• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

কৃষি অর্থনীতি

ভাগ্য বদলের স্বপ্ন সাফল্য আর আত্মবিশ্বাসের গল্প

বেড়ায় মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২২ নভেম্বর ২০২২

থোকায় থোকায় ধরা টমেটো সাফল্য আর আত্মবিশ্বাসের গল্প। মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন বেড়ার কৃষক। পাবনার বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া গ্রামের কৃষক করিম সরকার ও হেকমত আলী স্বপন বানিজ্যিক ভাবে ২ বিঘা জমির উপর মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন। নতুন এ পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করার কথা শুনে বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক ও সৌখিন সবজি চাষি প্রতিদিন টমেটোর বাগান দেখার জন্য আসছেন এ এলাকায়।
সরেজমিনে উপজেলার হাটুরিয়া—নাকালিয়া ইউনিয়নের হাটুরিয়া মৌজায় খানকা শরীফের নিকটে পুকুর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, টমেটোর বাগানে সবুজের সমারহ,সবুজ গাছে থোকায় থোকায় সবুজ টমেটো। টমেটো ক্ষেতেই দেখা এবং কথা হয় কৃষক করিম সরকার ও হেকমত আলী স্বপনের সঙ্গে। তারা বলেন, হৃদয়ে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানে শাইখ সিরাজের মালচিং পদ্বতিতে চাষাবাদ দেখে এবং ইউটিউবের মাধ্যমে জানতে পেরে মালচিং পদ্বতিতে টমেটো চাষে উদ্বুদ্ধ হই। এ পদ্ধতিতে টমেটো চাষে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় টমেটো চাষের ক্ষেত ঘুরে দেখেছি। এর পরই তারা টমেটো চাষ করার জন্য বাজার থেকে উন্নত মানের টমেটোর বীজ কিনে বাড়িতে মাচা করে ট্রে—তে কোকো পিট দিয়ে বীজতলা তৈরী করেন। মাস খানেক পর চারাগুলো নিয়ে জমিতে মালচিং পেপারের ওপর বড় ছিদ্র করে রোপণ করা হয়। এ পদ্বতিতে টমেটো চাষ করতে তাদের প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রতিদিনই অক্লান্ত পরিশ্রম করে সকাল—বিকেল টমেটো গাছের পরিচর্যা করছেন তারা। বর্তমান গাছ গুলোতে প্রচুর পরিমাণ টমেটো ধরেছে। টমেটো গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে ২ মাস ১৫ দিন ধরে। এখনো টমেটো গুলো পাকেনি আধা পাকা অবস্থায় রয়েছে ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে টমেটো গুলো বাজারে বিক্রি করা যাবে বলে তারা জানান। এ টমেটো সুন্দর এবং খেতে খুবই সুস্বাদু, মিষ্টি পুষ্টিগুনে ভরপুর এবং এ টমেটো কখন ও টক হয় না। টমেটো চাষি করিম সরকার ও হেকমত আলি বলেছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে এবং কোনো বালা—মছিবত না হলে পুরো মৌসুমে প্রায় ৩শ’থেকে ৪শ’মণ টমেটোর ফলন নামবে। এতে বর্তমান পাইকারী বাজার দর হিসেবে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার টমেটোর বিক্রি নামবে বলে তারা আশায় স্বপ্ন দেখছেন।
মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো প্রসঙ্গে বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূসরাত কবীর বলেন, মালচিং পেপার হলো বিশেষ ধরনের পলিপেপার (পলিথিন)। ফসলের ক্ষেতে আদ্রতা সংরক্ষণে মালচিং বিশেষ বাবে উপকারি,এ প্রযুক্তি ব্যবহারে ফসলের ক্ষেতের পানি সূর্যের তাপ ও বাতাসে উড়ে যায় না ফলে জমিতে আদ্রতা থাকায় সেচ লাগে অনেক কম।মালচিং ব্যবহার করলে জমিতে প্রায় ১০ থেকে ২৫ ভাগ আদ্রতা সংরক্ষণ করা সম্ভব। এ পদ্ধতি খুবই সুন্দর একটা পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে চাষ করলে জমিতে আগাছা হয়না, বললেই চলে। মালচিং পেপারে কার্বন থাকার কারণে আদ্রতা ধরে রাখে এবং সারের গুনাগুন ঠিক থাকে ফলে ফলনও বৃদ্ধি পায়। একই মালচিং পেপার একাধিক সবজি ফসল চাষে ব্যবহার করা যায়। অন্যান্য সবজি ফসল যদি এই পদ্ধতিতে চাষ করা যায় তাহলে কৃষকরা বেশি লাভবান হবে। তবে এ পদ্ধতিতে প্রথমে অর্থ খরচ বেশি হলেও সামগ্রিক ভাবে লাভ ও অনেক বেশি হয়। কৃষি কর্মকর্তা বলেন, প্রদর্শনীর জন্য উপজেলার কয়েকটি জায়গায় এই পদ্ধতিতে কিছু চাষাবাদ করা হয়েছে। তিনি বলেন, করিম সরকার ও হেকমত আলী স্বপন ওনারা নিজ উদ্যোগে এ পদ্ধতিতে টমেটো চাষে উৎসাহী হয়েছেন। আগামীতে উপজেলার সবজি চাষিদের উৎসাহিত করতে তাদের টমেটো চাষ মাঠ প্রদর্শনী করা হবে এবং কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরণের সুযোগ—সুবিধা ও সহযোগীতা করার আশ^াস দিয়েছি।

 

নির্মল সরকার //২২.১১.২২.
মোবা: ০১৭১২০০৬৪৮০.

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads