে থেকেই করতে হবে কারণ ভালো টিকেট পাওয়া নিয়ে কথা। যদিও বা বরিশালে প্লেন এবং এসি বাস আছে (ট্রেন নেই) তবুও আমি বলব আপনি লঞ্চেই যান। বাংলাদেশে লাক্সারিয়াসভাবে জার্নি করতে চাইলেও লঞ্চ বেস্ট আবার বাজেট ট্রাভেল করতে চাইলেও লঞ্চই ভালো।

প্ল্যান হলো, পুরো সপ্তাহ অফিস করে বৃহস্পতিবার রাতে লঞ্চে করে রওনা দেবেন। লঞ্চে চাইলে আপনি সবার জন্য আলাদা সিট (সোফা) নিতে পারেন অথবা একটা কেবিন নিয়ে ফ্রেন্ডরা আড্ডা দিতে দিতে চলে যাবেন। রাতে চাঁদের আলোয় লঞ্চের বারান্দায় বসে আড্ডা দেওয়ার মজা আপনি আর কোথাও পাবেন না। তবে এই মজার পুরোটা পেতে গেলে অবশ্যই আবহাওয়া পুরো ঠান্ডা হওয়া যাবে না আবার বৃস্টিও থাকা যাবে না।

লঞ্চের খাবার কিন্তু খুব মজা তাই খাবার নিয়ে টেনশন করার কিছু নেই। তবে যারা রাতে ট্রাভেল করতে ইচ্ছুক নন তাদের জন্য আছে গ্রিনলাইন এবং অ্যাডভেঞ্জার নামে দুটি ক্রুইজ শিপ। এটা সকাল ৮টার দিকে ছাড়ে এবং ৬ ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছে যায়।

লঞ্চে গেলে খুব ভোরেই আপনি বরিশাল পৌঁছে যাবেন। লঞ্চ থেকেই সকালের সব ক্রিয়াকর্ম সেরে নামবেন কিন্তু নাহলে নেমেই হোটেল নিতে হবে। সকালে নেমে প্রথম কাজ হলো, নাশতা করে নেওয়া। নাশতা করার জন্য ভালো কয়েকটা রেস্টুরেন্ট হলো-এম আলি, রোজ গার্ডেন, ঘরোয়া, বলাকা। সবগুলোই অনেক সকালে খোলে।

এরপর অটো নিয়ে চৌমাথা মোড়ে, এখানে আপনি পাবেন আটঘর যাওয়ার লেগুনা নয়তো মাহেন্দ্র। এতে করে ১ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন আটঘর। এখান থেকে দরদাম করে নৌকা ভাড়া নিয়ে সোজা পেয়ারা বাগানে। ভাড়া পড়বে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকার মতো নৌকা সাইজ অনুসারে।

পেয়ারা বাগান : এই সময়টা হলো পেয়ারা বাগানে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে পারফেক্ট। আপনি নৌকা নিয়ে পেয়ারা বাগানের মাঝে ছোট ছোট সরু খালের মাঝ দিয়ে যাবেন আর চারদিকে সবুজের মাঝারে হারিয়ে যাবেন। আপনি যে কোনো বাগানে নৌকা দার করিয়ে পেয়ারা গাছ থেকে পেড়ে পেয়ারা খেতে পারেন। নিয়ে আসতে গেলে কিনে আনতে হবে।

দুপুর ১টার মাঝেই পেয়ারা বাগান ঘুরে চলে আসবেন শহরে। এখানে এসে রেস্টুরেন্টে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিন। কয়েকটা ভালো রেস্টুরেন্টের মাঝে ঘরোয়া, রোজ গার্ডেন, হান্ডি করাই।

এরপর আপনি চলে যাবেন একটা অটো নিয়ে নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড। এখান থেকে গন্তব্য হচ্ছে দুর্গাসাগর। বাস পাওয়া যায়, যেখানে মাত্র ১৫ টাকার টিকেটে বাসে চড়ে বসবেন। আর বাসে যেতে না চাইলে মাহেন্দ্র নামক তেলে চলা যানে করে চলে যেতে পারেন। ভাড়া পড়বে ৪০ টাকা প্রতিজন।

দুর্গাসাগর : এটা হলো, শত বছর পুরনো একটা লেক যা দক্ষিণ বাংলার সব থেকে বড় জলাশয়। লেকের মাঝে ছোট্ট একটা দ্বীপের মতো আছে যা লেকের সৌন্দর্য শুধু বাড়িয়েছেই। এটার চারদিকে সুন্দর করে গাছ লাগানো, বসার ব্যবস্থাও আছে। লেকের পার ধরে হাঁটতে হাঁটতে হালকা বাতাসে সেই রকম একটা অনুভূতি পাবেন। ঠিক সময়ে গেলে লেকে পদ্মও পেতে পারেন। ছোট্ট একটা চিড়িয়াখানাও আছে সঙ্গে। লেকের এন্ট্রি টিকেট ২০ টাকা।

এরপর গন্তব্য হলো গুঠিয়ার মসজিদ। দুর্গাসাগর থেকে জনপ্রতি ২০ টাকা টিকেটে অটোতে অথবা মাহেন্দ্রতে করে চলে যাবেন গুঠিয়া।

গুঠিয়ার মসজিদ : সকালে অথবা দুপুর হলো বেস্ট টাইম কারণ তখন এখানে মানুষ কম থাকে আপনি নিজের মতো করে ঘুরে দেখতে পারবেন তবে বিকালে অনেক মানুষ থাকে তাই আমি বলব দুপুরে খাবারের পর দেরি না করেই চলে আসা ভালো। এটি অনেক বড় জায়গা নিয়ে করা এক অসাধারণ স্থাপত্যশৈলী। ফটোগ্রাফারদের জন্য ফাটাফাটি জায়গা। চাইলে আসরের নামাজটা পরে নিতে পারেন এখানে। গুঠিয়া থেকে আসার পথে অবশ্যই গুঠিয়া বাজারে নেমে বিখ্যাত গুঠিয়ার সন্দেশ খেয়ে আসবেন। এরপরের গন্তব্য হচ্ছে ৩০ গোডাউন।

৩০ গোডাউন : এটি আসলে কীর্তনখোলা নদীপারে একটা সুন্দর মনোরম পরিবেশে নদীর সৌন্দর্য উপভোগের জায়গা। এখানে বসে সূর্যাস্তটা দেখার অনুরোধ রইল। নদীরপার ধরে হেঁটে হেঁটে আপনি এর পাশেই অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা পার্কে চলে যেতে পারেন। অথবা আগে আগে চলে এলে এখান থেকে নৌকা ভাড়া নিয়ে ১ ঘণ্টা নদীর মাঝে চিল করতে পারেন দুটিই-সেই লেভেলের ফিলিংস দেবে শিওর থাকেন।

এরপর সময় থাকলে রসগোল্লা অভিযানে নামতে পারেন আর দেরি হয়ে গেলে সরাসরি লঞ্চে চলে আসেন। এসে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া-দাওয়া করে একটা নাক টেনে ঘুম, এক ঘুমে সকালে চিরচেনা জ্যামের শহরে হাজির হয়ে যাবেন।

খরচ : লঞ্চ-কেবিন ৯০০ সিঙ্গেল/ ১৮০০ ডাবল। ফ্রেন্ডরা মিলে এক ডাবল কেবিন নিলে ২ জন বাদে বাকিদের জন্যে ২০০ টাকা দিয়ে ডেকের টিকেট নিতে হবে। সোফা ৬০০ টাকা এবং সকালের গ্রিনলাইন ৭০০/১০০০ আর অ্যাডভেঞ্জার ৬০০/৮০০/৯০০ টাকা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads