• বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭
ads
মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ‘সুরা মসজিদ’

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় অবস্থিত সুলতানী আমলের ‘সুরা মসজিদ’

ছবি: লোটাস আহম্মেদ

ভ্রমণ

মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন ‘সুরা মসজিদ’

  • প্রকাশিত ১৩ আগস্ট ২০২০

লোটাস আহম্মেদ, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার 'সুরা মসজিদ'। ৪০০ বছর আগেকার এই স্থাপত্য কালের স্বাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে মসজিদটি। প্রাচীন মসজিদটি নিপুন হাতের নির্মাণ শৈলী এক নজর দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো পর্যটক।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ১০ মাইল পশ্চিমে হিলি-ঘোড়াঘাট সড়কের পাশে চৌগাছা নামক স্থানে এ মসজিদের অবস্থান। স্থানীয় অনেকের মতে, শত শত বছর আগে জ্বীন জাতি একরাতে এই মসজিদটি নির্মান করেছে। আবার মসজিদরটি কারুকার্য ও স্থাপত্যেশৈলী দেখে কেউ কেউ ধারণা করেন সুলতানী আমলের হোসেন শাহীর খ্রিষ্ট ১৬ শতকে এটি নির্মিত হয়েছে।

মসজিদটির বাইরের দিকের আয়তন উত্তর-দক্ষিণে ৪০ ফুট এবং পূর্ব পশ্চিমে ২৬ ফুট। চার ফুট উচু মজবুত প্লাটফর্মের উপর মসজিদের কাঠামো গড়ে উঠেছে। এর প্রধান কক্ষের আয়তন ভিতরে ১৬.১৬ ফুট। প্রধান কক্ষের সাথে যুক্ত আছে ৬ ফুট প্রশস্ত রাস্তা। পুরো মসজিদের দেয়ালে অসংখ্য খোপকাটা মৌলিক টেরাকোটার অলংকরণ যা এই ইমারতের বাহ্যিক সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া মসজিদের দেয়ালের সুসজ্জিত নকশা দৃষ্টিনন্দিত করে দর্শনার্থীদের। মসজিদটির উপরে বর্গাকার এক গম্বুজবিশিষ্ট নামাজ কক্ষ এবং পূর্ব ভাগে ছোট তিন গম্বুজবিশিষ্ট একটি বারান্দা রয়েছে।

মসজিদের উত্তর পাশে ৩৫০-২০০ গজ আয়তনের একটি দীঘিরপাড় রয়েছে। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার দর্শনার্থী এই মসজিদটি দেখার জন্য ছুটে আসেন।

মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী আলহাজ্ব সেকেন্দার আলী বলেন, এই মসজিদের জন্মের পিছনে অনেক ইতিহাস আছে। আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য মসজিদটি সংরক্ষিত রাখতে হবে। মসজিদের কিছু কিছু সংস্কার কাজ এখনও বাকি আছে। উপজেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে বেশ কিছু সংস্কার কাজ শেষ করেছে। বাকি কাজ গুলো অতিদ্রুত সম্পূর্ণ করে মসজিদের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করতে পারলে দর্শনার্থীদের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে।

মসজিদের পেশ ইমাম মিজানুর রহমান জানান, প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী মসজিদটি দেখার জন্য আসেন। অনেকে নিজেদের বিভিন্ন মানত পূরণ করার জন্য এখানে এসে রান্না করে আশেপাশের লোকজনকে খাওয়ান।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads