• রবিবার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯
পিছু হটল কেন্দ্রীয় ব্যাংক!

সংগৃহীত ছবি

ব্যাংক

পিছু হটল কেন্দ্রীয় ব্যাংক!

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৩ জুন ২০২২

ব্যাংকে ডলারের একক রেট বেঁধে দেয়ার চার দিনের মাথায় তা প্রত্যাহার করল আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকগুলো তাদের মতো করে ডলারের রেট নির্ধারণ করবে। তবে এটি তদারকি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রবাসী আয় বাড়াতে এই সীমা তুলে নেওয়া হয়েছে।

গত রোববার ব্যাংকে ডলারের একক রেট ৮৯ টাকা বেঁধে দেয়ার পর প্রবাসী আয়ে ভাটা ও রপ্তানিকারকরা বিল নবায়ন না করায় আগের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তারা নিজেরাই ডলারের দাম নির্ধারণ করতে পারবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকগুলো বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ও চাহিদা বিবেচনায় ডলারের দাম ঠিক করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো- সেটির কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো বলেছে, রেমিট্যান্স যারা পাঠাচ্ছেন তারা ডলারের এ রেট ঠিক নয় বলে মনে করছেন। এজন্য প্রতিযোগিতামূলক বাজারের ওপর নির্ভর করে ব্যাংকগুলো ডলার দর নির্ধারণ করবে।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, তবে হঠাৎ যেন ডলারের দাম বেশি বাড়িয়ে না ফেলা হয়, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। পাশাপাশি বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো যাতে দাম বেশি বাড়াতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম বাজারমূল্যে নির্ধারণ হওয়ায় আমদানিতেও একইভাবে ডলারের দাম নির্ধারণ হবে। পাশাপাশি রপ্তানি আয় নগদায়ন হবে বাজারমূল্যে। ব্যাংকগুলো যে দামে ডলার কিনবে, বিক্রি করবে তার চেয়ে কিছু বেশি দামে।

ডলারের দাম বাড়তে থাকায় গত রোববার দাম বেঁধে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তঃব্যাংক লেনদেন ডলার রেট ছিল ৮৯ টাকা। আমদানি পর্যায়ে ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা। আর প্রবাসী আয় আনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর জন্য ডলারের দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ৮৯ টাকা ২০ পয়সা।

কিন্তু এ দাম নির্ধারণের পর কমে যায় প্রবাসী আয়। রপ্তানিকারকরাও বেঁধে দেওয়া দামে রপ্তানি বিল নগদায়ন করছেন না। এতে আমদানি বিল মেটাতে গিয়ে সংকটে পড়ে কয়েকটি ব্যাংক।

এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন। এ সময় বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। তাতেই ডলারের দামের সীমা তুলে দেয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

একক রেট বেঁধে দেয়ার আগ পর্যন্ত কোনো কোনো ব্যাংক ডলার প্রতি ৯৮ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে। কেউ কেউ ৯৩ টাকা, কেউ বা ৯৫ টাকা নিয়েছে। খোলা বাজারে ডলারের দাম সম্প্রতি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে অবশ্য তা কমে ১০০ টাকার নিচে নামে।

এর আগে ডলা‌রের বাজা‌রে অস্থিরতা কাটা‌তে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকারস, বাংলাদেশের (এবিবি) দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলার ৮৯ টাকা বেঁধে দেয়। আর আমদানিকারকদের কাছে বিক্রির জন্য বিসি সেলিং রেট নির্ধারণ করা হয় ৮৯ টাকা ১৫ পয়সা। তবে ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৯ টাকা ৮০ পয়সার প্রস্তাব করেছিল।

কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়া রেট মানেনি বেশিরভাগ ব্যাংক। ইচ্ছেমতো আমদানিকারকদের কাছ থেকে ডলা‌রের মূল্য নি‌য়ে‌ছে ব্যাংকগুলো। এমন পরিস্থিতিতে ডলারের বাজার ঠিক করতে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে দাম নির্ধারণের বিষয়টি ব্যাংকগু‌লোর কা‌ছে ছে‌ড়ে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অস্থির ডলা‌রের বাজার নিয়ে ব্যবসায়ী‌দের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, চালের বাজারের মতো ডলারের বাজারেও সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানো হয়েছে। হঠাৎ করেই দেখা যাচ্ছে এক ডলারের দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অতি মুনাফার জন্য এই কাজ করছে ব্যাংকগু‌লো। এজন্য আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংক‌কে ব‌লে‌ছি ডলা‌রের বিষ‌য়ে আপনারা যেটা ভা‌লো ম‌নে কর‌বেন সেটাই কর‌বেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম বেঁধে দেওয়ার পর রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যায়। যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে আসে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে দেশে ১৮৮ কো‌টি ৫৩ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের মাসের চেয়ে প্রায় ১২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার কম। এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০১ কোটি ৮ লাখ ডলার। এছাড়া আগের বছরের মে মাসের তুলনায়ও এই মে মাসে ২৮ কোটি ৫৭ লাখ ডলার কম এসেছে। গত বছর মে মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

ডলারের বিপরীতে মূদ্রার অবমূল্যায়নের বিষয়টি কেবল বাংলাদেশে নয়, দেশে দেশেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছে সবচেয়ে কম।

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ও ইউক্রেনে রুশ হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই বিপাকে পড়েছে সারা বিশ্ব। এর মধ্যে ডলারের বিপরীতে মুদ্রার অবমূল্যায়ন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এটিও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads