• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৭

আমদানি-রফতানি

কাঁচা চামড়া যাবে ৮ দেশে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১১ জুলাই ২০২১

সাত শর্ত দিয়ে বিশ্বের ৮টি দেশে প্রক্রিয়াজাত কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। দেশের পাঁচটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান মোট এক কোটি বর্গফুট চামড়া রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি অধিশাখা থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের নামে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে,  রাজধানীর অদূরে সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্প নগরীতে অবস্থিত আমিন ট্যানারি লিমিটেড, লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশ লিমিটেড, মেসার্স কাদের লেদার কমপ্লেক্স এবং এএসকে ইনভেস্টমেন্ট ও কালাম ব্রাদার্স নামের পাঁচ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানকে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মোট এক কোটি বর্গফুট প্রক্রিয়াজাত কাচা চামড়া (ওয়েট ব্লু) রপ্তানির অনুমতি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান আপাতত ২০ লাখ বর্গফুট চামড়া রপ্তানি করতে পারবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এর বেশি চামড়া রপ্তানি করতে চাইলে পুনরায় আবেদন করতে হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-১ অধিশাখার উপসচিব নাজনীন পারভীনের গত ৪ জুলাই স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হেমায়েতপুরের নিজ নিজ কারখানা থেকে সরাসরি হংকং, চীন, কোরিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, ইতালি, স্পেন ও জার্মানি এই ৮ দেশে রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, চামড়া রপ্তানির ক্ষেত্রে রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৭টি শর্ত মানতে হবে। সেগুলো হচ্ছে-রপ্তানি নীতি ২০১৮-২১ অনুসরণ করতে হবে।  এই অনুমতি শুধুমাত্র রপ্তানির অনুমতি প্রাপ্ত ওয়েট ব্লু চামড়ার নির্ধারিত পরিমাণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। পরবর্তী রপ্তানিসমূহের জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে।  প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকেই মানসম্মত ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি করতে হবে।  রপ্তানির অনুমতির প্রথমবারের এই মেয়াদ আগামী ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।  প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকেই চামড়া রপ্তানির উদ্দেশ্যে জাহাজীকরণ শেষে রপ্তানি সংশ্লিষ্ট সকল কাগজ-পত্রাদি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি অধিশাখায় দাখিল করতে হবে। ওয়েট ব্লু চামড়া যে ৮টি দেশে রপ্তানির জন্য অনুমতি প্রদান করা হয়েছে এই ৮টি দেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশে রপ্তানি করা যাবে না।  সরকার যে কোনো প্রয়োজনে যে কোনো সময় ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে পারবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানিয়েছেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অনেক দিন ধরেই ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির জন্য সরকারের কাছে অনুমতি চেয়ে আসছিল।  তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই মাত্র ১ কোটি বর্গফুট চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই পরিমাণ চামড়া রপ্তানিতে দেশীয় চাহিদায় কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।  জানা গেছে, চামড়া রপ্তানি বাড়াতে ১৯৯০ সালে ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি বন্ধ করে দেয় সরকার।  করোনাসহ নানা সঙ্কটের কারণে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সাভার চামড়া শিল্পনগরীর ১২৫টি ট্যানারি উৎপাদনে গেলেও কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) এখনো পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ট্যানারি মালিকদের ওপর ভরসা রাখতে পারছে না চামড়া খাত দেখভাল ও গবেষণায় নিয়োজিত সরকারি সংস্থাগুলো। এ কারণে গত বছর কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। সংস্থাটির মতে, কাঁচা চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে ন্যূনতম দাম নির্ধারণ করে রপ্তানির সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ আমলে নিয়ে কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

রপ্তানি বাণিজ্যে তৈরি পোশাকের পরই এ শিল্পের অবস্থান। এর কাঁচামালেও বাংলাদেশ সমৃদ্ধ। চামড়া শিল্প খাতে ৬০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ২২০ বিলিয়ন ডলারের বাজার থাকলেও বাংলাদেশ এ খাতে মাত্র ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করে থাকে। কিন্তু এ খাত উন্নয়নে যে রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে সেই অনুযায়ী কাজ চলছে। অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশের সবচেয়ে বড় শিল্প খাত হতে পারে চামড়া শিল্প খাত।

গত দুই বছর ঈদুল আজহায় দেশের কাঁচা চামড়ার একটি অংশ পচে যায়। দাম না পাওয়ায় মৌসুমি বেপারিরা অনেকে রাস্তায় চামড়া ফেলে চলে যায়। রাগে ক্ষোভে নদীতে চামড়া ফেলে দেন কেউ কেউ।  ট্যানারি মালিকদের কারসাজি ও ন্যায্য দামে চামড়া বেচাকেনা না হওয়ার কারণে কোটি কোটি টাকার কাঁচা চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে চামড়া পচে যাওয়া ঠেকাতে গত ঈদুল আজহার আগে চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এবার তা বাস্তবায়ন করা হলো।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads