• শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ৬ কার্তিক ১৪২৮
এনবিআরের নজর সঞ্চয়পত্রে

সংগৃহীত ছবি

ব্যাংক

এনবিআরের নজর সঞ্চয়পত্রে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৪ আগস্ট ২০২১

করজাল বাড়াতে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর। করদাতা সঞ্চয়পত্রে কত টাকা বিনিয়োগ করেছেন, সে অনুযায়ী রিটার্ন এবং কর দিয়েছেন কিনা, সেসব খতিয়ে দেখার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া কর রেয়াত সুবিধার অপব্যবহারও বন্ধ করবে এনবিআর।

করদাতাদের রিটার্নে প্রদর্শিত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এলক্ষ্যে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে প্রত্যেক কর অঞ্চলকে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত ১১ আগস্ট কর অঞ্চলগুলোকে সঞ্চয় অধিদপ্তরের ডেটাবেজ থেকে করদাতাদের বিনিয়োগের সত্যতা যাচাই করে ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতিবেদন এনবিআরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ খতিয়ে দেখা সম্ভব হলে রাজস্ব বাড়ার পাশাপাশি আয়করের নেট বা করজালের আওতা বাড়বে।

কর অঞ্চলগুলোতে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে করদাতাদের সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত বিনিয়োগের সঠিকতা যাচাইয়ের মাধ্যমে করজাল বৃদ্ধি, ডেস্ক অডিট, ফিল্ড অডিটসহ আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ সহজতর হবে। তবে প্রান্তিক বিনিয়োগকারীসহ করদাতারা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য কার্যক্রমটি পরিদর্শী কর্মকর্তাদের (যুগ্ম ও অতিরিক্ত কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা) তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

১৫ দিন অন্তর প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া চিঠিতে ছক আকারে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। যেখানে করদাতার নাম ও টিআইএন, আয়বর্ষ, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ, রিটার্ন দাখিল করেছে কিনা, আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রতিবছরই করদাতাদের বড় একটি অংশ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াত দাবি করে সুবিধা নেন। তবে কর বিভাগের পক্ষে সেই বিনিয়োগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে সঞ্চয়পত্রে কর রেয়াতের অপব্যবহার হতো।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের  তথ্যমতে, একক নামে বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ৩০ লাখ ও যৌথ নামে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়। আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ঊর্ধ্বসীমা নেই। আর পরিবার সঞ্চয়পত্র শুধু নারীরা কিনতে পারেন। একক নামে ৪৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কেনা যায়। এর মেয়াদ পাঁচ বছর। এছাড়া পেনশনার সঞ্চয়পত্র একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার কেনা যায়।

গত ১০ মার্চ প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম করজাল বৃদ্ধি করতে সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ খতিয়ে দেখার কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, সব মাধ্যম কাজে লাগিয়ে করজাল বৃদ্ধি এবং সঠিক কর নির্ধারণের প্রচেষ্টা চলছে। কারা কত টাকার সঞ্চয়পত্র কিনেছে? কত টাকার সঞ্চয়পত্র আছে? তার রিটার্নের চেহারা কী? এমনকি সঞ্চয়পত্রের সম্পদের হিসাবটা দেখানো হয়েছে কি না-এগুলোও খতিয়ে দেখব। এটি করা গেলে করহার কমানো যেতে পারে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বহুদিন আগে থেকেই আমরা সব ধরনের লেনদেনকে অটোমেশনের আওতায় আনার কথা বলে আসছি। দেরিতে হলেও সরকার এদিকে মনোযোগ দেওয়ায় সাধুবাদ জানাই। তবে এই অটোমেশন বা ইন্টিগ্রেশনে সব সংস্থার সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে আইনি বাধা থাকলে তা দূর করতে হবে। তাহলে ভালো সুফল পাওয়া যাবে।

তিনি আরো বলেন, সরকার অটোমেশন সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে একদিকে যেমন রাজস্ব আদায় বহুলাংশে বাড়বে, অন্যদিকে অসৎ মানুষের মধ্যে অপরাধ করার প্রবণতা থাকলে সেটি বন্ধ হবে।

পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ বলেন, এটি খুবই ভালো উদ্যোগ। এতে সরকারি দুই সংস্থার মধ্যে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে। কারণ অনেক সময় দেখা যায়, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয় না, হলেও তা অত্যন্ত ধীরগতিতে। এ কারণে চূড়ান্তভাবে জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি আরো বলেন, নতুন উদ্যোগে ভুয়া বিনিয়োগ ধরা পড়বে। যাদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে কর ফাঁকি দেওয়ার অভিপ্রায় নেই, তাদের জন্যও এই ইন্টিগ্রেশন ভালো হবে বলে মনে করি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads