• বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
পঞ্চগড় থেকে দেখা যাচ্ছে আকাশচুম্বী কাঞ্চনজঙ্ঘা

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

ভ্রমণ

পঞ্চগড় থেকে দেখা যাচ্ছে আকাশচুম্বী কাঞ্চনজঙ্ঘা

  • পঞ্চগড় প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৭ নভেম্বর ২০২০

হেমন্তের ঝকঝকে পরিষ্কার স্বচ্ছ নীল আকাশ। মেঘের ছিটেফোঁটাও নেই। আর এমন পরিবেশে মেঘমুক্ত উত্তরের চরাচরে দৃশ্যমান বরফের টুপি পরা আকাশচুম্বী কাঞ্চনজঙ্ঘা। দূর থেকে হলেও হিমালয়ের এই দ্বিতীয় বৃহত্তম শৃঙ্গকে একবারের জন্য দেখতে এখন পর্যটকের ভিড় উপচে পড়েছে সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায়। গত ২৮ অক্টোবর থেকে তেঁতুলিয়ায় উত্তর আকাশে দেখা মিলছে মোহময়ী কাঞ্চনজঙ্ঘার। প্রতিবছরই শীতের আগে আগে নভেম্বরের মাঝামাঝিতে তেঁতুলিয়া থেকে দৃশ্যমান হয় এই পর্বতশৃঙ্গ। তবে এবার অক্টোবরেই কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মেলায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকরা ছুটি আসছেন সেখানে। তেঁতুলিয়ায় বেড়াতে আসা প্রত্যেকেরই এক কথা- কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতেই হবে।

অনেকেই বলছেন, এ বছরের শুরু থেকে করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘ সময় লকডাউনে থাকার ফলে মানুষ হাঁপিয়ে উঠেছে। তাই সম্প্রতি সরকার পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ায় মানুষ ঘুরতে বেড়িয়েছে। আর কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাওয়ার খবর পেয়ে তেঁতুলিয়া ছুটে আসছেন অনেকে। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে যেন কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সাধ ভেস্তে না যায়, তাই অনেকেই আসছেন আবহাওয়ার আগাম খবর নিয়ে। আবার কেউ আসছেন খবর না নিয়েই। এতে করে প্রচুর পর্যটকের আগমনে মুখর হয়ে উঠেছে এ অঞ্চল। তাতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে হোটেল-রেস্তোরাঁ, আবাসিক হোটেল, তিনচাকার ভ্যান আর অটোরিকশার মতো যানগুলো।

কঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গ নেপাল ও ভারতের সিকিম সীমান্তে অবস্থিত। বাংলাদেশের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন (স্থলবন্দর) থেকে নেপালের দূরত্ব ৬১ কিলোমিটার, ভুটানের দূরত্ব ৬৪ কিলোমিটার, চীনের দূরত্ব ২০০ কিলোমিটার, ভারতের দার্জিলিংয়ের দূরত্ব ৫৮ কিলোমিটার। অন্যদিকে হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টের দূরত্ব ৭৫ কিলোমিটার আর কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব ১১ কিলোমিটার। বছরের এই সময়টাতে তেঁতুলিয়ায় মেঘ-কুয়াশামুক্ত আকাশের উত্তর-পশ্চিমে তাকালেই দেখা মেলে বরফাচ্ছাদিত কাঞ্চনজঙ্ঘার। রোদ পড়ে এর বরফ এমনভাবে ঝলমল করতে থাকে যে, সে এক অপরূপ দৃশ্য।

দূর থেকে হলেও কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ দেখা সত্যিই এক দারুণ অনুভূতি। কারণ ক্ষণে ক্ষণে বদলায় এই শৃঙ্গের রঙ। ভোরে সূর্যোদয়ের সময় মনে হয় যেন কাঞ্চনজঙ্ঘার সাদা বরফ কাঁচা সোনায় ছেয়ে গেছে। কারণ দিনের প্রথম সূর্যকিরণ এর বরফে এমনভাবে প্রতিফলিত হয় যে তাতেই এমন রূপের সৃষ্টি হয়। বেলা বাড়লে আবার সেই কাঁচা সোনা শরতের মেঘের বসন পরে নেয়। দিনের মধ্যভাগে মনে হয় যেন এক খণ্ড প্রকাণ্ড মেঘ উত্তরের আকাশটা দখল করে দাঁড়িয়ে আছে। বিকালে আবার বরফ লজ্জায় রাঙা হতে শুরু করে। আর গোধূলিবেলায় পুরো কাঞ্চনজঙ্ঘা আবিরখেলায় মেতে ওঠে চপল কিশোরীর মতো।

কথা হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে ঢাকা থেকে আসা পর্যটক জাকির হোসাইন তমাল, আব্দুল্লাহ মাহমুদ, মৌরি হাসান, তানিয়া হামিদ, কাশমিরা জাহান, নিশাত, লুবনা রহমান, তাহসানের সঙ্গে। তারা বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ফেসবুকে জেনেছি এই সময়টাতে তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ও হিমালয় দেখা যায়। তাই ছুটে এসেছি। কাছ হতে দেখতে পেয়ে খুব ভালো লেগেছে, মুগ্ধ হয়েছি। এ ছাড়াও এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও দর্শনীয় স্থানগুলোও মুগ্ধ করার মতো। সময় পেলে আবার ছুটে আসব।

কাঞ্চনজঙ্ঘা নিয়ে কথা হয় আলোকচিত্রী ফিরোজ আল সাবাহর সঙ্গে। তিনি জানান, আমি ২০১০ সাল থেকে ডিজিটাল ক্যামেরায় এই শৃঙ্গের ছবি তুলে আসছি। এ অঞ্চলের সৌন্দর্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। বরফে আচ্ছাদিত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এখন প্রচুর পরিমাণে পর্যটক আসছে দেখে বেশ ভালো লাগছে। তেঁতুলিয়াকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি। এদিকে তেঁতুলিয়ায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের সেবা দিচ্ছে পর্যটন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান তেঁতুলিয়া ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিজম। ২০১৬ সালে ‘পর্যটন বিকাশে পর্যটকদের সেবায়’ স্লোগানকে ধারণ করে ৫ জন শিক্ষিত তরুণ নিয়ে এ প্রতিষ্ঠান গঠন করেন উদ্যোক্তা এস কে দোয়েল। পর্যটকদের কাছে সঠিক তথ্য প্রদান ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে এরই মধ্যে বেশ সাড়া পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এস কে দোয়েল বলেন, আমরা এখন পর্যটকদের এ অঞ্চলের সঠিক তথ্য প্রদান, আবাসিক হোটেল-রেস্টুরেন্ট বুকিং, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, যানবাহন ব্যবস্থা, ট্যুরিস্ট গাইড প্রদানের মাধ্যমে সেবা প্রদান করছি। বিশেষ করে অনেক সময় পর্যটকরা সঠিক তথ্য বা ট্যুরিস্ট গাইডের অভাবে এ পর্যটন অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্য, দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানতে পারেন না, সে লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads