• শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

ক্যাম্পাস

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নির্যাতন, আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

  • মোকছেদুল মুমীন, জাককানইবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৩ মার্চ ২০২২

ছাত্রলীগের রাজনীতি না করার কারনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে নির্যাতনের রেশ কাটতে না কাটতে আবারও সিনিয়র ছাত্রের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক জুনিয়র শিক্ষার্থী। জুনিয়র নির্যাতিত শিক্ষার্থীর নাম সাগর চন্দ্র দে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের ছাত্র। অভিযুক্ত নির্যাতনকারী হলেন চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সৌমিক জাহান।

এই নিয়ে আজ রবিবার (১৩ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে।

এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, দোষীদের স্থায়ী বহিষ্কার করার দাবীতে আন্দোলন করছি। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনায় প্রশাসনের যে বিচার দেখলাম তা খুবই দুঃখজনক। এজন্য স্থায়ী বহিষ্কার করলে পরবর্তীতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। আর সাগর চন্দ্র এর সকল চিকিৎসার খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের বহন করতে হবে।

আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুষ্ঠ বিচার না করবে আমরা এখানেই অবস্থান করবো। আর কোন রকম ক্লাস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবো। আর সকাল থেকেই কলা অনুষদের সকল ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। 

এই সময় ছাত্র উপদেষ্টা ড তপন কুমার সরকার বলেন, স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা যায় না আইনগত ভাবে অভিযুক্ত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে। আর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানানো হবে। 

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১২ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিবীণা হলের ২০৪ নং কক্ষে তাকে নির্যাতন করা হয় বলে জানান আহত শিক্ষার্থী। তাকে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেইয়ার জন্য ভর্তি করা হয়। 

শনিবার রাতে হাসপাতালে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সাগর চন্দ্র দের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এদিন বিকেলে ওই কক্ষে সাগরকে রোলিং চেয়ারে জোর করে বসান তারপর তাকে ঘোরাতে থাকেন চারুকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌমিক জাহান। এ সময় তাকে বারবার থামাতে বললেও তার কথায় কর্নপাত না করে  অনবরত চেয়ারটি জোরে ঘোরাতে থাকে। একপর্যায়ে চেয়ারটি উল্টে গিয়ে পড়ে যান সাগর। এতে মাথায়, নাকে-মুখে মারাত্মক আঘাত পান তিনি। এ সময় দুটি দাত ভেঙে গিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয় তার। পরে এ অবস্থাতেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে জেতে বাধা দেন  সৌমিক। এমনকি সাগরের ফোন ছিনিয়ে নিয়ে আটকে রাখেন সৌমিক। 

ভুক্তভোগী সাগর বলেন, আমাকে অত্যাচার করার পর আমার মোবাইলটি বারবার চাইলেও আমাকে দিতে চায়নি। তবু অনেক চেষ্টার পর মোবাইলটি নিয়ে হাশর ভাইকে মেসেঞ্জারে একটি ছবি পাঠাই এবং লিখি, 'ভাই আমি তো শেষ, রুম নম্বর ২০৪, অগ্নিবীণা হল। তাড়াতাড়ি আসেন।’ এরপর  ৫ মিনিট পর এসে আমাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সৌমিক জাহানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে নির্যাতনের ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে অগ্নিবীণা হল প্রশাসন। ইরফান আজিজকে আহ্বায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব হীরক মুশফিক ও সদস্য মো. আলিম।৷ কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে হল প্রভোস্ট কল্যাণাংশু নাহা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads