• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
ads

ভ্রমণ

ভুটান ভ্রমণের আদ্যোপান্ত

  • প্রকাশিত ০৫ অক্টোবর ২০১৯

সাহাবুদ্দীন শরীফ

 

 

ঘুরতে আমার খুব ভালো লাগে। ভালো লাগার অন্যতম কারণ ছিল ঘুরতে গেলে পড়া লাগে না, স্কুলে ফাঁকি দেওয়া যায়। যখন বাসা থেকে একা এদিক-সেদিক যাওয়ার ব্যাপারে বাধা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হলো, এরপর থেকেই দেশের এদিক-সেদিক ঘুরেছি, ঘুরছি।

ফটোগ্রাফি করার সুবাদে দেশীয় সৌন্দর্যের পাশাপাশি বিদেশি অনেক সুন্দরের প্রতি আমার দুর্বলতা আজীবনের, স্বপ্ন দেখি যেসব দেশে পদার্পণের, তার মধ্যে অন্যতম ছিল ভুটান। এই দেশটি আমার কাছে অধরা মনে হতো, মনে হতো আরাধ্য। অনেককে যেতে দেখতাম, কিন্তু নিজে যাব সেটি ভাবতে পারতাম না কেন জানি।

পরে কাছের অনেককে যেতে দেখে মনে আপনা-আপনি সাহস জমতে শুরু করল। যেসব বন্ধু আমাকে ভ্রমণের প্রতি সাহস কিংবা উৎসাহ দিয়েছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম হলো রাহুল, কলেজ জীবন থেকে আমরা বন্ধু।

সিকিম থেকে ফিরে আমি তাকে বলে রেখেছিলাম অদূর ভবিষ্যতে কখনো ভুটান যাওয়া হলে যেন আমাকে নিয়ে যায়। বেশিদিন অপেক্ষা করতে হলো না। রাহুল জানালো খুব শিগগিরই যাওয়া হবে, যেন প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি।

আগের সংখ্যায় ফোবজিকা ভ্রমণের বিস্তারিত জানিয়েছিলাম। ফোবজিকার পর যাত্রা ছিল এবার পুনাখার উদ্দেশে।

 

পুনাখা

 

সন্ধ্যা হয় হয় সময়ে পুনাখা পৌঁছালাম। এবারের হোটেলটি একেবারেই প্রধান সড়কের পাশে, হোটেলের পেছনে কিছুটা দূর দিয়ে বহমান আছে একটি নদী। হোটেলে রাতের খাওয়া সেরে যথারীতি আমাদের গানের আসর শুরু হলো, এপিসোড-৪। গান শেষে আমরা রাতে পুনাখার রাস্তায় বের হলাম। এ দেশে সবকিছু রাত ৯টায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাত ১টায় বের হয়ে পুরোই ফাঁকা পেলাম রাস্তাঘাট। পথে দাঁড়িয়ে-হেঁটে জমিয়ে আড্ডা দিয়ে ফিরে এলাম রুমে।

এরপর ঘুমে হারিয়ে গেলাম। পরদিন খুব ভোরে উঠলাম না। কারণ সকালে কোথাও যাওয়ার গ্রোগ্রাম ছিল না। তাই ১০টার পর বের হলাম। গন্তব্য পুনাখার আশপাশ দেখা। প্রথমেই আরুণ (ট্যুরিস্ট বাসের ড্রাইভার) আমাদের নিয়ে গেল বিখ্যাত সাসপেনশন ব্রিজ দর্শনে। ব্রিজ থেকে কম করে হলেও ৩-৪ কিলোমিটার আগে নামিয়ে দিয়ে আরুণ হাঁটা পথ ধরতে বললেন। কারণ ব্রিজের কাছাকাছি গাড়ি যাওয়া বারণ। বাসের প্রতি ছিল এই নিষেধাজ্ঞা, ছোট কারের ক্ষেত্রে নয়।

এতদিনে ভালোবেসে ফেলা আরুণের বাসের প্রতি এই প্রথম মেজাজ খারাপ হলো আমাদের। অথচ এটি কার হলে ৩-৪ কিলোমিটার পথ আমাদের হাঁটতে হতো না। আসলে ৩-৪ কিলোমিটার খুব বেশি পথ নয় যদিও আমাদের জন্য; কিন্তু এই কয়দিনে ভুটানের অন্যান্য শহরে নাতিশীতোষ্ণ কিংবা ঠান্ডা তাপমাত্রা কাটিয়ে পুনাখায় হঠাৎই গরমের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না আমরা। পুনাখার তাপমাত্রা ভুটানের অন্যান্য শহরের তুলনায় একটু বেশিই থাকে।

হাঁটার পথ শেষ করে সাসপেনশন ব্রিজ দেখা হলো আমাদের। শুধু লোহার দুটি রশিতে ঝুলে থাকা এই ব্রিজ খুবই দীর্ঘ, জুড়ে রেখেছে দুটি এলাকাকে। ফেরার পথে পুনাখা জং বা মনস্ট্রির দিকে রওনা হলাম। এই মনস্ট্রির জন্যও বিখ্যাত পুনাখা। এতে অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে, প্রবেশের টিকিটমূল্য দেখেই অনুমান করা যায়। পাঁচশ রুপির মতো এর টিকিটমূল্য। আমি টিকিট কেটে ভেতরে যাইনি, তবে আমাদের সাথের যারা ভেতরটা দেখে এসেছে, তাদের মুখে বর্ণনা শুনে আগামীতে কখনো আসা হলে অবশ্যই ঢুকব এই পণ করে সেদিনের মতো ফিরে এলাম পুনাখায়। লাঞ্চ সেরে পুনাখা ছাড়লাম।

যাত্রা এবার পারোর উদ্দেশে। প্রথমদিন থাকতে না পারার শহরে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী পথে দোচালা পাসে থামলাম। পথের ঠিক মাঝবরাবর অপূর্ব সৌন্দর্যের একটি স্থান, গোলাকৃতির কিছু স্তম্ভ দাঁড়িয়ে আছে এখানে, যুগ কিংবা শতাব্দী ধরে। চৌচালা পাসের মতো দোচালার অবস্থানও অনেক উপরে হওয়ায় ঠান্ডা ভালোই জেঁকে ধরেছে আমাদের। উপভোগের মাত্রা কিছুটা কমে আসায় এবং ম্যান্ডেটরি ফটোসেশন শেষ হতেই আবার রওনা হলাম আমরা ।

আবার পারো 

সন্ধ্যার পরপরই পৌঁছালাম পারো। হোটেলে চেকইন হলো। সে রাতে একটু পরেই সবাই বের হয়েছিল। ভুটানে শপিং রাত ছিল সেটি সবার, ভুটানে আমাদের শেষ রাতও ছিল। আহা! কী সব আকর্ষণীয় জিনিস সবাই কিনেছিল। সেদিন ট্যুরের অন্যতম বেস্ট একটি রাত ছিল। কিন্তু আফসোস, আমি এর কিছুই উপভোগ করতে পারিনি; কারণ পুনাখা থেকে ফিরে অতি বিধ্বস্ত আমি সন্ধ্যা ৭-৮টায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

পরদিন সবাই খুব ভোরে উঠল, এক্সসাইটেডও। কারণ ট্যুরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের প্ল্যান ওইদিন, টাইগার নেস্ট ট্র্যাক। পারোর এই হোটেলটি পারো শহরের ভেতরেই, গোছানো এবং পরিপাটি। একটু আগপিছ সময়ে আমরা রেস্টুরেন্টে একত্র হলাম। বেশি সময় যাতে নষ্ট না হয়, তাই মোটামুটি সহজ খাওয়ার অর্ডার করলাম ব্রেকফাস্টের জন্য। কী এক অদ্ভুত কারণে রেস্টুরেন্ট খুব দেরিতে খাওয়া পরিবেশন করল আমাদের। এদিনই মনে হয় প্রথমবারের মতো সবাই আমরা একটি কমন ইস্যুতে মেজাজ গরম করেছিলাম।

অবশেষে যাত্রা সময়েরও অনেক দেরিতে টাইগার নেস্টের পাদদেশে রওনা হলাম। মোটামুটি বেলা ১১টায় টাইগার নেস্টের পার্কিং এরিয়ায় বাস থামল। দেরিতে পৌঁছার কারণে ড্রাইভার আরুণ আমাদের ফেরার সময় বেঁধে দিল। জানালো বিকাল ৩টার মধ্যে নেস্টের পাহাড় ট্র্যাক করে ফিরে আসতে হবে। কারণ আজই আমরা ফুন্টশলিং/জয়গাঁও ফিরে যাব।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নেস্টের উচ্চতা বেশি নয়, মাত্র ১০ হাজার ২৪০ ফুট। এত উঁচুতে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা। চোখ বন্ধ করে নিজের ভবিষ্যৎ দেখার চেষ্টা করলাম। আবছাভাবে যা দেখলাম, তার সারমর্ম এই- নেস্ট ট্র্যাক করে দেরিতে ফেরার কারণে আরুণ আমি বাদে বাকি সবাইকে নিয়ে ফিরে গেছে। বাকি জীবন এখানেই কাটাবো বলে মনকে শক্ত করে ট্র্যাক শুরু করলাম। বেতের শক্তপোক্ত লাঠি ভাড়া পাওয়া যায় এখানে, ট্র্যাকিংয়ের সঙ্গী হিসেবে। আর ক্যাফেটেরিয়া পর্যন্ত ওঠা যায় ঘোড়ার পিঠে চড়ে।

আমরা হেঁটে রওনা হলাম। কিছুদূর ভালোই উঠলাম, আস্তে আস্তে কমতে শুরু করল বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা, দশ মিনিট হেঁটেই বিশ্রাম নিতে হচ্ছিল, হাঁপিয়ে যাচ্ছিলাম। যখনই বিশ্রামের জন্য বসি, বয়স্ক কোনো আংকেল, আন্টি, বাচ্চা, সমবয়সি, কমবয়সি মেয়ে পাশ কাটিয়ে তরতর করে উঠে যাচ্ছে উপরে। ব্যাপারটা আত্মসম্মানে লাগার কারণে বিশ্রাম নেওয়ার ইচ্ছে বারবার উবে যায়। উঠে পড়ি আবার। উপরে ওঠার আড়াই ঘণ্টায় পরিচয় হয় দুটি ভারতীয় পরিবারের সঙ্গে।

মোটামুটি আড়াই ঘণ্টা ট্র্যাকিং করে পৌঁছালাম নেস্টের কাছাকাছি, বাতাসে হেলে-দুলে আমাদের আগেই পৌঁছে গেছেন আমাদের টিমের একমাত্র ডাক্তার বিপাশা আপু, ফোরকান ভাই আর টিমের সবচেয়ে ছোট সদস্য রবিন। রবিন মূলত ফোরকান ভাইয়ের ঠেলাগুঁতা খেয়ে এত তাড়াতাড়ি উঠে গেছে, না হলে এই পিচ্চি আমার আগে উঠতে পারে? মাথা খারাপ?

টাইগার নেস্টের এত কাছে পৌঁছে আপনার প্রথম কাজ হলো নেস্টের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকা, অনেকক্ষণ। বিস্ময় আর মুগ্ধতা রেশ কাটতে সময় লাগবে।

১০ হাজার ২৪০ ফুট উঁচুতে, পাহাড়ে খাঁজ কেটে এই অবকাঠামো তৈরি করা। দৈত্যসমান পাহাড়ের গায়ে খাঁজ কেটে খেলনার মতো বসিয়ে দেওয়া এই মনস্ট্রি ছোটখাটো কোনো অবয়ব নয়, বেশ বড়সড় একটি স্থাপনা। যে ভাবনা আমায় বেশি ভাবাচ্ছে তা হলো, সামান্য একটু হাঁটা পথ বেয়ে এত উপরে স্থাপনা তৈরির কাঁচামাল কত মানুষ মিলে, কতদিন ধরে উঠিয়েছে? মেঘও এখানে পায়ের অনেক নিচে, চারপাশ সবুজ পাহাড়ে ভরা। দূর থেকে ভেসে আসা মেঘে ঢেকে যাওয়া নেস্ট যখন একটু একটু মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দেবে, সেকেন্ডেরও কম সময় লাগে চোখের যে পলক ফেলতে, পলক ফেলে এই ক্ষুদ্র সময়টুকুও নষ্ট করতে চাইবেন না আপনি, অপলক তাকিয়ে রইবেন, এত মধুর সে দৃশ্য। নেস্টের ঠিক কিছুদূর আগে যে ভিউ পয়েন্টটি আছে, মূলত ফটোসেশন জমে ওঠে এখানেই। জায়গাটি নেস্টের সমান্তরালে। ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে পেছনে সুবিশাল আর নয়নাভিরাম টাইগার নেস্ট, যে নেস্ট দেখার জন্য এই ট্র্যাক, সাধনা, পরিশ্রম, তার পুরোটার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে রাখা নিশ্চয়ই মিস করতে চাইবেন না?

আমরাও করিনি। মন ভরে ছবি তুলে, ক্যামেরায় সামান্য কিছু জায়গা অবশিষ্ট রেখে নেস্টকে ছুঁয়ে দেখতে রওনা দিলাম। ভিউ পয়েন্ট থেকে খাড়া নিচে কয়েকশ ধাপ সিঁড়ি বেয়ে নেমে যেতে হলো, হিসাবে নেমে এলাম নেস্ট থেকেও অনেক নিচে।

সুতরাং নেস্টে পৌঁছাতে এর ঠিক নিচে গিয়ে আবার আরো কয়েকশ ধাপ সিঁড়ি বেয়ে উঠে যেতে হলো। সে এক শান্তির জায়গা। প্রাচীন স্থাপত্যে নির্মিত এক বিস্ময়, একেকটি গাঁথুনি যেন একেকটি শিল্প। ভেতরটা আরো বিস্ময়ে ভরা, অনেকগুলো মূর্তি আর প্রাচীন নিদর্শনে ঠাঁসা। কিন্তু ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষেধ। একজন ফটোগ্রাফারের কাছে এরচেয়ে দুঃখ আর কী হতে পারে? জায়গাটা এমন যে, ফিরতে না চাওয়ার মতো। সারাক্ষণ ঠান্ডা হাওয়া, সারি সারি গাছের ছায়া আর প্রাচীন ও বুনো সৌন্দর্যে ভরা নেস্ট তো আছেই; কিন্তু ফিরে যেতে হবে।

দেশে অপেক্ষায় আছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা আর সবচেয়ে বেশি অপেক্ষায় আছে নিচে আমাদের ড্রাইভার আরুণ। বেশ কয়েকবার কল করে হুমকি দিয়েছে সে, আর দেরি করলে সবাইকে রেখে চলে যাবে। ফিরতি পথ ধরলাম। নামার সময় খুব একটা সময় ক্ষেপণ হয়নি। ফিরেই বাসে উঠে পড়লাম। বিদায়ের পালা, ভুটান থেকে, ভুটানের অসম্ভব ভালো মানুষগুলোর কাছ থেকে। বাস ফুন্টসলিংয়ের পথ ধরল।

 

আবার জয়গাঁও/ফুন্টসলিং

রাতে ফুন্টসলিং পৌঁছালাম; কিন্তু ভুটান ইমিগ্রেশন অফিস ততক্ষণে বন্ধ হয়ে গেছে। সমস্যা নেই তাতে, রাতে আর কোথাও ফেরার তাড়া নেই। আরুণ আমাদের ভুটান গেটে নামিয়ে দিল। কারণ আজকের মতো তার গাড়ির আর ভারত প্রবেশের অনুমতি নেই, আর দেখা হবে না তার সঙ্গে। এতদিনে তার প্রতি সবার মায়া জন্মে গিয়েছিল। তার বিদায় বেলায় আবেগী হয়ে পড়লাম অনেকে। ভুটানের ডিপারচার সিল ছাড়াই আমরা ভারতে প্রবেশ করলাম। নেওয়ার দরকার মনে করলাম না ভারতের ইমিগ্রেশন সিলও, কারণ সব কাল সকালে নেওয়া যাবে।

রাতে জয়গাঁও হোটেল কস্তুরীর অপরপাশের মসজিদ গলির মুসলিম হোটেলে গরুর গোশত দিয়ে ভরপেট ভাত খেলাম, যেন অনেকদিন অভুক্ত ছিলাম। তার কারণ ভুটানের বেশিরভাগ খাবারের সঙ্গে আমাদের টেস্টবাটের দ্বন্দ্ব। সকালে উঠে ডিপারচার আর ইমিগ্রেশন সেরে নিলাম। হোটেলের নিচে বাস এলো। নেমে দেখি আরুণই এসেছে তার বাস নিয়ে। তার আজকের অন্য শিডিউল বদল হওয়ায় সে-ই আমাদের বর্ডারে নামিয়ে দিয়ে আসবে। তাকে আবার দেখতে পেয়ে অনেকদিন পর পুরনো বন্ধুকে ফিরে পাওয়ার মতো খুশি হলাম সবাই। আস্তে আস্তে জয়গাঁও আলিপুরদুয়ার পার হয়ে তিন ঘণ্টা পর চেংড়াবান্ধা বর্ডারে পৌঁছালাম। বর্ডারের কার্যক্রমে এবার বেশি সময় লাগল না, তবে বরাবরের মতো ভারত থেকেও বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনে বেশি টাকা দিতে হলো। বিকালের মধ্যেই দেশে প্রবেশ করলাম। সন্ধ্যায় বুডিমারী বর্ডার থেকে ঢাকার বাস।

পরদিন সকাল ৮-৯টার দিকে পৌঁছে গেলাম ঢাকা। ভুটান যাওয়ার সময় আলাদা আলাদা একেকজন মানুষ হিসাবে গেলেও ভুটান পৌঁছে অল্প সময়েই আমরা ২০ সদস্যের একটি পরিবারে পরিণত হয়েছিলাম, হয়েছিলাম হাসি, আড্ডা আর খুনসুটির সঙ্গী। অল্প কয়েকদিনে গড়ে ওঠা সম্পর্কে সবাই পরস্পরের বন্ধু, ভাই হয়েছিলাম আমরা, কোনোকিছুই কাউকে ছাড়া যেন জমতো না। ঢাকায় নেমে এবার একেকজনের ফিরে যাওয়ার পালা, আপন ঠিকানায়, নীড়ে।

একটি পরিবারের কাছে ফিরে যেতে, পেছনে রেখে যেতে হলো সদ্য গড়ে ওঠা আরেকটি পরিবার আর তার সদস্যদের।

অনুরোধ : ঘুরতে গিয়ে যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষিত করবেন না। মনে রাখবেন পরিবেশের সঙ্গে আপনার ব্যবহারের ওপর নির্ভর করছে আপনার প্রতি পরিবেশের প্রতিদান।

খরচ : ১০-১১ দিনে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা-বুড়িমারী হয়ে ভারতের জয়গাঁওসহ ভুটানের ৬টি শহরে সাত রাত কাটিয়ে আবার চট্টগ্রাম ফিরতে মোটামুটি ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে আমার। আমরা ১৯-২০ জনের গ্রুপ ছিলাম।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads