• শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

রাজস্ব

কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৯ নভেম্বর ২০২১

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু)-এর ১১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের আমদানি বিল গত ৪ নভেম্বর পরিশোধের পর দেশে রিজার্ভের পরিমাণ ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গচ্ছিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৪৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার, যা গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। অর্থাৎ ধীরে ধীরে কমছে রিজার্ভের পরিমাণ। তবে এ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ দেখছেন না অর্থনীতিবিদরা।

তাদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুত থাকতে হয়। গত অক্টোবর মাসে ৭ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। সে হিসাবে বর্তমানে মজুত থাকা বিদেশি মুদ্রা দিয়ে আগামী ৬ মাসেরও বেশি সময় আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। গত দু-তিন মাস আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা থাকা রিজার্ভ দিয়ে দশ মাসের আমদানি খরচ মেটানো যেত।

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)-এর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমদানি বাড়লে রিজার্ভ কমবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এখনো সন্তোষজনক রিজার্ভ মজুত আছে। আর আমদানি বাড়া তো ভালো। এতে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে। অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হবে। কর্মসংস্থান বাড়বে।’

এদিকে অর্থনীতির বিশ্লেষক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বৈদেশিক মুদ্রা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের রেমিট্যান্স কম পাঠানোকে চিহ্নিত করেছেন। বেশ কয়েক বছর ধরে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। এমনকি করোনা মহামারির সময়েও আমদানিতে ধীরগতির বিপরীতে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে আকুর জুলাই-আগস্ট মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক রিজার্ভ ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে আকুর দেনা পরিশোধের পর ৪৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। ১ জুন তা আবার ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এরপর জুন মাস শেষে সেই রিজার্ভ আরো বেড়ে ৪৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

তিনি বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন বেশি দিন থাকবে না। সেটাই হচ্ছে। এটাই স্বাভাবিক। মনে রাখতে হবে, অনন্তকাল ধরে প্রবাসীরা বেশি অর্থ দেশে পাঠাবেন, এটার কোনো কারণ নেই। তবে ভালো খবর হচ্ছে, রপ্তানি আয় বাড়ছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার ধাক্কা সামলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোয় মূলধনি যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামালসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। জ্বালানি তেল ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিও আমদানি খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে আমদানিতে রিজার্ভ থেকে আগের চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে। সে কারণেই রিজার্ভ কমছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে ৬৯৯ দশমিক ৬০ কোটি (৭ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে, যা এক মাসের হিসাবে অতীতের যে-কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। আর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ১৮ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য বলছে, গত চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) প্রবাসীরা ৭০৫ কোটি ৫০ লাখ (৭ দশমিক ০৫ বিলিয়ন) রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৮১ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এ হিসাবে এই চার মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ২০ শতাংশ।

তবে রপ্তানি বাণিজ্যে বেশ উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। এই চার মাসে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ১৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads