• মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
নতুন জাতের মহিষ পালন

সংগৃহীত ছবি

কৃষি অর্থনীতি

নতুন জাতের মহিষ পালন

  • প্রকাশিত ২৪ নভেম্বর ২০২১

দীপক চৌধুরী

মুরাহ্ জাতের মহিষের খামার এ দেশে দুগ্ধ উৎপাদনে নতুন গতি আনতে পারে এবং পুষ্টিজগতে সৃষ্টি করতে পারে নতুন অধ্যায়। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে সৃষ্ট বর্তমান সরকারের এ পদক্ষেপ অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাদারীপুরের টেকেরহাটে ও লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে। পুষ্টি অভাব দূর করতেই সংযোজিত হয়েছে মুরাহ্ মহিষ খামার। দেশের মাদারীপুর জেলার আলোচিত জনপদ টেকেরহাট বন্দরের মিল্ক ভিটা দুগ্ধ উৎপাদনকারী সংস্থার সংলগ্ন এলাকায় বিশাল শেডে নয়নাভিরাম পরিবেশে মুরাহ্ জাতের মহিষের খামার গড়ে তোলা হয়েছে। এগুলো হরিয়াণা প্রদেশের কার্ণাল জেলা থেকে বৈধ অনুমতি ক্রমে দুগ্ধ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আনা হয়েছে।

সরেজমিন তথ্যচিত্রে দেখা যায়, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ভারতের হরিয়ানা প্রদেশ থেকে মুরাহ্ জাতের প্রায় ৮৫টি বড় মা-মহিষ আমদানি করা হয়। মহিষগুলো প্রতিপালনে পাবনা থেকে আনা হয়েছে মাসিক চুক্তিভিত্তিক ১০ জন কর্মচারী। খামারের ব্যবস্থাপক মো. আকতার হোসেন নবেল জানান, তারা ‘রাখাল’ হিসেবে এসব মহিষকে পরিচর্যা করছে। এরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিটি মহিষকে খাবার সরবরাহ, খাবার পরিবেশন, দুগ্ধ আহরণ, মহিষদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ সযত্নে লালন-পালন করা হয়। রাখালদের প্রতি মাসে বেতন দেওয়া হয় ১৫ হাজার টাকা করে। খামারের সুপারভাইজার গোলাম স্যাকলাইন জানান, এ মহিষের খামারটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি অর্থায়নে গড়ে তোলা হয়। প্রতিদিন ৪৩০ থেকে ৪৫০ কেজি দুধ উৎপন্ন হয় ৮৫টি মহিষ থেকে। আরো জানা গেছে, প্রায় তিন মাস পর্যন্ত বাচ্চা মহিষগুলো (বাছুর) দুধের ওপরই নির্ভরশীল থাকে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাণী বিশেষজ্ঞের মতে, গড়ে প্রায় তিন লিটার দুগ্ধ এসব বাছুরের প্রত্যেকটিই পান করে থাকে। খামারের সঙ্গে যুক্তরা জানান, গ্রামীণ জনপদে এ দেশে এখন মহিষ নেই বললেই চলে। এটি সফল হলে ভবিষ্যতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করে তোলা সহজ হবে। মহিষের দুধে ফ্যাটের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ থাকায় এই তরল খাদ্যের জনপ্রিয়তা রয়েছে। মহিষগুলোকে ধানের খড়, কাঁচা ঘাস, দানাদার খাবার, নদী বা টিউবওয়েলের পানি সরবরাহ করা হয়। মহিষগুলোর আহরিত দুধ নিকটবর্তী মিল্ক ভিটা দুগ্ধ উৎপাদনকারী সংস্থাতেই প্রক্রিয়াজাত করে উন্নত মানের ঘি, রসমালাই, ঘোল, মাঠা, ক্রিম-মাখনসহ পাস্তুরিত দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যাদি নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় নিয়মিত সরবরাহ করা হয়। এখানে কর্মরত ব্যবস্থাপক ও ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রেজা জানান, মহিষগুলোর শিং বেনিওয়ালা। সুন্দর আচরণ, মায়াবী, দেখতে অনেক সুন্দর। এদের আয়ুষ্কাল ১৩ থেকে ১৫ বছর। চার পাঁচবার বাচ্চা প্রজনন পর্যন্ত দুগ্ধ উৎপাদন অটুট থাকে। একই সঙ্গে এদের রোগবালাই কম হওয়ায় মহিষ পালনে বা উৎপাদনের ক্ষেত্রে এদের খরচের মাত্রা খুবই সামান্য। আশ্চর্যের বিষয়, ছোট বাছুরগুলোকে দুগ্ধ আহরণের সময় একটি নির্দিষ্ট নম্বর ধরে পরিচর্যাকরীরা ডাকেন। সঙ্গে সঙ্গে তারা সাড়া দিয়ে স্ব স্ব মা-মহিষের কাছে চলে আসে।

এদিকে মুরাহ্ জাতের মহিষের খামার দেখতে প্রতিনিয়ত উৎসুক জনতা ভিড় জমাচ্ছে। সরকারি সাহায্য পেলে ব্যক্তি-উদ্যোগেও এ ধরনের মহিষের খামার স্থাপন করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে একবার পরিদর্শনে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্তব্য করেছিলেন, ভারতের মতো বাংলাদেশেও মহিষের খামার কীভাবে বাড়ানো যায়, সে চেষ্টা চালাতে হবে। মহিষের প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা সম্পর্কেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। জানতে চাইলে টেকেরহাট মুরাহ্ মহিষ প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা প্রীতম কুমার দাস জানান, ভারত সরকারের আন্তরিকতা না থাকলে এটা সম্ভব হতো না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, এ ধরনের মহিষের খামার ভবিষ্যতে প্রতিটি জেলায় স্থাপন করা হলে একদিকে যেমন বেকারত্ব দূর হবে অন্যদিকে দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যে দেশ সমৃদ্ধ হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads