• শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ২৯

সংগৃহীত ছবি

দুর্ঘটনা

সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণ: নিহত বেড়ে ২৯

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ০৫ জুন ২০২২

ট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও আহত হয়েছেন আরো কয়েক শতাধিক। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নগরী থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে কদমরসুল এলাকায় বিএম ডিপো নামের ওই কন্টেইনার টার্মিনালে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন লাগে।

খবর পেয়ে কুমিরা ও সীতাকুন্ড ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। রাত ১১টার দিকে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। তখন হঠাৎ করে একটি কেমিক্যাল বোঝাই কন্টেইনারে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত আগুন জ্বলছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সবগুলো ইউনিট চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় রাতে সাড়ে ৩টার দিকে ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা থেকে অগ্নি নির্বাচক গাড়ি পাঠাতে অনুরোধ করা হয়।

এদিকে সীতাকুন্ডে বিস্ফোরণের ঘটনার পরপরই আহতদের আর্তনাদে এলাকায় বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। প্রথমে স্থানীয়রা এবং ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন ইউনিট অগ্নিনির্বাপনে যোগ দেয়। অবস্থা বেসামাল দেখে কুমিল্লা থেকেও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সীতাকুণ্ডে আসে। রাত একটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের পানি সংকট সৃষ্টি হয়। পরে বিভিন্নভাবে পানি যোগাড় করে তারা আবার আগুন নিয়ন্ত্রণে নেমে পড়েন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে একের পর এক কন্টেইনার বিস্ফোরণ শুরু হলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নিরাপদ স্থানে সরে যান। ভোর থেকে তারা আবার বিভিন্ন কন্টেইনার ও কন্টেইনারবাহী লরিতে লাগা আগুন নির্বাপনে কাজ শুরু করেছেন।

অন্যদিকে, আহতদের বিভিন্ন গাড়িতে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো শুরু হয়। ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত সকল স্তরের চিকিৎসকদের দগ্ধ ও আহতদের সেবায় কাজ করতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার আহবান জানান।

বিভিন্ন টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, গাউছিয়া কমিটিসহ বিভিন্ন সেচ্ছ্বাসেবী সংগঠনের কয়েক হাজার মানুষ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিড় জমান। সময়ের সাথে সাথে আহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। সিভিল সার্জনের আহবানে সরকারি-বেসরকারি সকল এম্বুলেন্স সীতাকুন্ডে গিয়ে আহতদের পরিবহনে লেগে পড়ে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী মধ্যরাতেই চমেক হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সকল পর্যায়ের ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, আগুন লাগার পর তাদের দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদেরকে কন্টেইনারে দাহ্য পদার্থ থাকার কথা জানানো হয়। তাদের বলা হয়েছিল, ওই কন্টেইনারে গার্মেন্টস পণ্য রয়েছে। এ কারণেই তারা আগুন নেভাতে পানি ছিটিয়েছিলেন। দাহ্য পদার্থের বিষয়ে অবগত হলে তারা পানির পরিবর্তে ফোম ব্যবহার করতো। এতে বিস্ফোরণ ঘটতো না এবং ক্রমান্বয়ে এতগুলো কন্টেইনারে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়তে পারতো না।

এদিকে, আহত ও নিহতদের স্বজনদের আর্তনাদে মেডিকেলের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠেছে। রক্ত দেয়ার জন্য সেচ্ছ্বাসেবীরা চমেক ব্লাড ব্যাংকে ভিড় করে আছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads